
সবুজ কবুতর
জাসমিনা খাতুন
নৌকায় চড়ে এসে ছিল এক জোড়া সবুজ কবুতর,
জলের বুক জুড়ে অলৌকিক নরম আলো।
আমিও নৌকায় চেপে বসলাম-‘অ্যামি ওয়াইনহাউস’-এর ঘোলাটে চোখে।
তখনও নদী আমার নাম জানত না,
জানত না আমার পিতৃপরিচয়।
শুধু চিনে ছিল আমার নীরবতা।
দেখলাম, একে একে আমার ক্ষতগুলো অদৃশ্য হতে লাগল।
ঢেউ এসে মুছে দিচ্ছে দীর্ঘদিনের রক্তাক্ত স্মৃতি, চাবুক-শব্দের আষ্টেপৃষ্ঠে বাঁধা সম্পর্ক।
সবুজ কবুতরটি কোনো ধর্মগ্রন্থ দেয়নি,
উপদেশও দেয়নি; দেয়নি সাদা গামছা,
মিহি সুতোর অন্তর্বাস বা কাঠের চিরুনি।
শুধু ডানায় ভর করে আকাশের একটু শান্তি এনে রাখল পাশে।
নদী এগিয়ে চলল, আমি পেছনে ফেলে এলাম
অভিমান, ভাঙা স্বপ্ন, সময়চক্রের পুরোনো উপন্যাস।
তীরে পৌঁছে বুঝলাম-আমি মৃত্যু-মহাদেশ পার হয়ে পৌঁছে গেছি প্রেমার্গে।
আমার জন্য সাজানো হয়েছে জান্নাতি ফেরদৌস,
তূবা বৃক্ষ, কাউসারের হাউজ, ইয়াকুতের অলংকার,
আর সাজানো হয়েছে তোমাকে।
রামপুরহাট, বীরভূম, ভারত-
২৭/০৬/২০২৬ খ্রি.
