
স্টাফ রিপোর্টার: সিরাজগঞ্জের কাজিপুর পৌরসভায় এক অন্যরকম নজির স্থাপন করলেন পৌর প্রশাসক ও কাজিপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোস্তাফিজুর রহমান। সরকারি নানা সহায়তার প্রকৃত কার্ডধারীকে নিজে এসে সহায়তার চাল নিতে বলায় অনেকেই আসছেন না সেই সহায়তা নিতে। ফলে প্রতিবারই সরকারি ভিজিডি ভিজিএফসহ নানা সহায়তা কর্মসূচির চাল বিতরণের পরেও বেঁচে যাচ্ছে।আর এই বেঁচে যাওয়া চালগুলো কাজিপুরের ইউএনও মোস্তাফিজুর ইসলামিক ফাউন্ডেশনের তালিকা অনুযায়ী উপজেলার বিভিন্ন এতিমখানা ও লিল্লাহ বোর্ডিয়ের শিক্ষার্থীদের বিপরীতে বরাদ্দ দিয়েছেন।গতকাল এরকম বেঁচে যাওয়া চাল ২৭ টি প্রতিষ্ঠানের মাঝে বিতরণ করেন তিনি।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে পৌরসভার এক কর্মচারী বলেন, “ সরকারি নানা সহায়তার কার্ড বন্টনের সময়ে অনেক বিত্তবানরাও সেটি নিয়েছেন। তারা বিভিন্ন লোকের মাধ্যমে সেই সহায়তার চাল সংগ্রহ করে নেন। কিন্তু এবারের ইউএনও স্যার এই নিয়ম পরিবর্তন করেছেন। যার নামে কার্ড তাকে এসে সেই চাল সংগ্রহের নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি। শুধু তাই নয়, নিজে বসে থেকে পুরো বন্টন প্রক্রিয়া শেষ করেন।এ কারণে অনেকেই লজ্জায় সেই কার্ডের বিপরীতে বরাদ্দকৃত চাল নিতে তার সামনে আসছেন না।”
এদিকে এমন বরাদ্দ পেয়ে নিজের স্বস্তির কথা জানিয়েছেন সুবিধাভোগী অনেকেই। বেলতৈল কওমি মাদ্রাসার মোহতামীম বজলুর রশিদ বলেন, “ ইউএনও স্যার নানা সময়ে আমাদের এমন সহযোগিতা করে থাকেন। অনেক সময়ে মাছ, দুম্বার মাংস, চালডাল তিনি বরাদ্দ দেন। এই সহায়তা এতিম বাচ্চাদের অনেক উপকারে আসে।”
ইউএনও মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, “ মোট ২৭টি এতিমখানা ও মাদ্রাসার এতিমখানা ও অসহায় শিশুদের জন্য পৌরসভার প্রশাসকের পক্ষ থেকে এই সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। তবে এই ২৭টি প্রতিষ্ঠানের বেশিরভাগ’ই চরের প্রতিষ্ঠান। চর থেকে সবসময় বলা হয় যে চরের লোক বঞ্চিত। অন্তত আমি আসার পর থেকে চরকে অগ্রাধিকার দিয়ে সকল কিছুর সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।”
এ/জে