
জহির রায়হান, কাউনিয়া (রংপুর) প্রতিনিধি-
সবুজে ছেয়ে গেছে রংপুরের কাউনিয়ার বিস্তীর্ণ আমন ক্ষেত। কোনো কোনো জমিতে ধানের শিষ বের হয়েছে, আবার কোথাও শিষের দানা পুষ্ট হতে শুরু করেছে। আগাম জাতসহ বিভিন্ন জাতের আমন ধান এখন পরিপক্বতার দিকে। অনুকূল আবহাওয়া, সময়মতো পরিচর্যা ও কৃষি বিভাগের পরামর্শ মেনে চাষাবাদ করায় এবার ভালো ফলনের প্রত্যাশা করছেন কৃষকেরা। তবে ধান ঘরে তোলার আগমুহূর্তে মাজরা পোকা, বাদামি গাছফড়িংসহ বিভিন্ন ক্ষতিকর পোকার আক্রমণের শঙ্কায় দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তারা। উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, অধিকাংশ আমন ক্ষেতের ধানগাছ সতেজ ও সবল প্রকৃতির হয়েছে । অনেক জমিতে ধানের শীষ এসেছে। কোনো কোনো জমিতে ধানের দানা পুষ্ট হওয়ার দৃশ্যও চোখে পড়ছে। মাঠজুড়ে ধানের সবুজের সঙ্গে কোথাও কোথাও ফুটে উঠেছে সোনালি আভা। কৃষকেরা বলছেন, এখন পর্যন্ত আবহাওয়া ও ধানের অবস্থা অনুকূলে থাকায় আশানুরূপ ফলনের আশা করছেন তাঁরা। তবে ধান কাটার আগ পর্যন্ত রোগবালাই ও পোকার আক্রমণ নিয়ে তাঁদের উদ্বেগ কাটছে না।
কৃষকদের আশঙ্কা, শেষ সময়ে মাজরা পোকা, বাদামি গাছফড়িং বা অন্য কোনো ক্ষতিকর পোকার আক্রমণ হলে এত দিনের শ্রম ও বিনিয়োগ হুমকির মুখে পড়তে পারে। এতে শুধু ফলন কমার আশঙ্কাই নয়, বাড়তে পারে বালাইনাশক ও অতিরিক্ত পরিচর্যার খরচও।
কৃষকেরা জানান, মৌসুমের শুরু থেকেই জমি প্রস্তুত, সার প্রয়োগ, সেচ, আগাছা দমনসহ প্রয়োজনীয় পরিচর্যায় তাঁরা গুরুত্ব দিয়েছেন। উপজেলা কৃষি দপ্তরের পরামর্শ অনুসরণ করে অনেক কৃষক সময়মতো বিভিন্ন কৃষি কার্যক্রম সম্পন্ন করেছেন। ফলে অনুকূল আবহাওয়ার সঙ্গে যথাযথ পরিচর্যার সমন্বয়ে অধিকাংশ জমিতেই ধানের বৃদ্ধি ভালো হয়েছে। বালাপাড়া ইউনিয়নের হরিশ্বর গ্রামের কৃষক আফসার আলী বলেন, “গত বছর ধানের অবস্থা শুরুতে খুব ভালো থাকলেও শেষের দিকে মাজরা পোকা, বাদামি গাছফড়িংসহ বিভিন্ন পোকার আক্রমণে ফলন কম হয়েছিল। এবার কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শ নিয়ে ধান আবাদ করেছি। এখন ধানের অবস্থা ভালো। ফলনও ভালো হবে বলে আশা করছি। তবে শেষ সময়ে পোকার আক্রমণ নিয়ে চিন্তা হচ্ছে। এত দিনের পরিশ্রম যেন নষ্ট না হয়।”
একই গ্রামের কৃষক দেলোয়ার হোসেন বলেন, “গত বছর প্রথম দিকে ক্ষেত খুব ভালো হয়েছিল। কিন্তু শেষের দিকে পোকার আক্রমণের কারণে ফলন কমে গিয়েছিল। এবার ধানের অবস্থা ভালো। তারপরও ধান ঘরে না তোলা পর্যন্ত ভয় কাটছে না। শেষ সময়ে কোনো পোকা বা রোগ হলে বড় ধরনের ক্ষতি হয়ে যেতে পারে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ সালাহউদ্দিন জানান, চলতি মৌসুমে আগাম আমনসহ উপজেলায় আমন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১১ হাজার ৪৭০ হেক্টর। এর বিপরীতে আবাদ হয়েছে ১১ হাজার ৪৬০ হেক্টর জমিতে। মৌসুমের শুরু থেকেই কৃষকদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে কমরত উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাগন কৃষককে নিয়মিত পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন। এছাড়াও উপজেলা কৃষি অফিস সার্বক্ষণিক কৃষকের পাশে রয়েছে । তিনি আরও বলেন কোনো জমিতে রোগবালাই বা পোকার সমস্যা দেখা দিলে দ্রুত সংশ্লিষ্ট উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের অথবা উপজেলা কৃষি অফিসের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে। সমস্যার ধরন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হবে। কৃষকদের অতিরিক্ত বালাইনাশক প্রয়োগই পোকার আক্রমণ নিয়ন্ত্রণের একমাত্র উপায় নয়। নিয়মিত মাঠ পর্যবেক্ষণ, সঠিক সময়ে পোকার উপস্থিতি শনাক্ত করা এবং সমন্বিত বালাই ব্যবস্থাপনা অনুসরণ করাই কার্যকর পদ্ধতি। এতে একদিকে উৎপাদন খরচ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে, অন্যদিকে কৃষিজমির উপকারী জীববৈচিত্র্যও সুরক্ষিত থাকবে।এ বিষয়ে বালাপাড়া ইউনিয়নের কর্মরত উপসহকারী কৃষি অফিসার জনাব মোঃ মনিরুজ্জামান বলেন, আমরা সর্বদা কৃষক ভাইদের পাশে রয়েছি, নিয়মিত ক্ষেত পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিচ্ছি এবং আলোক ফাঁদের মাধ্যমে পোঁকার উপস্থিতি পর্যবেক্ষণ কাজ চলমান রয়েছে যাতে আগাম সতর্ক বার্তা কৃষকভাইদের আমরা দিতে পারি, আশা করছি এবছর কৃষক ভাইয়েরা হাসিমুখেই আমন ধানের বাম্পার ফলন গোলায় তুলতে পারবেন। জে/এ
