
এম আব্দুর রাজ্জাক,স্টাফ রিপোর্টার –
“আন্তঃপ্রজন্ম ভিত্তিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নারী আন্দোলন শক্তিশালী করি”এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে,
মঙ্গলবার (০৬ অক্টোবর ২০২৬) কোয়ালিশন, রাজশাহীর আয়োজনে এবং বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ ও বহ্নিশিখার সহযোগিতায় রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের সদর দপ্তর সভাকক্ষে সকাল ১০টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে সাইবার সুরক্ষা বিষয়ক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আরএমপির পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ ফয়েজুল কবির পিপিএম।
প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় আইন বিভাগের প্রফেসর ড. আব্দুল আলীম। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফোকলোর বিভাগের প্রফেসর মোবাররা সিদ্দিকা; অ্যাডভোকেট সৈয়দা সামছুন্নাহার মুক্তি; অ্যাডভোকেট সামিনা বেগম এবং অ্যাডভোকেট শাহাদত হোসেন সরকারসহ অন্যান্য আলোচকবৃন্দ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে পুলিশ কমিশনার বলেন, সাইবার অপরাধ নিয়ন্ত্রণে শুধু আইন প্রয়োগ বা রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ যথেষ্ট নয়; ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজের সচেতনতা বৃদ্ধি অত্যন্ত জরুরি। ফেক আইডি, আইডি হ্যাক, ব্যক্তিগত ছবি বা ভিডিও ব্যবহার করে ব্ল্যাকমেইলসহ বিভিন্ন সাইবার অপরাধে আন্তর্জাতিক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্মগুলোর স্থানীয় কার্যালয় না থাকায় অনেক সময় তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। এ ক্ষেত্রে নারী ও শিক্ষার্থীদের বিশেষভাবে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, দেশের বাস্তবতা বিবেচনায় আইন প্রণয়ন ও সংস্কারের পাশাপাশি আইনের কার্যকর প্রয়োগ এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা প্রয়োজন। কিশোরদের অপরাধে ব্যবহার বন্ধে পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সমাজকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
গোপনীয়তা লঙ্ঘন ও ব্ল্যাকমেইল প্রসঙ্গে পুলিশ কমিশনার বলেন, অনুমতি ছাড়া অডিও-ভিডিও ধারণ করে কাউকে সামাজিকভাবে হেয় করা বা ব্ল্যাকমেইল করা গুরুতর অপরাধ। একইসঙ্গে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বা ভুয়া মামলার মাধ্যমে নিরপরাধ কাউকে হয়রানি করা থেকেও বিরত থাকতে হবে। ভুক্তভোগীদের তাৎক্ষণিক সহায়তার পাশাপাশি নিরাপদ আশ্রয়, চিকিৎসা, মানসিক সহায়তা ও দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসনের সুযোগ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
সবশেষে পুলিশ কমিশনার বলেন, নারী ও শিশুদের সুরক্ষা এবং সাইবার অপরাধ প্রতিরোধে পুলিশ, জনগণ, পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যম ও সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। সামাজিক সচেতনতা, কার্যকর আইন প্রয়োগ, দ্রুত বিচার এবং ভিকটিম সুরক্ষা ও পুনর্বাসনের সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমেই নিরাপদ সমাজ ও জনআস্থা আরও শক্তিশালী করা সম্ভব।
আলোচনা সভায় আরএমপির বিভিন্ন পদবীর পুলিশ কর্মকর্তা ও কর্মচারী; সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধি; নারী অধিকারকর্মী; আইনজীবী এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।