
সারাদেশে শুরু হলো শারদীয় দুর্গাপূজা: বিজয়া দশমীতে কক্সবাজারে বিশেষ আয়োজন
মোঃ মোরশেদ,(জেলা প্রতিনিধি) কক্সবাজার।
গত শুক্রবার মহাষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। শ্বশুরবাড়ি কৈলাস থেকে কন্যারূপে দেবী দুর্গা আজ মর্ত্যলোকে আগমন করেছেন।
আজ (২১ অক্টোবর) বুধবার বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মাধ্যমে সমাপ্তি ঘটবে এই ছয় দিনব্যাপী উৎসবের।
এবার দেবী দুর্গার আগমন ঘটছে ঘোটকে (ঘোড়ায়) এবং বিদায় নেবেন নৌকায়। ঢাকঢোল, কাঁসর ও শঙ্খধ্বনিতে ইতোমধ্যে মুখরিত হয়ে উঠেছে সারাদেশের পূজামণ্ডপগুলো।
সারাদেশের পূজামণ্ডপ ও সময়সূচিতে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার রাজধানীর ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির মেলা অঙ্গনে এক মতবিনিময় সভায় বাংলাদেশ পূজা উদ্যাপন পরিষদ ও মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির নেতারা জানান, এবার সারাদেশে মোট ৩৩,৮৫১টি দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে (গত বছর ছিল ৩২,৩৫১টি)। এছাড়া ঢাকা মহানগরে ২৫৮টি মণ্ডপে পূজার আয়োজন করা হয়েছে।
শুক্রবার সকালে ষষ্ঠাদি কল্পারম্ভ ও ষষ্ঠীবিহিত পূজা, সন্ধ্যায় দেবীর আমন্ত্রণ ও অধিবাস।
শনিবার ও রোববার, মহাসপ্তমী এবার মহাসপ্তমী দুই দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত হচ্ছে
সোমবার,মহাঅষ্টমী।
মঙ্গলবার, মহানবমী, বুধবার বিজয়া দশমী ও দেবী বিসর্জন। বেলা তিনটায় সারাদেশে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে।
কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে প্রতি বছরের ন্যায় এবারও সাড়ম্বরে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ঐতিহ্যবাহী প্রতিমা বিসর্জন অনুষ্ঠান। শারদীয় দুর্গা পূজা উদ্যাপন সমন্বয় পরিষদ এবং বাংলাদেশ পূজা উদ্যাপন পরিষদ, কক্সবাজার জেলা শাখার যৌথ আয়োজনে এ অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।
অতিথিবৃন্দ ও আয়োজক কমিটির ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন (মাননীয় প্রতিমন্ত্রী, ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়)।
বিশেষ অতিথিবৃন্ধ হিসেবে উপস্থিত কক্সবাজারের বিভিন্ন আসনের মাননীয় সংসদ সদস্যবৃন্দ, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (কউক) চেয়ারম্যান, জেলা পরিষদ প্রশাসক, রামকৃষ্ণ মিশনের সভাপতি এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন (ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী) তিনি তাঁর প্রধান অতিথির বক্তব্যে দেশজুড়ে শান্তিপূর্ণভাবে দুর্গাপূজা সম্পন্ন হওয়ার প্রশংসা করেন।
তিনি বলেন,সারা দেশে দুর্গাপূজা কোনো প্রকার অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই সম্পন্ন হয়েছে, যা প্রমাণ করে বাংলাদেশে কোথাও নিরাপত্তার সংকট নেই।
বিশেষ অতিথিবৃন্দ (সাংসদ লুৎফর রহমান কাজল, শাহজাহান চৌধুরী, ও অ্যাডভোকেট শামীম আরা স্বপ্না)
তাঁরা তাঁদের বক্তব্যে বাংলাদেশ যে অসাম্প্রদায়িক, শান্তি ও সম্প্রীতির দেশ তা দৃঢ়ভাবে উল্লেখ করেন।
বক্তারা বলেন, কক্সবাজারের এই দেশের বৃহৎ প্রতিমা বিসর্জন উৎসবকে ঘিরে মানুষের যে সম্প্রীতি ও উচ্ছ্বাস দেখা গেছে, তা প্রমাণ করে এটি ধর্মীয় ভেদাভেদের ঊর্ধ্বে এক মিলনমেলা। তাঁরা কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের এই অসাম্প্রদায়িক চেতনাকে সারা বিশ্বে ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান।
জেলা ও পুলিশ প্রশাসন (জেলা প্রশাসক মোঃ আব্দুল মান্নান ও পুলিশ সুপার এএনএম সাজেদুর রহমান)
প্রশাসনের পক্ষ থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং ধর্মীয় সৌহার্দ্যের ঐতিহ্য বজায় রাখার ওপর জোর দেওয়া হয়। যুগ যুগ ধরে কক্সবাজারে সব ধর্মের মানুষ যেভাবে মিলেমিশে বসবাস করে আসছে, সেই সামাজিক ও ধর্মীয় সম্প্রীতির ঐতিহ্য যেকোনো মূল্যে অটুট রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তাঁরা।
সভাপতিত্ব করছেন উদয় শংকর পাল (মিঠু), ভারপ্রাপ্ত সভাপতি, বাংলাদেশ পূজা উদ্যাপন পরিষদ, কক্সবাজার জেলা।
সঞ্চালনায় স্বপন দাশ (ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ পূজা উদ্যাপন পরিষদ, কক্সবাজার) ও অরূপ শর্মা (সদস্য সচিব, শারদীয় দুর্গা পূজা উদ্যাপন সমন্বয় পরিষদ)।
আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে সম্মানিত জেলাবাসী এবং কক্সবাজারে আগত সকল পর্যটকদের শারদীয় বিজয়ার প্রীতি ও শুভেচ্ছা জানানো হয়েছে।