
মুফতি মাওলানা শামীম আহমেদ, পাবনা:
আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য ত্যাগের মহিমায় উদ্ভাসিত প্রতিটি মানুষ
মানবজীবনের প্রকৃত সফলতা নিহিত রয়েছে আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টি অর্জনের মধ্যে। আর সেই সন্তুষ্টি লাভের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হলো ত্যাগ ও কোরবানী। ইসলামের ইতিহাস ত্যাগের মহিমায় উজ্জ্বল। হযরত ইবরাহিম (আ.) আল্লাহর নির্দেশ পালনের জন্য নিজের প্রাণপ্রিয় পুত্র হযরত ইসমাইল (আ.)-কে কোরবানী করতে প্রস্তুত হয়েছিলেন। এই ঘটনা মানবজাতির জন্য অনন্য শিক্ষা ও আদর্শ হয়ে রয়েছে।
পবিত্র ঈদুল আযহা আমাদের মনে করিয়ে দেয়— আল্লাহর ভালোবাসা অর্জনের জন্য মানুষকে নিজের প্রবৃত্তি, লোভ, হিংসা ও স্বার্থপরতাকে ত্যাগ করতে হবে। কেবল পশু কোরবানী নয়, বরং মনের পশুত্বকে দমন করাই ইসলামের মূল শিক্ষা। আল্লাহ তাআলা কোরআনে ইরশাদ করেন—
“আল্লাহর নিকট পৌঁছে না তাদের গোশত ও রক্ত; বরং পৌঁছে তোমাদের তাকওয়া।”
— আল-কুরআন
ত্যাগ মানুষকে মহান করে। যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য নিজের চাওয়া-পাওয়া বিসর্জন দিতে পারে, আল্লাহ তাকে দুনিয়া ও আখিরাতে সম্মানিত করেন। একজন মুমিনের জীবনে ত্যাগ শুধু কোরবানীর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং সত্য প্রতিষ্ঠা, মানুষের কল্যাণ, অসহায়ের পাশে দাঁড়ানো এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করাও ত্যাগের অংশ।
বর্তমান সমাজে ভোগ-বিলাস ও আত্মকেন্দ্রিকতা মানুষের হৃদয়কে কঠিন করে তুলছে। তাই আমাদের উচিত ঈদুল আযহার শিক্ষাকে বাস্তব জীবনে ধারণ করা। সমাজের দরিদ্র, অসহায় ও বঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে ভ্রাতৃত্ব ও সৌহার্দ্যের বন্ধন সুদৃঢ় করতে হবে।
আসুন, আমরা সবাই আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য আত্মত্যাগের মহান আদর্শে উদ্বুদ্ধ হই। ঈদুল আযহার প্রকৃত শিক্ষা হৃদয়ে ধারণ করে মানবতার কল্যাণে কাজ করি। তবেই ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রে শান্তি, সম্প্রীতি ও কল্যাণ প্রতিষ্ঠিত হবে।