
মোঃ আলাউদ্দীন মন্ডল, রাজশাহী-
ঈদের আনন্দকে আরও স্মরণীয় করে তুলতে রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলার ধুরইল গ্রামে অনুষ্ঠিত হয়েছে ব্যতিক্রমধর্মী ঈদ পুনর্মিলনী ও প্রীতি ফুটবল ম্যাচ। “শৈশবের খেলা ঘরে”র উদ্যোগে ৩১ মে রবিবার বিকাল ৫ ঘটিকায় ধুরইল উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ জুড়ে ছিল উৎসব, আনন্দ আর মিলনমেলার প্রাণবন্ত আয়োজন। ২০০৫ সাল থেকে ২০১৫ সালের মধ্যে ধূরইল গ্রামের ধুলোবালি মেখে বেড়ে ওঠা তরুণরা, যারা আজ কর্মব্যস্ত জীবনে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে আছেন, তারা শেকড়ের টানে আবারও ফিরে আসেন শৈশবের সেই পরিচিত মাঠে। হারিয়ে যাওয়া স্মৃতি আর পুরোনো বন্ধুত্বকে নতুন করে জীবন্ত করতে আয়োজিত এ পুনর্মিলনীতে অংশ নেন বর্তমান তরুণ প্রজন্মও। দুই প্রজন্মের মিলনে সৃষ্টি হয় হৃদয়ছোঁয়া সম্প্রীতির বন্ধন। আয়োজনের প্রধান আকর্ষণ ছিল জমজমাট প্রীতি ফুটবল ম্যাচ।

প্রতিযোগিতার প্রথম পর্বে অংশ নেয় ধুরইল বনাম তানোর দু’টি দল। খেলা। ঘিরে দর্শকদের উচ্ছ্বাস, করতালি ও আনন্দধ্বনিতে পুরো মাঠ প্রাণ চাঞ্চল্যে ভরে ওঠে। এই আয়োজনের নেতৃত্ব দেন গ্রামের তুহিনুল ইসলাম চঞ্চল। সার্বিক সহযোগিতায় ছিলেন গ্রামের আরও অনেক উৎসাহী ব্যক্তি। আয়োজন সম্পর্কে মো. আব্দুল করিম মন্ডল ধূরইল ৫ নং ওয়ার্ড সাবেক ইউপি সদস্য বলেন, “এ ধরনের আয়োজন আমাদের হারিয়ে যাওয়া শৈশবের স্মৃতিকে ফিরিয়ে আনে। পাশাপাশি একে অপরের প্রতি আন্তরিকতা, ভালোবাসা ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন আরও দৃঢ় করে।” তিনি আরও বলেন, “আজকের আয়োজনের অন্যতম বিশেষ দিক ছিল গ্রাম বাংলার হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্য কলাপাতায় খিচুড়ি খাওয়া। এটি সবাইকে ভিন্নরকম আনন্দ দিয়েছে।” শুধু ক্রিকেটেই সীমাবদ্ধ ছিল না পুরো আয়োজন ছিলো প্রীতি ফুটবল ম্যাচ। শিশুদের জন্য ঝুড়িতে বল নিক্ষেপ, তরুণদের জন্য বোতল সোজা করা ও দৌড় প্রতিযোগিতা এবং মুরব্বিদের জন্য ছিল ঐতিহ্যবাহী হাঁড়িভাঙা খেলা। বয়সভেদে সবার অংশগ্রহণে পুরো অনুষ্ঠানটি রূপ নেয় প্রাণবন্ত গ্রামীণ উৎসবে। আয়োজন সফল করতে একদল স্বেচ্ছাসেবক নিরলস ভাবে কাজ করেন। তাদের আন্তরিক প্রচেষ্টায় পুরো অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয় সুশৃঙ্খল ও আনন্দঘন পরিবেশে। এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিতি ছিলেন মো. খাইরুল ইসলাম, মো. শহিদুল ইসলাম, আব্দুল্লাহ, সাংবাদিক মো. আলাউদ্দীন মন্ডল, রাজু আহমেদ, মাশরাফি মুর্তজা, রায়হান আলী প্রমুখ।
আয়োজনের অন্যতম উদ্যোক্তা তুহিনুল ইসলাম চঞ্চল বলেন, “ইনশাআল্লাহ আগামী দিনগুলোতেও আমরা প্রতি বছর এমন আয়োজন চালিয়ে যাব, যাতে গ্রামের মানুষ এক সঙ্গে মিলিত হওয়ার সুন্দর একটি সুযোগ পায়।” ঈদের আনন্দ, শৈশবের স্মৃতি ও প্রজন্মের মিলনে ধূরইলে এই আয়োজন হয়ে ওঠে সম্প্রীতি, ভালোবাসা ও গ্রামীণ ঐতিহ্যের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। জে/এ
