
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা | ১৫ জুন, ২০২৬
দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বজায় রাখতে দেশজুড়ে কঠোর অবস্থানে সরকার। এরই অংশ হিসেবে দেশের প্রতিটি জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে ‘বিশেষ বাজার মনিটরিং সেল’ গঠন করা হয়েছে। আজ সোমবার (১৫ জুন, ২০২৬) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এক নির্দেশনায় এই বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
মনিটরিং সেলের কার্যক্রম
গঠিত এই সেলগুলোর মূল লক্ষ্য হলো বাজার পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা এবং কৃত্রিম সংকট তৈরি রোধ করা। মনিটরিং সেলের কর্মপদ্ধতির মধ্যে রয়েছে:
-
দৈনিক বাজার তদারকি: স্থানীয় প্রশাসন ও জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সমন্বয়ে গঠিত এই টিমগুলো প্রতিদিন নিত্যপণ্যের পাইকারি ও খুচরা বাজার পরিদর্শন করবে।
-
মূল্য তালিকা পর্যবেক্ষণ: প্রতিটি দোকানে পণ্যের সরকার নির্ধারিত মূল্য তালিকা প্রদর্শন করা হচ্ছে কি না, তা নিশ্চিত করা হবে।
-
অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা: কেউ যদি অতিরিক্ত মুনাফা করার জন্য মজুতদারি (Hoarding) বা সিন্ডিকেটের মাধ্যমে দাম বাড়ানোর চেষ্টা করে, তবে তাদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
-
সাপ্লাই চেইন মনিটরিং: খামার থেকে বাজার পর্যন্ত পণ্য পৌঁছানোর পথে কোনো ধরনের চাঁদাবাজি বা অহেতুক পরিবহন খরচ বৃদ্ধি পাচ্ছে কি না, তা-ও নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে।
সরকারি নির্দেশনা
বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে যে, বাজারে পর্যাপ্ত পণ্যের সরবরাহ থাকা সত্ত্বেও কোনোভাবেই অযৌক্তিক দাম বৃদ্ধি বরদাশত করা হবে না। জেলা প্রশাসকদের (DC) প্রধান সমন্বয়কারী হিসেবে কাজ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, যাতে তৃণমূল পর্যায়েও এই তদারকি কার্যক্রম সফল হয়।
বিশ্লেষকদের মতামত
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা এই উদ্যোগকে বর্তমান সময়ে অত্যন্ত সময়োপযোগী বলে মনে করছেন। তাদের মতে, নিয়মিত বাজার মনিটরিং এবং অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলে নিত্যপণ্যের বাজারে স্বস্তি ফিরবে। পাশাপাশি, সরবরাহ চেইন ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা গেলে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি অনেকাংশে কমে আসবে।
সাধারণ ভোক্তারা আশা করছেন, এই মনিটরিং সেলের কার্যক্রম যেন কোনো নির্দিষ্ট সময়ের জন্য সীমাবদ্ধ না থেকে দীর্ঘমেয়াদে ও ধারাবাহিকভাবে চলমান থাকে।