
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা | ১৫ জুন, ২০২৬
ডিজিটাল বাংলাদেশের লক্ষ্যকে আরও বেগবান করতে দেশজুড়ে ৫জি নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের কাজ এগিয়ে চলেছে। আজ সোমবার (১৫ জুন, ২০২৬) বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) আনুষ্ঠানিকভাবে দেশের আরও ৫টি বড় শহরে উচ্চগতির এই ৫জি সেবা চালুর ঘোষণা দিয়েছে। এর ফলে দেশের শিল্প, শিক্ষা ও প্রযুক্তি খাতের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
৫জি সেবা পেল যে ৫টি শহর
পর্যায়ক্রমে দেশের সব জেলায় ৫জি সেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যের অংশ হিসেবে আজ নতুন করে যুক্ত হওয়া শহরগুলো হলো:
-
সিলেট
-
রাজশাহী
-
খুলনা
-
বরিশাল
-
রংপুর
৫জি সেবার বিশেষ বৈশিষ্ট্য ও সুবিধা
নতুন এই ৫জি নেটওয়ার্ক সাধারণ ব্যবহারকারীদের পাশাপাশি পেশাদার ক্ষেত্রেও বড় ধরনের পরিবর্তন আনবে। এর উল্লেখযোগ্য সুবিধাগুলো হলো:
-
আল্ট্রা-হাই স্পিড: বর্তমান ৪জি সেবার তুলনায় কয়েক গুণ বেশি দ্রুতগতিতে ইন্টারনেট ডাউনলোড ও আপলোড করা সম্ভব হবে।
-
লো ল্যাটেন্সি (Low Latency): ইন্টারনেটের তথ্যের আদান-প্রদানে দেরি বা ল্যাগ থাকবে না, যা রিমোট সার্জারি, গেমিং এবং স্বয়ংক্রিয় যন্ত্র পরিচালনায় অত্যন্ত কার্যকর।
-
স্মার্ট ইন্ডাস্ট্রি: ৫জি ব্যবহার করে ম্যানুফ্যাকচারিং কারখানাগুলোতে রোবটিক্স ও আইওটি (IoT) প্রযুক্তির মাধ্যমে উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি করা সম্ভব।
-
শিক্ষায় নতুন সম্ভাবনা: উচ্চগতির এই সংযোগের মাধ্যমে ভার্চুয়াল রিয়েলিটি (VR) ব্যবহার করে উন্নত শিক্ষার উপকরণগুলো শিক্ষার্থীরা সহজেই তাদের ডিভাইসে ব্যবহার করতে পারবে।
বিটিআরসির বক্তব্য
বিটিআরসি’র পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, “আমরা চাই তৃণমূল পর্যায় থেকে শুরু করে শিল্পায়ন পর্যন্ত সব ক্ষেত্রেই যেন ডিজিটাল রূপান্তর ত্বরান্বিত হয়। নতুন ৫জি সেবা চালুর মাধ্যমে স্মার্ট বাংলাদেশের স্বপ্ন পূরণে আমরা আরও এক ধাপ এগিয়ে গেলাম। দেশের প্রতিটি প্রান্তে নিরবচ্ছিন্ন ও দ্রুতগতির ইন্টারনেট সেবা পৌঁছে দেওয়াই আমাদের মূল লক্ষ্য।”
প্রযুক্তি খাতের প্রভাব
প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, ৫জি সেবা সম্প্রসারণের ফলে বাংলাদেশে নতুন নতুন স্টার্টআপ এবং সফটওয়্যার ভিত্তিক ব্যবসার ব্যাপক সম্ভাবনা তৈরি হবে। এটি দেশের তরুণ প্রজন্মের জন্য কর্মসংস্থানের নতুন ক্ষেত্র তৈরি করবে এবং বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ করতেও বড় ভূমিকা রাখবে।
টেলিকম অপারেটরগুলোকে আজ থেকে কার্যকরভাবে এই ৫টি শহরে উচ্চমানের সেবা নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সাধারণ গ্রাহকরা তাদের ৫জি সমর্থিত হ্যান্ডসেটের মাধ্যমে এখন থেকেই এই আধুনিক প্রযুক্তির অভিজ্ঞতা গ্রহণ করতে পারবেন।