
নিজস্ব প্রতিবেদক, সিরাজগঞ্জ | ১৫ জুন, ২০২৬
প্রথাগত কৃষি পদ্ধতির সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে আধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়া লেগেছে মাঠ পর্যায়ের কৃষিতে। আজ সোমবার (১৫ জুন, ২০২৬) সিরাজগঞ্জের হাওর সংলগ্ন অঞ্চলে ধান চাষিদের জন্য ড্রোন ব্যবহার করে সার ও কীটনাশক স্প্রে করার নতুন পদ্ধতির উদ্বোধন করা হয়েছে। এই প্রযুক্তির সফল ব্যবহার কৃষি উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির পাশাপাশি কৃষকদের সময় ও খরচ উভয়ই সাশ্রয় করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ড্রোনের মাধ্যমে কৃষি সেবার বিশেষত্ব
হাওর অঞ্চলের কৃষকরা সাধারণত বর্ষাকালে বা জলাবদ্ধ অবস্থায় জমিতে সার ও কীটনাশক ছিটাতে ব্যাপক সমস্যার সম্মুখীন হন। নতুন এই ড্রোন প্রযুক্তি সেই সমস্যার সমাধানে কার্যকর ভূমিকা রাখছে:
-
দ্রুত কার্যকর স্প্রে: মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যেই একটি বিশাল জমির সমস্ত অংশে সুষমভাবে সার ও কীটনাশক স্প্রে করা সম্ভব, যা মানুষের পক্ষে করা অত্যন্ত কষ্টসাধ্য ও সময়সাপেক্ষ।
-
খরচ সাশ্রয়: প্রথাগত স্প্রে পদ্ধতির তুলনায় ড্রোন প্রযুক্তিতে কীটনাশক ও সারের অপচয় অনেক কম হয়। এতে একজন কৃষকের উৎপাদন খরচ উল্লেখযোগ্য হারে কমে আসবে।
-
স্বাস্থ্যের ঝুঁকি হ্রাস: বিষাক্ত কীটনাশক ব্যবহারের সময় কৃষকরা সরাসরি সেটির সংস্পর্শে আসতেন, যা তাদের দীর্ঘমেয়াদী স্বাস্থ্যের ঝুঁকির কারণ ছিল। ড্রোন ব্যবহারের ফলে এখন আর তাদের বিষের সংস্পর্শে আসতে হবে না।
-
নির্ভুল প্রয়োগ: আধুনিক সেন্সর ও জিপিএস প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে জমির নির্দিষ্ট স্থানে যতটুকু প্রয়োজন, ঠিক ততটুকুই সার বা ওষুধ প্রয়োগ করা সম্ভব হচ্ছে।
কৃষকদের অভিমত
নতুন এই প্রযুক্তি দেখে স্থানীয় কৃষকরা দারুণ উচ্ছ্বসিত। এক কৃষক জানান, “আগে এক বিঘা জমিতে ওষুধ ছিটাতে কয়েক ঘণ্টা সময় লাগত, এখন ড্রোন দিয়ে মাত্র কয়েক মিনিটেই তা সম্ভব। এতে আমাদের কষ্ট কমছে এবং ফসলের মানও ভালো থাকছে।”
সরকারি উদ্যোগ ও সম্ভাবনা
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, হাওর অঞ্চলের পাশাপাশি সারাদেশের বড় মাঠগুলোতে ড্রোন প্রযুক্তি ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। এর মাধ্যমে কেবল সার প্রয়োগই নয়, ভবিষ্যতে ড্রোন ব্যবহার করে ফসলের রোগবালাই শনাক্তকরণ ও ফলন পর্যবেক্ষণের কাজও করা হবে।
প্রযুক্তিবিদদের মতে, চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের এই যুগে কৃষিখাতে ড্রোন প্রযুক্তির ব্যবহার খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পর্যায়ক্রমে কৃষি সমবায় সমিতির মাধ্যমে প্রতিটি জেলায় অন্তত একটি ড্রোন সেবাকেন্দ্র স্থাপনের বিষয়টিও সরকারের সক্রিয় বিবেচনায় রয়েছে।