
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা | ১৫ জুন, ২০২৬
দেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর পরিচালনা প্রক্রিয়াকে আরও কার্যকর করার লক্ষ্যে নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বিদ্যুৎ বিভাগ। আজ সোমবার (১৫ জুন, ২০২৬) থেকে দেশের প্রধান সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোতে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘ইন্টারনেট অফ থিংস’ বা আইওটি (IoT) ভিত্তিক রিমোট মনিটরিং ও কন্ট্রোল ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। এর মাধ্যমে দূর থেকেই বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রতিটি সোলার প্যানেলের কার্যকারিতা পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হবে।
আইওটি (IoT) প্রযুক্তির কার্যকারিতা
নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদনে আধুনিক এই প্রযুক্তি কীভাবে কাজ করবে, তা নিয়ে সংশ্লিষ্টরা বিস্তারিত তুলে ধরেছেন:
-
রিয়েল-টাইম ডাটা মনিটরিং: আইওটি সেন্সর ব্যবহারের ফলে প্রতিটি সোলার প্যানেল কতটুকু বিদ্যুৎ উৎপাদন করছে এবং কোন প্যানেলটি নষ্ট বা ক্ষতিগ্রস্ত, তা কেন্দ্রীয় কন্ট্রোল রুম থেকে মুহূর্তেই শনাক্ত করা যাবে।
-
স্বয়ংক্রিয় ত্রুটি শনাক্তকরণ: প্রযুক্তিটি কোনো প্যানেলে ধুলোবালি জমে উৎপাদন কমে গেলে বা যান্ত্রিক কোনো ত্রুটি দেখা দিলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংকেত পাঠাবে। ফলে রক্ষণাবেক্ষণ কর্মীরা দ্রুত পদক্ষেপ নিতে পারবেন।
-
বিদ্যুৎ উৎপাদনের পূর্বাভাস: আবহাওয়া ও সূর্যালোকের তীব্রতা বিশ্লেষণ করে আইওটি সিস্টেমটি কতটুকু বিদ্যুৎ উৎপাদিত হতে পারে, তার সঠিক পূর্বাভাস প্রদান করবে। এটি গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের ভারসাম্য রক্ষা করতে বড় ভূমিকা রাখবে।
-
কর্মদক্ষতা বৃদ্ধি: প্রথাগত পদ্ধতিতে বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোতে গিয়ে ম্যানুয়ালি চেক করার প্রয়োজন কমে আসবে, যা পরিচালন ব্যয় বহুলাংশে হ্রাস করবে।
বিদ্যুৎ বিভাগের বক্তব্য
প্রকল্পের সাথে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, “সবুজ জ্বালানি বা নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে হলে এর ব্যবস্থাপনা হতে হবে আধুনিক ও স্মার্ট। আইওটি প্রযুক্তির অন্তর্ভুক্তির ফলে সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রের কর্মদক্ষতা অন্তত ১৫ থেকে ২০ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে বলে আমরা আশা করছি। এটি ২০৪১ সালের স্মার্ট বাংলাদেশ রূপকল্প বাস্তবায়নে একটি বড় ধাপ।”
জ্বালানি খাতের ওপর প্রভাব
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, বাংলাদেশে বিশাল এলাকা জুড়ে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প গড়ে তোলা হচ্ছে। আইওটি প্রযুক্তি ছাড়া এই বিশাল কর্মযজ্ঞ পরিচালনা করা বেশ কঠিন। এই রিমোট মনিটরিং ব্যবস্থা ব্যবহারের ফলে প্রকল্পের স্বচ্ছতা বাড়বে এবং দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতে টেকসই অবকাঠামো তৈরি হবে।
পর্যায়ক্রমে দেশের সকল সরকারি ও বেসরকারি সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পকে এই আইওটি নেটওয়ার্কের আওতায় নিয়ে আসার পরিকল্পনা নিয়েছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়। প্রযুক্তিগত এই অগ্রযাত্রা বাংলাদেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতকে বিশ্বমানের আধুনিক অবস্থানে উন্নীত করবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।