
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা | ১৫ জুন, ২০২৬
জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলা এবং দেশের পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার লক্ষ্যে দেশব্যাপী শুরু হয়েছে বিশাল বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি। আজ সোমবার (১৫ জুন, ২০২৬) এক বিশেষ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে জানা গেছে, এই প্রকল্পের আওতায় সাতক্ষীরা ও নওগাঁ জেলায় মোট ৩ লাখ ‘জলবায়ু-সহনশীল’ প্রজাতির গাছ রোপণ করা হবে। পরিবেশ রক্ষায় এই উদ্যোগে বাংলাদেশ সরকারের পাশাপাশি বিশেষ সহায়তা প্রদান করছে সুইজারল্যান্ড সরকার।
কর্মসূচির মূল লক্ষ্য
দেশের উপকূলীয় ও বরেন্দ্র অঞ্চলের পরিবেশগত সুরক্ষায় এই কর্মসূচি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এর মূল দিকগুলো হলো:
-
জলবায়ু-সহনশীল চারা রোপণ: উপকূলীয় অঞ্চল সাতক্ষীরার লবণাক্ততা এবং বরেন্দ্র অঞ্চল নওগাঁর শুষ্ক আবহাওয়া সহ্য করতে পারে—এমন বিশেষ প্রজাতির গাছ নির্বাচন করা হয়েছে।
-
পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা: অবাধ নগরায়ণ ও বন উজাড়ের ফলে সৃষ্ট পরিবেশগত বিপর্যয় রোধে এই বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি স্থানীয় বাস্তুসংস্থান (Ecosystem) পুনরুদ্ধারে সাহায্য করবে।
-
টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (SDG): জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার আলোকে পরিবেশ রক্ষা এবং বৈশ্বিক উষ্ণতা হ্রাসের অঙ্গীকার বাস্তবায়নে এই উদ্যোগ বড় ভূমিকা রাখবে।
সুইজারল্যান্ড সরকারের ভূমিকা
সুইস সরকারের আর্থিক ও প্রযুক্তিগত সহায়তায় এই প্রকল্পের কাজ বাস্তবায়িত হবে। সুইজারল্যান্ড তাদের ‘গ্রিন পার্টনারশিপ’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে বাংলাদেশের এই প্রকল্পে অংশীদার হয়েছে। তারা কেবল চারা সরবরাহ নয়, বরং পরবর্তী কয়েক বছর গাছগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ এবং এর প্রভাব পর্যবেক্ষণেও কারিগরি সহায়তা প্রদান করবে।
নীতিনির্ধারকদের বক্তব্য
পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, “গাছ লাগানো আমাদের সংস্কৃতির অংশ, তবে জলবায়ু পরিবর্তনের এই সময়ে আমাদের বৈজ্ঞানিক উপায়ে বৃক্ষরোপণ করতে হবে। সুইজারল্যান্ডের সহায়তায় আমরা এমন চারা নির্বাচন করেছি যা দীর্ঘস্থায়ী এবং পরিবেশের জন্য কল্যাণকর। এই কর্মসূচি কেবল গাছ লাগানো নয়, এটি একটি সবুজ ভবিষ্যৎ গড়ার প্রতিশ্রুতি।”
স্থানীয় জনসাধারণের অংশগ্রহণ
সাতক্ষীরা ও নওগাঁর স্থানীয় বাসিন্দারা এই কর্মসূচিকে স্বাগত জানিয়েছেন। তারা মনে করছেন, এই গাছগুলো বড় হলে এলাকায় তাপমাত্রার ভারসাম্য বজায় থাকবে এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি কিছুটা হলেও কমবে। স্থানীয় বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন ও স্বেচ্ছাসেবক দল গাছগুলোর যত্ন নেওয়ার দায়িত্ব গ্রহণ করেছে।
আগামী মাসের শেষ নাগাদ প্রথম পর্যায়ের দুই লাখ চারা রোপণের কাজ সম্পন্ন হবে বলে আশা করছে প্রকল্প বাস্তবায়নকারী কমিটি।