সোমবার ১৪ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ৩০শে ভাদ্র, ১৪৩৩

গাজীপুরে কৃষি জমি, জলাশয় ও পুকুর ভরাটের হিড়িক

[print_bangla]

 

মোঃ মুক্তাদির হোসেন, স্টাফ রিপোর্টার।

​গাজীপুরের পূবাইল মৌজার খতিয়ান ২৮৫, আর এস দাগ ১২০৫, পূবাইল সাতানীপাড়া এলাকায় একটি লাভজনক বিশাল পুকুর ও কৃষি জমি কৌশলে ভরাটের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে । বর্তমান জমির মালিকের ভাষ্য অনুযায়ী নাল ও চালা জমি হিসেবে দাবি করা হলেও এটি মূলত রেকর্ড অনুযায়ী বোরো জমি পরবর্তীতে সময়ে পুকুর খনন করে দীর্ঘদিন যাবত মাছ চাষ করে আসছেন, গত বছরও প্রায় আট লাখ টাকার মাছ উতপাদন করেছেন বলে জানা গেছে । পরিবেশ আইন ও সরকারি নীতিমালাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে একটি প্রভাবশালী মহল এই জলমহলটি ভরাটের করে যাচ্ছে ।
​গত বছরের ২০ অক্টোবর ফরিদুদ্দীন আহমেদ নামের এক ব্যক্তি গাজীপুর জেলা প্রশাসক বরাবর একই ধরনের আবেদন করেছিলেন। তিনি দাবি করেছিলেন, তার মালিকানাধীন জমির অংশবিশেষ থেকে পূর্বে মাটি নেওয়ার কারণে সেটি পুকুরের মতো নিচু হয়ে গেছে। এই অজুহাতে তিনি পুকুরটি ভরাট করে স্থায়ী শেড বা স্থাপনা নির্মাণের অনুমতি চেয়েছিলেন। সে সময় পুকুর ভরাটের চেষ্টা করা হলে ভ্রাম্যমাণ আদালত তা প্রতিহত করে।
​সেই অপচেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর, ঢাকার উত্তরার বাসিন্দা মো. মঞ্জুরুল ইসলাম সুমন নতুন করে গত ২৫ আগস্ট ২০২৬ তারিখে গাজীপুর জেলা প্রশাসক বরাবর আরেকটি আবেদনপত্র জমা দেন, যা ৩০ আগস্ট কার্যালয় কর্তৃক গৃহীত হয়। ওই আবেদনেও প্রায় একই অজুহাত দেখিয়ে জলাশয় ভরাট করে স্থায়ী স্থাপনা নির্মাণের অনুমতি চাওয়া হয়েছে। তবে এই দরখাস্তটি জেলা প্রশাসকের কোনো চূড়ান্ত অনুমতি বা আদেশ নয়; এটি কেবল একটি আবেদন মাত্র, যার ওপর এখনো কোনো আইনি অনুমতি প্রদান করা হয়নি। এর মধ্যেই সরকারি আশ্রয়কেন্দ্রের লাগোয়া পূর্ব পাশে মাটি ভরাট কাজ চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
​অনুসন্ধানে জানা যায়, বিন্দানের আজমিন ও টঙ্গী টিএনটির টিপুকে দিয়ে এই পুকুরে অবৈধভাবে বালু ভরাট করা হচ্ছে। শুধু এই একটি স্থানই নয়, এর বাইরেও পূবাইলের বিভিন্ন এলাকায় স্থানীয় দুষ্টচক্র ও দুর্বৃত্তরা নির্বিচারে বালু ভরাটের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে, যা গোটা এলাকার প্রাকৃতিক ভারসাম্যকে মারাত্মক হুমকিতে ফেলছে।
​স্থানীয় পরিবেশবাদীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানিয়েছেন, কাগজে-কলমে বা আবেদনে এটিকে ‘নাল ও চালা জমি’ হিসেবে মিথ্যা তকমা দেওয়া হলেও বাস্তবে এটি একটি ঐতিহ্যবাহী মাছের আধার ও জলাশয়। পুকুর বা জলাশয় ভরাট করে বাণিজ্যিকভাবে শেড নির্মাণ করা হলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে সমাজসেবা অধিদপ্তরের কার্যালয়। চারপাশে পানি আটকে বিশাল জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হবে। একদিকে যেমন প্রাকৃতিক পরিবেশ ধ্বংস হবে, অন্যদিকে এলাকার জলাবদ্ধতা তীব্র আকার ধারণ করবে। অথচ আইন অনুযায়ী কোনো জলাশয় বা পুকুর ভরাট করার কোনো সুযোগ নেই।
​এ বিষয়ে প্রশাসনের দ্রুত কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয় এলাকাবাসী। একটি লাভজনক পুকুরকে কৃত্রিমভাবে নিচু ও পরিত্যক্ত দেখিয়ে ডিসি অফিসের অনুমতি পাওয়ার নামে এই অপচেষ্টা এবং পূবাইলের বিভিন্ন স্থানে চলমান অবৈধ বালু ভরাট অবিলম্বে রুখে না দিলে গাজীপুরে জলাভূমি ধ্বংসের এক নতুন ও বিপজ্জনক দুয়ার উন্মোচিত হবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এ ব্যপারে পূবাইলের ভুমি সহকারী কর্মকর্তা আলী হোসেনের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন আমি একাধিক বার নিষেধ করার পরও তারা বালু ভরাট করে যাচ্ছে।

Share this news as a Photo Card

Share it :

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

গাজীপুরে কৃষি জমি, জলাশয় ও পুকুর ভরাটের হিড়িক

১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
dailybadwipbangladesh
www.badwipnews.com
Scroll to Top