
বাকেরগঞ্জ (বরিশাল) প্রতিনিধি:
বিশ্ব পানিতে ডুবা প্রতিরোধ দিবস-২০২৬ উপলক্ষে বরিশালের বাকেরগঞ্জে র্যালি, আলোচনা সভা, শিশুদের সাঁতার ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতাসহ নানা কর্মসূচির আয়োজন করেছে সেন্টার ফর ইনজুরি প্রিভেনশন অ্যান্ড রিসার্চ, বাংলাদেশ (সিআইপিআরবি)। উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) দিনব্যাপী এসব কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এ বছরের প্রতিপাদ্য ছিল “আসুন সবাই মিলে পানিতে ডুবে মৃত্যুস্রোত বদলে দেই।” সকালে সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক, অভিভাবক, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের অংশগ্রহণে একটি সচেতনতামূলক র্যালি বের করা হয়। পরে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাকেরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মিলটন চন্দ্র পাল।
সভায় ইউএনও মিলটন চন্দ্র পাল বলেন, নদী-খালবিল অধ্যুষিত বরিশাল অঞ্চলে শিশুদের পানিতে ডুবে মৃত্যুর ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি। তাই শিশুদের নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, স্থানীয় প্রশাসন ও সামাজিক সংগঠনকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। তিনি এ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য সিআইপিআরবিকে ধন্যবাদ জানান।
অনুষ্ঠানে সিআইপিআরবির উপ-পরিচালক মো. আবুল বরকাত নিরাপদে ভাসা প্রকল্পের কার্যক্রম, পানিতে ডুবে মৃত্যু প্রতিরোধে প্রতিষ্ঠানটির ভূমিকা এবং বিশ্ব পানিতে ডুবা প্রতিরোধ দিবসের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জনে বাংলাদেশ ও আয়ারল্যান্ডের অবদানের কথা তুলে ধরেন।
আলোচনা সভায় উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, বাকেরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও সিআইপিআরবির কর্মকর্তাসহ প্রায় ১৩০ জন অংশগ্রহণ করেন।
দিবসটি উপলক্ষে উপজেলা পরিষদের পুকুরে ১৮ জন ছেলে ও মেয়ে শিশুকে নিয়ে সাঁতার প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। পাশাপাশি উপজেলার তিনটি ইউনিয়ন ও পৌরসভার মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং মাদ্রাসার ২২০ জন শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা ও প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। পরে বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, বাংলাদেশ হেলথ অ্যান্ড ইনজুরি সার্ভে-২০২৩ অনুযায়ী দেশে প্রতিদিন গড়ে ৩৯ জন শিশু পানিতে ডুবে মারা যায়। এক থেকে ১০ বছর বয়সী শিশুরাই সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। গবেষণায় দেখা গেছে, এক থেকে পাঁচ বছর বয়সী শিশুদের জন্য দিবাযত্ন কেন্দ্র ‘আঁচল’ পরিচালনার মাধ্যমে পানিতে ডুবে মৃত্যুর ঝুঁকি ৮২ শতাংশ এবং ছয় থেকে ১০ বছর বয়সী শিশুদের সাঁতার শেখানোর মাধ্যমে এ ঝুঁকি ৯৬ শতাংশ পর্যন্ত কমানো সম্ভব।
সিআইপিআরবি জানায়, যুক্তরাজ্যের রয়্যাল ন্যাশনাল লাইফবোট ইনস্টিটিউশন (আরএনএলআই) এবং প্রিন্সেস শার্লিন অব মোনাকো ফাউন্ডেশনের অর্থায়নে ২০১৬ সাল থেকে বাকেরগঞ্জে ‘ভাসা’ ও ‘নিরাপদে ভাসা’ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। বর্তমানে উপজেলার ৫০টি আঁচল কেন্দ্রের মাধ্যমে পাঁচ বছরের কম বয়সী ১ হাজার ২৫০ শিশুকে নিরাপদ সেবার আওতায় রাখা হয়েছে। এছাড়া গত সাত বছরে প্রায় ১৪ হাজার শিশুকে সাঁতার শেখানো হয়েছে এবং চলতি বছরে আরও ২ হাজার ২০০ শিশুকে সাঁতার শেখানোর পরিকল্পনা রয়েছে। জে/এ
