
জহির রায়হান কাউনিয়া (রংপুর) প্রতিনিধিঃ
জ্বালানি রূপান্তর নিশ্চিত করি, নির্মল বায়ুর ভবিষ্যৎ গড়ি, স্লোগানকে সামনে রেখে রংপুর নগরীর টাউন হল চত্বর বিকন নাট্য কেন্দ্রের হলরুমে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আন্তর্জাতিক নির্মল বায়ু ও নীল আকাশ দিবস ২০২৬ উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে, অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডপস এর প্রধান নির্বাহী উজ্জল চক্রবর্তী, এসময় প্রধান অতিথি ও প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সুশাসনের জন্য নাগরিক সুজন এর সভাপতি অধ্যক্ষ ফখরুল আনান বেঞ্জু, সিনিয়র রিপোর্টার এ আর মিন্টু রহমান, আলোকচিত্রী সাংবাদিক রঞ্জিত দাস, ইয়ুত অ্যাক্টিভিস্ট,আজমাইল ইসলাম,বেগম রোকেয়া ইউনিভারসিটি স্টুডেন্ট ও উদ্যোক্তা ও ভুট্টা গাছ থেকে তৈরি কাচা উপাদান তৈরি কারক নুরুল ইসলাম নাঈম এনজিও প্রতিনিধি জাহিদ আলম জেমস,ইয়ুথ অ্যাক্টিভিস সাবিল খন্দকার, ইউথ ভলেন্টিয়ার নাইদ ইসলাম,স্টুডেন্ট সোহানা আক্তার, অনুষ্ঠানে বক্তাগণ বলেন দেশের উত্তরের রংপুর অঞ্চল অন্যতম প্রধান কৃষি এলাকা সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্বব্যাপী ও জাতীয় পর্যায়ে জ্বালানি সংকটে সরাসরি প্রভাব পড়েছে এই অঞ্চলের উপর, রংপুর ও বরেন্দ্র অঞ্চলের কৃষি মূলত ভূগর্ভস্থ পানির এবং ডিজেল বৈদ্যুতিক চালিত শেচ পাম্পের উপর নির্ভরশীল ঘন ঘন লোডশেডিং এবং ডিজেলের মূল্য বৃদ্ধির কারণে চাষাবাদে মারাত্মক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, রংপুর অঞ্চলে নবায়নযোগ্য জ্বালানির বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে যা সঠিক পরিকল্পনার মাধ্যমে কাজে লাগানো সম্ভব, জীবাশ্ম জ্বালানিতে ভর্তুকি কমিয়ে নবায়নযোগ্য খাতে সরকারি বিনিয়োগ বাড়ানোর জন্য তরুণেরা নীতি নির্ধারকের উপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে, চরের কৃষকরা সমবায় বা কমিউনিটি ভিত্তিক সোলার প্যানেল ও বায়োগ্যাস প্রজেক্ট এর মালিকানা ও ব্যবস্থাপনায় অংশ নিতে পারেন, গৃহস্থলী ও কৃষিকাজে জ্বালানির অপচয় রোধ এবং উন্নত চুলা ব্যবহারের মাধ্যমে বায়ু দূষণ কমাতে স্থানীয় নারীরা ভূমিকা রাখতে পারেন, রংপুর অঞ্চলে প্রচুর চড় রয়েছে ও পতিত জমি রয়েছে, যেমন তিস্তা ধরলা নদীর অববাহিকা এই বিস্তীর্ণ চরণঞ্চলে বৃহৎ আকারে সোলার পার্ক স্থাপন করা সম্ভব, এছাড়াও কৃষিতে সোলার শেচ পাম্পের ব্যাপক প্রসার ঘটানো যেতে পারে বর্তমান রংপুর অঞ্চলে ২২ মেগাওয়াট নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়, রংপুর অঞ্চলের টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে জীবাশ্ম জ্বালানির উপর নির্ভরতা কমিয়ে একটি পরিবেশ বান্ধব সাশ্রয়ী এবং স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবস্থার দিকে ধাবিত হওয়া এখন সময়ের দাবি।