
এমএফএইচ রাজু | ঢাকা | ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
মাদক ব্যবসায়ী, সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজদের কঠোরভাবে আইনের আওতায় আনার নির্দেশ দিয়েছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির, বিপিএম। তিনি বলেছেন, অপরাধীদের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের দলীয় পরিচয় বিবেচনার সুযোগ নেই; অপরাধীর একমাত্র পরিচয় সে অপরাধী।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সকালে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সে অনুষ্ঠিত মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভায় মাঠপর্যায়ের পুলিশ কর্মকর্তাদের এ নির্দেশ দেন আইজিপি।
সভায় মাদকবিরোধী পুলিশের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি পুনর্ব্যক্ত করে আইজিপি বলেন, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে কমিউনিটি পুলিশিংয়ের মাধ্যমে মাদক প্রতিরোধে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
কিশোর অপরাধীদের বিরুদ্ধেও যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন আইজিপি। পাশাপাশি কিশোর গ্যাংয়ের কার্যক্রমের বিষয়ে নজরদারি ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেন তিনি।
আসন্ন দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও নির্বিঘ্নে উদযাপনের লক্ষ্যে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন আইজিপি। এ সময় গুজব ও অপপ্রচার রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণেরও নির্দেশনা দেন তিনি।
সভায় সভাপতিত্ব করেন অতিরিক্ত আইজি (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) মো. সায়েদুর রহমান। তিনি কিশোর গ্যাং সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের পাশাপাশি তাদের পেছনে কোনো প্রভাবশালী ব্যক্তি রয়েছে কি না, তা উদঘাটন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।
দুর্গাপূজা উপলক্ষে প্রতিটি ইউনিটকে নিজ নিজ নিরাপত্তা পরিকল্পনা প্রণয়নের নির্দেশ দিয়ে অতিরিক্ত আইজি বলেন, পূজাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার হতে পারে। এ বিষয়ে পুলিশ সদস্যদের সতর্ক থাকতে হবে। দায়িত্ব পালনের সময় পুলিশ সদস্যদের যথাযথভাবে বডিওর্ন ক্যামেরা ব্যবহারেরও নির্দেশ দেন তিনি।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও অপরাধ নিয়ন্ত্রণে কমিউনিটি পুলিশিং কার্যক্রমকে কার্যকরভাবে ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন মো. সায়েদুর রহমান। একই সঙ্গে দায়িত্ব পালনে পুলিশ সদস্যদের পেশাদারিত্ব বজায় রাখার আহ্বান জানান তিনি।
সভায় মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার, রেঞ্জ ডিআইজি ও জেলার পুলিশ সুপাররা ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন। পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স প্রান্তে ডিআইজি (ক্রাইম ম্যানেজমেন্ট) মোহাম্মদ আবু সুফিয়ানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় আগস্ট ২০২৬ মাসের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাসহ দেশের সার্বিক অপরাধ পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হয়। এ সময় ডাকাতি, দস্যুতা, খুন, ধর্ষণ, পুলিশ আক্রান্ত ও অপহরণ মামলা, মুলতবি গ্রেফতারি পরোয়ানা, তদন্ত ও বিচার কার্যক্রমের অগ্রগতি এবং সাজার হারসহ বিভিন্ন বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।