
এমএফএইচ রাজু | ভাণ্ডারিয়া (পিরোজপুর) প্রতিনিধি
পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়ায় মাহিরা আক্তার (১৭) নামে এক স্কুলছাত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার মধ্য চিংগুরিয়া গ্রামের নিজ বসতঘর থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মাহিরা ভাণ্ডারিয়া থানা বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
পরিবারের সদস্যদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, মঙ্গলবার সকাল ৬টার দিকে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে গলায় ওড়না পেঁচানো অবস্থায় মাহিরাকে দেখতে পান তার সৎমা সুমাইয়া আক্তার। পরে বিষয়টি প্রতিবেশীদের জানানো হলে তারা পুলিশকে খবর দেন। সকাল ১১টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।
পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, ঘটনাটি আত্মহত্যা হতে পারে। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হতে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্তের পরই মৃত্যুর বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে।
সুমাইয়া আক্তার জানান, প্রতিদিনের মতো সোমবার রাতে খাবার খেয়ে মাহিরা নিজ কক্ষে ঘুমিয়ে পড়ে। মঙ্গলবার সকালে তাকে ফ্যানের সঙ্গে গলায় ওড়না পেঁচানো অবস্থায় দেখতে পান তিনি। পরে প্রতিবেশীদের খবর দেওয়া হয়।
তিনি আরও জানান, রিয়াজ বেপারী নামে সৌদিপ্রবাসী এক তরুণের সঙ্গে মাহিরার প্রেমের সম্পর্ক ছিল। প্রায় দুই মাস আগে ওই সম্পর্ক ভেঙে যায়। এ কারণে মাহিরা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিল কি না, তা তিনি নিশ্চিতভাবে বলতে পারেননি।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, মাহিরার তিন বছর বয়সে তার মা মারা যান। পরে তার বাবা মো. আলমগীর হোসেন দ্বিতীয় বিয়ে করেন। এরপর থেকে মাহিরা সৎমায়ের সঙ্গে বসবাস করছিল। তার বাবা আলমগীর হোসেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মৃত্তিকা, পানি ও পরিবেশ বিভাগের লাইব্রেরিয়ান হিসেবে চাকরি থেকে অবসর নিয়েছেন। বর্তমানে তিনি ঢাকায় ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত বলে জানা গেছে।
ভাণ্ডারিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) দেওয়ান জগলুল হাসান বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে স্কুলছাত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নেওয়া হয়েছে। ঘটনাটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা, তা ময়নাতদন্ত ছাড়া নিশ্চিত হওয়া সম্ভব নয়। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।