
চাষী ব্র্যান্ডের মোড়কে সাধারণ চাল প্যাকেটজাত, নকল ঘিসহ ৮–৯ ধরনের পণ্য জব্দ
এমএফএইচ রাজু | ভাণ্ডারিয়া (পিরোজপুর) প্রতিনিধি
পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়া পৌর শহরের ৭ নম্বর ওয়ার্ডে নকল ও ভেজাল পণ্যের গোডাউনে অভিযান চালিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) গভীর রাতে পরিচালিত যৌথ অভিযানে বিভিন্ন ধরনের নকল ও ভেজাল পণ্য জব্দের পাশাপাশি গোডাউনটি সিলগালা করা হয়েছে। এ ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটির মালিককে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ভাণ্ডারিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. হাসিবুল হাসানের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়।
অভিযান সূত্রে জানা যায়, পৌর শহরের ৭ নম্বর ওয়ার্ডে অবস্থিত মেসার্স রানা এন্টারপ্রাইজ নামের একটি গোডাউনে বিভিন্ন নামীদামি ব্র্যান্ডের মোড়ক ব্যবহার করে নকল ও নিম্নমানের পণ্য প্যাকেটজাত ও বাজারজাত করা হচ্ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযানে ‘চাষী’ ব্র্যান্ডের চালের খালি মোড়কে সাধারণ খোলা চাল ভরে প্যাকেটজাত করার প্রমাণ পাওয়া যায়। এ ছাড়া নকল ঘি, মশার কয়েলসহ প্রায় ৮ থেকে ৯ ধরনের ভেজাল ও নকল পণ্য জব্দ করা হয়।
অভিযানকালে ভেজাল ও নকল পণ্য বিক্রির অপরাধে এবং ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর ৫০ ধারা লঙ্ঘনের দায়ে মেসার্স রানা এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মো. সাইফুল ইসলাম রানাকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। তিনি ভাণ্ডারিয়া পৌর শহরের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাসাবাড়ি এলাকার মো. হাদীস হাওলাদারের ছেলে।
জরিমানা আদায়ের পর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নির্দেশে গোডাউনটি তাৎক্ষণিকভাবে সিলগালা করে দেওয়া হয়।
অভিযান শেষে ইউএনও ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. হাসিবুল হাসান জানান, জনস্বার্থ ও ভোক্তা অধিকার রক্ষায় ভাণ্ডারিয়ায় ভেজাল ও নকল পণ্যের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
এদিকে নকল চিনিগুঁড়া চাল, ঘি, তালমিছরিসহ বিভিন্ন পণ্য বাজারজাতের অভিযোগ ভোক্তাদের জন্য উদ্বেগের বিষয়। সামাজিক অনুষ্ঠানগুলোতে খাবার তৈরির ক্ষেত্রে নিম্নমানের ঘি ও ডালডা ব্যবহার এবং চালের সঙ্গে ক্ষতিকর সুগন্ধি উপাদান মেশানো হলে তা জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। এ ধরনের পণ্যের উৎস ও মান যাচাই এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।