নিজস্ব প্রতিবেদক:
সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে দুই সাংবাদিকের ওপর ইন্টার্ন চিকিৎসকদের হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা, ক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানিয়েছে ‘জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা সিলেট জেলা “জেএসএস)। একই সঙ্গে এ ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করে দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন সংগঠনটির নেতৃবৃন্দ।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) দিবাগত রাত ১০টার দিকে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রোগীর স্বজনদের মারধরের ঘটনার তথ্য সংগ্রহ ও ছবি ধারণ করতে গেলে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের হামলার শিকার হন দৈনিক শ্যামল সিলেটের ফটোসাংবাদিক রেজা রুবেল এবং সিলেটভিউ২৪ ডটকমের স্টাফ রিপোর্টার নিবেন্দু তালুকদার। হামলায় তাঁরা রক্তাক্ত আহত হন বলে জানা গেছে।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) এক যৌথ বিবৃতিতে এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা সিলেট জেলা সভাপতি, দৈনিক আজকের বসুন্ধরা পত্রিকা বিশেষ প্রতিনিধি এম. এ. রশীদ ও সাধারণ সম্পাদক মাহবুব আহমদ।
বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মতো একটি বৃহৎ ও গুরুত্বপূর্ণ সেবামূলক প্রতিষ্ঠানে পেশাগত দায়িত্ব পালনরত সাংবাদিকদের ওপর এ ধরনের হামলা অত্যন্ত ন্যক্কারজনক ও উদ্বেগজনক। সাংবাদিকদের তথ্য সংগ্রহ ও সংবাদ প্রকাশে বাধা সৃষ্টি করতে হামলার ঘটনা স্বাধীন সাংবাদিকতার ওপর সরাসরি আঘাত। এটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
তাঁরা আরও বলেন, ওসমানী হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও তাঁদের স্বজনদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার এবং মারধরের অভিযোগ প্রায়ই সামনে আসছে। এসব ঘটনার তথ্য ও প্রমাণ গণমাধ্যমকর্মীদের ক্যামেরায় ধারণ হওয়ায় সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। চিকিৎসাসেবার মতো মানবিক পেশায় নিয়োজিত ব্যক্তিদের কাছ থেকে এমন আচরণ কোনোভাবেই কাম্য নয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, সাংবাদিকদের ওপর হামলা শুধু ব্যক্তির ওপর আক্রমণ নয়, এটি গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, নাগরিকের জানার অধিকার এবং পেশাগত দায়িত্ব পালনের স্বাধীনতাকে বাধাগ্রস্ত করার অপচেষ্টা। হাসপাতালের ভেতরে এমন ঘটনা ঘটলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নীরব থাকার কোনো সুযোগ নেই।
জেএসএস নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে ঘটনার নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে হামলায় জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার, আহত সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং দোষীদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য হাসপাতাল প্রশাসন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি জোর দাবি জানান।
একই সঙ্গে ভবিষ্যতে কোনো সাংবাদিক যাতে পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে এ ধরনের হামলা ও হয়রানির শিকার না হন, সে জন্য হাসপাতালসহ সব কর্মস্থলে সাংবাদিকদের নিরাপদ কাজের পরিবেশ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তাঁরা।