
আবু বক্কর কক্স বাজার জেলা প্রতিনিধি
কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার সীমান্তের ওপারে মিয়ানমারে পরপর চারটি বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। এ ঘটনার পর বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) দিকে এসব বিস্ফোরণের শব্দে হোয়াইক্যং, হ্নীলা ও উখিয়ার পালংখালী সীমান্তের বিভিন্ন এলাকার বাড়িঘর কেঁপে ওঠে। গভীর রাতে হঠাৎ বিকট শব্দে অনেকের ঘুম ভেঙে যায়। আতঙ্কে স্থানীয় অনেকে ঘর থেকে বের হয়ে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেন। এর আগে চলতি বছরের ১০ আগস্ট রাত ১০টার পরও সীমান্তের এপারে হ্নীলা এলাকার বিভিন্ন স্থান থেকে একের পর এক গুলির শব্দ শোনা গিয়েছিল।
হ্নীলা মৌলভীপাড়ার বাসিন্দা আবু রাশেদ জানান, রাতের নীরবতার মধ্যে হঠাৎ বিকট শব্দে ঘুম ভেঙে যায়। এ সময় ঘরবাড়ি ও মাটি কেঁপে ওঠে। শব্দটি কীসের, তা তাৎক্ষণিকভাবে বোঝা সম্ভব হয়নি। হ্নীলা শালবাগান নয়াপাড়া এলাকার বাসিন্দা মেহেদী হাসান আভী জানান, দীর্ঘদিন ধরে সীমান্তের ওপারে মিয়ানমারে গোলাগুলির শব্দ শোনা যাচ্ছে। এসব ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। বিশেষ করে বোমা বিস্ফোরণের শব্দে রাতে ঘরে থাকতেও ভয় লাগে। স্থানীয়দের ধারণা, মিয়ানমারের জান্তা সরকার বিমান হামলা চালিয়ে থাকতে পারে। তবে বিস্ফোরণগুলো মিয়ানমারের ঠিক কোন এলাকায় এবং কী কারণে ঘটেছে, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
মিয়ানমারের অভ্যন্তরে বিস্ফোরণের শব্দ শোনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। উখিয়া-৬৪ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল জহিরুল ইসলাম জানান, ৩০ অক্টোবর রাতে উখিয়া ব্যাটালিয়নের আওতাধীন খারাংখালী বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় মিয়ানমারের অভ্যন্তরে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়।
বিজিবি জানায়, খারাংখালী বিওপির বিআরএম-১৫ থেকে আনুমানিক ৫০০ মিটার উত্তর-পূর্বে, বিওপি থেকে প্রায় ২ দশমিক ৫ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে এবং শূন্যরেখা থেকে আনুমানিক ৫০০ গজ মিয়ানমারের অভ্যন্তরে প্রমাচংওয়া এলাকার ত্রিমুখী মোহনা নামক স্থানে ওই বিস্ফোরণ ঘটে। বিজিবির প্রাথমিক ধারণা, আরাকান আর্মি নিজেদের আধিপত্য বিস্তারের উদ্দেশ্যে ওই বিস্ফোরণ ঘটিয়ে থাকতে পারে। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের নভেম্বর থেকে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে জান্তা সরকার ও আরাকান আর্মির মধ্যে নতুন করে সংঘর্ষ শুরু হয়। এর ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালের ৮ ডিসেম্বর আরাকান আর্মি মংডু শহরসহ বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তবর্তী রাখাইন রাজ্যের প্রায় ২৭১ কিলোমিটার এলাকার নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার দাবি করে। এর ফলে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সংঘাতের প্রভাব হিসেবে বিভিন্ন সময়ে মিয়ানমারের অভ্যন্তর থেকে গোলাগুলি, মর্টারশেল ও বিস্ফোরণের শব্দ বাংলাদেশ সীমান্তের বিভিন্ন এলাকা থেকে শোনা যাচ্ছে।