
জহির রায়হান, কাউনিয়া (রংপুর) প্রতিনিধি-
দীর্ঘ ৫৩ বছর অপেক্ষার পর ২ কোটি ৩৫ লক্ষ ২৯ হাজার ৪শ’৩৪ টাকা ব্যায়ে ৬০ মিটার দৈর্ঘ ৫.৫০ মিটার প্রস্থ স্পেন গার্ডারের উপর মরা তিস্তা নদীর ওপর স্বপ্নের একতা সেতুর নির্মাণ কাজ শেষ করে ২০২৪ সালে সৈকত-আলমগীর জাহান ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। সেতুটি নির্মানের পর এলাকার প্রায় ৫০ হাজার মানুষের যাতায়াতের দীর্ঘদিনের ভোগান্তিদূর হলেও বর্তমানে সেতুর নিচে কচুরি পানা জমে পানি প্রবাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় রাস্তায় ভয়াবহ ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে সেই সাথে হুমকিতে রয়েছে সেতুটি। সরেজমিনে একতা সেতা এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, সেতুর নিচে দীর্ঘদিন ধরে কচুরি পানা আটকে পানি প্রবাহ মারাত্বক ভাবে বাধাগ্রস্ত করছে। ফলে পানি তার সাভাবিক গতিতে যেতে না পেরে দুই ধার দিয়ে প্রাহিত হতে গিয়ে রাস্তায় ভয়াবহ ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। পানা অপসারণ না করায় নদীর পানি প্রবাহ বাঁধাগ্রস্ত হয়ে আশপাশের পরিবেশ, রাস্তা ও মূল সেতু হুমকির মুখে পড়েছে। সেতুর নিচে কচুরিপানা ও আবর্জনা জমে থাকায় পানির স্বাভাবিক গতিকে বাধাগ্রস্ত করছে, যা বর্ষা মৌসুমে বন্যার মতো পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে। ফলে হুমকির মুখে পড়েছে একতা সেতুসহ হারাগাছ-কাউনিয়া আঞ্চলিক সড়কটি। উজান থেকে নেমে আসা ঢলে তিস্তা নদীতে পানির প্রবাহ বেড়ে যাওয়ায় পানি প্রবাহ বাধা গ্রস্থ হওয়ায় সেতুটির উত্তর-পশ্চিম প্রান্তের রাস্তায় ভাঙন দেখা দেয়। রাস্তার বেশ কয়েকটি স্থানে ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। প্রতিদিন একতা সড়ক সেতু দিয়ে অন্তত অর্ধলক্ষ্য মানুষ যাতায়াত করেন। গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায় ভাঙনে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
রাস্তা সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা আলমগীর বলেন, সেতুর নিচে জমে থাকা কচুরি পাতা পরিস্কার না করায় নদীতে পানি বৃদ্ধির সাথে সাখে দুকুল বেয়ে রাস্তায় আঘাত করায় ভাঙন দেখা দিয়েছে। আমরা এখন ভীষণ আতঙ্কে আছি। স্থানীয়দের দাবি, এখনই জরুরি ভিত্তিতে সেতু নিচের পানা অপসারন না করা হলে রাস্তা রক্ষায় ব্যবস্থা না নিলে মরা তিস্তা একতা সড়ক সেতু এবং আঞ্চলিক সড়ক মারাত্মক বিপর্যয়ের মুখে পড়বে।
নাজিরদহ একতা স্কুলের প্রধান শিক্ষক রমজান আলী জানান, মরা তিস্তা নদীর ওপর নির্মিত স্বপ্নের একতা সেতুর উত্তর প্রান্তের সংযোগ সড়কে সুষ্ঠু পরিকল্পনার অভাবে এমন ভাবে মরণ বাঁক নির্মান হয়েছে এবং রাস্তা সংকীর্ণ হওয়ায় ছোট ছোট যানবাহন চলাচল করতে পারলেও বাস, ট্রাক চলাচল করতে পারছে না। সেই সাথে বড় ধরনের দুর্ঘটনাও ঘটতে পারে।
এই সেতু দিয়ে লালমনিরহাটের রাজপুর, খলাইঘাট, চিনাতুলী, ঠিকানার হাট, কাউনিয়ার হারাগাছের চর নাজিরদহ, পল্লিমারী, চর চতুরা গ্রামের প্রায় অর্ধলক্ষ মানুষ উপজেলা-জেলাসহ বিভিন্ন স্থানে চলাচল করে। এছাড়াও ওই এলাকা গুলো কৃষি শষ্য ভান্ডার হিসেবে খ্যাত। কৃষি পণ্য পরিবহনে এই সেতুর ওপর দিয়েই ট্রাকে মালামাল পরিবহন করতে হয়।
হারাগাছ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রাজু আহমদ বলেন, পানা অসারনের জন্য আমরা বরাদ্দ চেয়েছি কিন্তু এখনও পাইনি। রাস্তায় ভাঙন দেখা দিয়েছে তাও জানিয়েছি, কিন্তু এলজিইডিকে এখনও কোন ব্যবস্থা নেয়নি। এ পরিস্থিতি ঠেকানো না গেলে রাস্তা ও সেতুর অস্তিত্ব বিলীন হয়ে যেতে পারে।
এলাকাবাসী সেতুতে সংযোগ সড়কটির মরন বাঁক পরিবর্তন করে ও রাস্তা প্রশস্ত করা এবং সেতুর নিচের পানা পরিস্কারে দাবী জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের নিকট। কাউনিয়া উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রকৌশলী মনিরুল ইসলাম জানান, সেতুর নিচে জমে থাকা পানা ও রাস্তা ভাঙন দেখা দেওয়ায় বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কাউনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পাপিয়া সুলতানা জানান, এরই মধ্যে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করাসহ দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জে/এ
