
সোহরাব সবুজ, স্টাফ রিপোর্টার:
ভারতের কলকাতার নিউমার্কেট সংলগ্ন মির্জা গালিব স্ট্রিটের একটি আবাসিক হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ হারালেন কালিগঞ্জ উপজেলার তেতুলিয়া গ্রামের গৃহবধূ রেবতী রানী সরকার।
তিনি চিকিৎসার উদ্দেশ্যে গত ১০ আগস্ট ভারতে গিয়েছিলেন। স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রথমে তিনি মহারাষ্ট্রে আত্মীয়দের কাছে অবস্থান করেন। পরে কলকাতার বারাসাতের মাটিয়া বাজার এলাকায় বোনের বাসায় যান। চিকিৎসাজনিত কাজে কলকাতায় অবস্থানকালে মর্মান্তিক ওই অগ্নিকাণ্ডের কবলে পড়ে তাঁর মৃত্যু হয়।
স্বজনরা জানান, মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য বাংলাদেশ ও ভারতের প্রশাসনিক প্রক্রিয়া চলছে । রেবতী রানী সরকারের দেবর তপন কুমার সরকার জানান, তাঁর মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন তাঁরা। দ্রুত মরদেহ দেশে এনে ধর্মীয় বিধি অনুযায়ী শেষকৃত্য সম্পন্ন করতে চান পরিবারের সদস্যরা।
এ ঘটনায় হোটেলের অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। আগুনের কারণ, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং সম্ভাব্য গাফিলতি খতিয়ে দেখতে বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করা হয়েছে।
প্রাথমিকভাবে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, আগুনের সময় হোটেলের সরু পথ, জরুরি বের হওয়ার ব্যবস্থা ও অগ্নিনিরাপত্তা নিয়ে নানা ঘাটতি ছিল। ফলে আগুন লাগার পর আবাসিকদের দ্রুত নিরাপদে বের হয়ে আসা কঠিন হয়ে পড়ে। এ ঘটনায় কলকাতার নিউমার্কেট এলাকার হোটেলগুলোর অগ্নিনিরাপত্তা নিয়েও নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
চিকিৎসার জন্য ভারতে গিয়ে কালিগঞ্জের রেবতীর এমন করুণ মৃত্যুতে এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে তাঁদের বাড়ির পরিবেশ। শেষবারের মতো প্রিয় মানুষ দুটির মুখ দেখার অপেক্ষায় রয়েছেন স্বজনরা।
এখন পরিবারের একটাই অপেক্ষা—প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শেষ করে কবে দেশে ফিরবে রেবতী রানী সরকারের মরদেহ। তাঁদের স্বজন ও এলাকাবাসী দ্রুত মরদেহ দেশে ফিরিয়ে এনে নিজ নিজ ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী শেষ বিদায়ের ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন।
এদিকে নিহত আলিমুজ্জামান সাজু (৪৫) কালিগঞ্জের তারালী ইউনিয়নের বরেয়া গ্রামের মৃত. ইউনুচ সরদারের ছেলে। তিনি পেশায় একজন ঘের ব্যবসায়ী। অপরজন একই উপজেলার বাসিন্দা রেবতী সরকার। তবে তার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
নিহতের নিকটাত্নীয় মোখলেছুর রহমান পল্টু জানান, কোমরে ব্যথার জন্য চিকিৎসক দেখাতে ৫-৬ দিন আগে সাজু ভারতে যান। বুধবার বাড়িতে ফিরে আসার কথা ছিল। কিন্তু রাত ১০টার দিকে বাড়িতে খবর আসে হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে তিনি নিহত হয়েছেন।
প্রতিবেশী হাফিজুর রহমান হাফিজ জানান, ৭-৮ বছর আগে হজ করে এসে সাজু জানান, তিনি বিয়ে করবেন না। সেভাবেই চলছিলেন। তিনি এলাকার ভালো মানুষ হিসেবে পরিচিত। এক বছর আগে তার মা মারা গেছেন। বাবাও বেঁচে নেই। বাড়ির অন্য স্বজনরা সকলেই কান্নাকাটি করছেন। চার ভাইয়ের মধ্যে সাজু সবার ছোট। মেজো ভাই রাজু সরদারও মারা গেছেন। বর্তমানে বড় ভাই সাহেব সরদার ও সেজো ভাই উজ্জ্বল সরদার জীবিত আছেন।
সাতক্ষীরা জেলা পুলিশের বিশেষ শাখা থেকে জানানো হয়, ঘটনাটি জানার পর বিস্তারিত খোঁজ নেওয়া হচ্ছে।