
মোঃ শফিয়ার রহমান, পাইকগাছা প্রতিনিধি-
খুলনার পাইকগাছায় বিএনপির স্থানীয় নেতাদের বিরুদ্ধে ‘মিথ্যা অভিযোগ’ ও গণমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রকাশের প্রতিবাদে মানববন্ধন, প্রতিবাদ সভা ও বিক্ষোভ মিছিল করেছেন এলাকাবাসী। বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে উপজেলার গড়ইখালীর সুলতান মোড়ে এ কর্মসূচি পালিত হয়। প্রদীপ কুমার মন্ডলের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে বক্তব্য দেন শান্ত কুমার মন্ডল, কৃষ্ণ মন্ডল, প্রণব মন্ডল, সেলিম বিশ্বাস, শিবপদ মন্ডল, বিশ্বজিৎ মন্ডল ও উষা রাণী মন্ডল। মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, গড়ইখালীর কুমখালী মৌজায় প্রায় ১০ বিঘা জমি নিয়ে স্থানীয় প্রশান্ত মন্ডল ও প্রদীপ মন্ডলদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। এ বিরোধ মীমাংসার জন্য গত ২৮ আগস্ট উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ডা. আব্দুল মজিদের বাসায় সালিস অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে উভয় পক্ষের কাগজপত্র পর্যালোচনা করে প্রদীপ মন্ডলের দীর্ঘদিনের দখল বজায় রাখার সিদ্ধান্ত দেওয়া হয় বলে দাবি করেন বক্তারা।
বক্তারা আরও বলেন, পরদিন ২৯ আগস্ট প্রদীপ মন্ডলসহ কয়েকজন ওই জমিতে চাষ করতে গেলে প্রতিপক্ষের লোকজন বাধা দেন। এ সময় বিষয়টি উপজেলা বিএনপির নেতা ডা. আব্দুল মজিদ, তুষার কান্তি মন্ডলসহ অন্য নেতাদের জানানো হয়। পরে অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে স্থানীয় ক্যাম্প ইনচার্জ এসআই খায়রুল আলম এবং বিএনপি নেতা উবাইদুল্লাহ সরদার ও রানা ঘটনাস্থলে যান।
তাঁদের দাবি, ঘটনাস্থলে কয়েকজন নারী উত্তেজিত হয়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করার চেষ্টা করেন এবং মুঠোফোনে ভিডিও ধারণ করছিলেন। এ সময় উবাইদুল্লাহ সরদার ভিডিও করতে নিষেধ করেন এবং দুটি মুঠোফোন নিয়ে নেন। পরে ভিডিও মুছে ফোন দুটি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ফেরত দেওয়া হয় বলে বক্তারা জানান। বক্তারা বলেন, পরদিন স্থানীয় পুলিশ ক্যাম্পে উভয় পক্ষের কাগজপত্র নিয়ে বসার কথা ছিল। তবে ৩০ আগস্ট সকালে প্রশান্ত মন্ডলরা ক্যাম্পে বসবেন না বলে জানান। পরে তাঁরা খুলনা জেলা বিএনপির সদস্যসচিব ও জেলা পরিষদের প্রশাসক মনিরুল হাসান বাপ্পির কাছে উবাইদুল্লাহ সরদার ও রানার বিরুদ্ধে নারীদের শ্লীলতাহানি এবং মুঠোফোন কেড়ে নেওয়ার অভিযোগ করেন। একই অভিযোগের কথা গণমাধ্যমেও প্রকাশিত হয় বলে দাবি করেন তাঁরা।
বক্তারা এসব অভিযোগকে ‘মিথ্যা ও ভিত্তিহীন’ দাবি করে এর প্রতিবাদ জানান। একই সঙ্গে বিষয়টি সুষ্ঠুভাবে তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা তুলে ধরার দাবি জানান তাঁরা। এ বিষয়ে স্থানীয় ক্যাম্প ইনচার্জ এসআই খায়রুল আলম বলেন, ‘ঘটনাস্থলে গিয়ে আমরা উভয় পক্ষকে শান্ত করি। পরে ক্যাম্পে বসে বিষয়টি মীমাংসার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে তাঁরা ক্যাম্পে না আসায় বসা সম্ভব হয়নি।’ জমি নিয়ে বিরোধ এবং বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে করা অভিযোগের বিষয়ে প্রশান্ত মন্ডলের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। জে/এ
