
এমএফএইচ রাজু | বরগুনা ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে গিয়ে বসতঘরে চুরির চেষ্টাকালে এক যুবককে আটক করেছে বরগুনা সদর থানা পুলিশ। পরে তাকে আদালতে হাজির করা হলে সামারি ট্রায়ালের মাধ্যমে ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে তাকে আরও ১৫ দিনের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
দণ্ডপ্রাপ্ত যুবকের নাম ইমাম হোসেন (২০)। তিনি বরগুনা সদর উপজেলার ২ নম্বর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের লেমুয়া এলাকার মো. মজিবর শিকদারের ছেলে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) রাত আনুমানিক সাড়ে ৮টার দিকে বরগুনা সদর উপজেলার ২ নম্বর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের চর ধুপতি এলাকায় মো. রুহুল আমিন আকনের বসতঘরে চুরির উদ্দেশ্যে প্রবেশের অভিযোগ ওঠে ইমাম হোসেনের বিরুদ্ধে।
ঘটনার সময় বাড়ির লোকজন বিষয়টি টের পেয়ে স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে আটক করেন। পরে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।
সংবাদ পেয়ে বরগুনা সদর থানার এসআই (নিঃ) সাইফুর রহমান সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর পালানোর চেষ্টা করলে স্থানীয়দের সহায়তায় ইমাম হোসেনকে আটক করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ইমাম হোসেন ওই বসতঘরে চুরির উদ্দেশ্যে প্রবেশ করে আলমারি থেকে বিভিন্ন মালামাল বের করে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করার কথা স্বীকার করেন।
এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩৮০/৪৫৪ ধারায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়। পরে আসামিকে সশরীরে বিজ্ঞ অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হলে আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট মো. মনিরুজ্জামান মামলাটি সামারি ট্রায়ালের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করেন।
আদালত দণ্ডবিধির ৪৫৪ ধারায় অভিযোগ গঠন করে ইমাম হোসেনকে ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করেন। জরিমানা অনাদায়ে তাকে আরও ১৫ দিনের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
বরগুনা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবু শাহাদাৎ হাসনাইন পারভেজ বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও অপরাধ দমনে পুলিশের অভিযান এবং আইনগত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
বরগুনা জেলা পুলিশ জানিয়েছে, অপরাধ দমনে পুলিশ সর্বদা তৎপর রয়েছে এবং নিরাপদ ও অপরাধমুক্ত সমাজ গঠনে আইনগত কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।