
ফয়সাল, স্টাফ রিপোর্টার-
বগুড়ার ধুনট উপজেলায় স্বামীর বাড়ির বারান্দা থেকে নাম্মি আক্তার নিপা (২০) নামে এক গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ সময় মরদেহের পাশেই কান্নারত অবস্থায় পড়ে ছিল তার তিন মাস বয়সী ছেলে নাহিদ। ঘটনার পর স্বামীসহ পরিবারের সদস্যরা শিশুটিকে মরদেহের পাশে রেখে বাড়ি ছেড়ে চলে যান বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রতিবেশীরা শিশুটির কান্নার শব্দ শুনে নিপার বাবা-মাকে খবর দেন। তারা ঘটনাস্থলে এসে শিশুটিকে উদ্ধার করেন। পরে খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে শুক্রবার দুপুরে ময়নাতদন্তের জন্য বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় তিন বছর আগে গাবতলী উপজেলার নশিপুর ইউনিয়নের বড়ইটালী গ্রামের লাল মিয়া প্রামাণিকের মেয়ে নাম্মি আক্তার নিপাকে ধুনট উপজেলার নিমগাছি ইউনিয়নের শিয়ালী গ্রামের ফরহাদ মোল্লার ছেলে বাহাদুর মোল্লা বিয়ে করেন। অভাব-অনটনের কারণে বিয়ের পর থেকেই তাঁদের দাম্পত্য জীবনে কলহ লেগে থাকত। এরই মধ্যে তাঁদের সংসারে জন্ম নেয় ছেলে নাহিদ। গত ১৫ জুলাই সকালে বাহাদুর মোল্লা স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে শ্বশুরবাড়িতে যান। সেখানে তাদের রেখে তিনি নিজ বাড়িতে ফিরে আসেন। পরদিন ১৬ জুলাই দুপুরে আবার শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে বিকেলে স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে নিজ বাড়িতে ফেরেন। ওই দিন সন্ধ্যায় প্রতিবেশীরা নিপার পরিবারের সদস্যদের ফোন করে জানান, নিপা গলায় ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। একই সঙ্গে তারা জানান, বাহাদুর মোল্লাসহ পরিবারের সদস্যরা শিশুটিকে মরদেহের পাশে রেখে বাড়ি ছেড়ে চলে গেছেন। এ ঘটনায় নিপার মা জোলেখা বেগম বাদি হয়ে ধুনট থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করেছেন।
ধুনট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুল ইসলাম বলেন, নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকেও এখন পর্যন্ত নির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ করা হয়নি। তবে ঘটনার পর স্বামীসহ পরিবারের সদস্যরা পলাতক থাকায় বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জে/এ
