বৃহস্পতিবার ৩০শে জুলাই, ২০২৬ ১৫ই শ্রাবণ, ১৪৩৩

৩ কোটি টাকার সড়ক সংস্কার, দুই মাসেই উঠে যাচ্ছে কার্পেটিং

[print_bangla]

জসিম উদ্দিন

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ বাইশারী-ঈদগড় সড়কের সংস্কার কাজ শেষ হওয়ার মাত্র দুই মাসের মাথায় বিভিন্ন স্থানে কার্পেটিং উঠে গিয়ে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এতে স্থানীয় বাসিন্দা, যানবাহন চালক ও যাত্রীদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার এবং কাজের মান বজায় না রাখার কারণেই এত অল্প সময়ের মধ্যে সড়কটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যদিও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে বিষয়টি দ্রুত সংস্কারের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) নাইক্ষ্যংছড়ি অফিস সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে প্রায় ৩ কোটি টাকা ব্যয়ে বাইশারী-ঈদগড় সড়কের বৈদ্যপাড়া রাস্তার মাথা থেকে ঈদগড় বাজারের গরুর বাজার পর্যন্ত প্রায় ৪ কিলোমিটার কার্পেটিং সংস্কার কাজ বাস্তবায়ন করা হয়। কাজটি সম্পন্ন করে চট্টগ্রামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মোহাম্মদ ইউনুস অ্যান্ড ব্রাদার্স প্রাইভেট লিমিটেড।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ঈদগড় পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের সামনে সড়কের কার্পেটিং উঠে গিয়ে অন্তত তিনটি বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া পানিস্যাঘোনা জামে মসজিদের সামনের অংশেও কার্পেটিং উঠে আরেকটি বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, কার্পেটিংয়ের স্তর এতটাই দুর্বল যে হাত দিয়ে টান দিলেই তা সহজেই উঠে আসছে। চলমান ভারী বর্ষণের কারণে গর্তগুলোতে পানি জমে প্রতিদিন যান চলাচলের সময় আরও বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে সড়কটি। এতে প্রতিনিয়ত বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি এবং দুর্ভোগ।
প্রতিদিন এই সড়কে সিএনজি অটোরিকশা চালান এমন কয়েকজন চালক মো. ফয়সাল, মো. হামিদ ও মো. আবছার বলেন, “যে কাজ করা হয়েছে, তা দেখে মনে হচ্ছে নিম্নমানের কাজ হয়েছে। কাজ শেষ হওয়ার অল্প সময়ের মধ্যেই কার্পেটিং উঠে যাচ্ছে। আগে সড়কটি তুলনামূলক ভালো ছিল। এখন বর্ষায় চলাচল আরও কষ্টকর হয়ে পড়েছে।” তারা বলেন, “গর্তে পানি জমে থাকায় কোথায় গর্ত আর কোথায় রাস্তা বোঝা যায় না। এতে প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে গাড়ি চালাতে হচ্ছে।” স্থানীয় বাসিন্দা বাদশা, মো. হাকিম, এন আলম এবং পথচারী মো. মিজবাহ ও মো. মিলনসহ কয়েকজন জানান, নির্মাণকাজ চলাকালেই তারা কাজের মান নিয়ে আপত্তি তুলেছিলেন। কিন্তু তখন তাদের অভিযোগ গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। তাদের ভাষ্য, “সরকার উন্নয়নের জন্য কোটি কোটি টাকা ব্যয় করছে। অথচ কাজের মান ঠিক না থাকলে জনগণের কষ্ট বাড়ে এবং সরকারের ভাবমূর্তিও ক্ষুণ্ন হয়। তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কঠোর তদারকি ও দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনা প্রয়োজন।”
এ বিষয়ে মোহাম্মদ ইউনুস অ্যান্ড ব্রাদার্স প্রাইভেট লিমিটেড-এর এক কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “সংবাদ প্রকাশ না করলেও ভালো হয়। আপনি কার্পেটিং উঠে যাওয়া স্থানের ছবি, ভিডিও, লোকেশন এবং কাজের প্যাকেজ নম্বর পাঠিয়ে দিন। আমরা দ্রুত বিষয়টি পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় সংস্কারের ব্যবস্থা নেব।” কাজটির তদারকিতে থাকা নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা এলজিইডি অফিসের সহকারী প্রকৌশলী মো. রবিউল আলম বলেন, অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতের কারণে সড়কের কার্পেটিংয়ের কিছু অংশ উঠে যাচ্ছে। বর্তমানে টানা বৃষ্টি অব্যাহত থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে মেরামত কাজ শুরু করা সম্ভব হচ্ছে না। বৃষ্টি কমে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ক্ষতিগ্রস্ত অংশ পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কারিগরি মূল্যায়নের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় মেরামত করা হবে।
এ বিষয়ে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী মো. নজরুল ইসলামের সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোন ও হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি। তবে এর আগে তার কার্যালয়ে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “যারা ওই কাজের দায়িত্বে ছিলেন তারা এখন অফিসে নেই। তারা এলে বিস্তারিত জেনে আপনাকে জানানো হবে।” স্থানীয়দের দাবি, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত অংশ পুনরায় মানসম্মতভাবে সংস্কার করা হোক, যাতে জনগণের ভোগান্তি কমে এবং সরকারি অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত হয়। জে/এ

Share this news as a Photo Card

Share it :

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

৩ কোটি টাকার সড়ক সংস্কার, দুই মাসেই উঠে যাচ্ছে কার্পেটিং

৩০ জুলাই ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
dailybadwipbangladesh
www.badwipnews.com
Scroll to Top