
সচেতনতা বৃদ্ধিতে ইউএনওর আহ্বান, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে অংশ নিল বিডি ক্লিন
এমএফএইচ রাজু | ভাণ্ডারিয়া (পিরোজপুর) প্রতিনিধি
ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিতকরণ এবং এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়ায় পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও কমিউনিটি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ডেঙ্গুমুক্ত সমাজ গঠনে জনগণের অংশগ্রহণ ও সচেতনতার ওপর গুরুত্বারোপ করে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে স্থানীয় প্রশাসন, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্বেচ্ছাসেবীরা অংশ নেন।
বুধবার (২৯ জুলাই) সকাল ১১টায় উপজেলার ৬৭ নম্বর নিজ ভাণ্ডারিয়া মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে জেলা তথ্য অফিস, পিরোজপুরের আয়োজনে, ইউনিসেফের সার্বিক সহযোগিতায় এবং বিডি ক্লিন ভাণ্ডারিয়ার বাস্তবায়নে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ভাণ্ডারিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. হাসিবুল হাসান। তিনি বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে আমাদের সবাইকে সচেতন হতে হবে এবং অন্যদেরও সচেতন করতে হবে। যেখানে-সেখানে ময়লা-আবর্জনা ফেলা যাবে না, নির্ধারিত স্থানে ময়লা ফেলতে হবে। পরিচ্ছন্ন পরিবেশ গড়ে তুলতে বিডি ক্লিনের কার্যক্রমে সকলকে সহযোগিতা করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, পরিচ্ছন্নতার বার্তা সমাজের প্রতিটি স্তরে ছড়িয়ে দিতে হবে। শিশুদের ছোটবেলা থেকেই পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার শিক্ষা দিতে হবে এবং বিদ্যালয়ভিত্তিক পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে তাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। সচেতন নাগরিক গড়ে উঠলে ডেঙ্গুসহ বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধ করা সহজ হবে।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জেলা তথ্য অফিসের প্রতিনিধি, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, উপজেলা ইন্সপেক্টর এবং উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা।
এছাড়া বক্তব্য দেন বিডি ক্লিন ভাণ্ডারিয়ার উপজেলা সমন্বয়ক মো. মেহেদী হাসান এবং ৬৭ নম্বর নিজ ভাণ্ডারিয়া মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুর রাজ্জাক।
বিডি ক্লিন ভাণ্ডারিয়ার উপজেলা সমন্বয়ক মো. মেহেদী হাসান বলেন, আর নয় যত্রতত্র ময়লা ফেলার বদ অভ্যাস। সচেতন হতে হবে আমাদের সবাইকে। আমরা হয়তো ডেঙ্গু সম্পূর্ণ নির্মূল করতে পারব না, তবে সচেতনতা ও পরিচ্ছন্নতার মাধ্যমে ডেঙ্গুর ঝুঁকি থেকে নিজেদের রক্ষা করতে পারি।
তিনি আরও বলেন, নিজ নিজ বাড়ির আঙিনা সবসময় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। প্রতিটি পরিবারে ময়লা ফেলার জন্য আলাদা ঝুড়ি বা ডাস্টবিন ব্যবহার করা উচিত। যেখানে-সেখানে আবর্জনা না ফেলে নির্ধারিত স্থানে ফেলতে হবে। ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতার বার্তা সমাজের প্রতিটি মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে হবে এবং সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
বক্তারা বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু সরকারি উদ্যোগ যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ। বাড়ির আঙিনা, ছাদ, ড্রেন, পরিত্যক্ত পাত্র ও আশপাশের পরিবেশ নিয়মিত পরিষ্কার রাখতে হবে এবং কোথাও যাতে পানি জমে না থাকে, সেদিকে বিশেষ নজর দিতে হবে।
কমিউনিটি সভায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হলে করণীয়, রোগের লক্ষণ, দ্রুত চিকিৎসা গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা, মায়েদের মধ্যে স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি এবং ঘরবাড়ি ও আশপাশের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। সভায় ডেঙ্গুর বিস্তার রোধে বাসাবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও জনসমাগমস্থলে জমে থাকা পানি অপসারণ, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং জনগণের মধ্যে সচেতনতামূলক প্রচারণা জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
একই সঙ্গে কিশোর-কিশোরী ও যুব স্বেচ্ছাসেবকদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে মাঠপর্যায়ে সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের বিষয়েও আলোচনা করা হয়।
অনুষ্ঠানে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক, বিডি ক্লিন ভাণ্ডারিয়ার স্বেচ্ছাসেবক এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা অংশগ্রহণ করেন।
সভা শেষে জেলা তথ্য অফিসের কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণে বিডি ক্লিন ভাণ্ডারিয়া টিম বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ ও আশপাশের এলাকায় পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় ঝোপঝাড় পরিষ্কার, আবর্জনা অপসারণ এবং ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালিত হয়। পরিচ্ছন্নতা অভিযানে জেলা তথ্য কর্মকর্তা নিজেও অংশগ্রহণ করেন এবং সবাইকে পরিচ্ছন্ন পরিবেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
অংশগ্রহণকারীরা বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে ব্যক্তিগত সচেতনতা ও সামাজিক উদ্যোগ একসঙ্গে কাজ করলে এ রোগের বিস্তার অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। অনুষ্ঠানের শেষে সবাই ডেঙ্গুমুক্ত, পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যসম্মত ভাণ্ডারিয়া গড়ে তুলতে নিজ নিজ অবস্থান থেকে সচেতনতা সৃষ্টি এবং নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।