
আবুল হাশেম বান্দরবান প্রতিনিধি
বান্দরবানের লামা উপজেলায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য বরাদ্দকৃত সরকারি চাল বিতরণে ব্যাপক অনিয়ম ও চুরির অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে।
এ ঘটনায় প্রতিকার ও জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়ে লামা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) বরাবাবে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।

লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, বান্দরবান পার্বত্য জেলার জেলা প্রশাসক কার্যালয় কর্তৃক লামা উপজেলার ২ নম্বর লামা সদর ইউনিয়নের বন্যা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে পরিবারপ্রতি ২০ কেজি হারে চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়। গত ৩ আগস্ট (২০২৬) উক্ত চাল বিতরণ কর্মসূচি পরিচালিত হয়। অভিযোগ উঠেছে, ২ নম্বর লামা সদর ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান এবং সংশ্লিষ্ট ৩, ৪ ও ৫ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বাররা এই চাল বিতরণে ব্যাপক অনিয়ম ও কারচুপি করেছেন। বন্যার্ত ও ক্ষতিগ্রস্তদের সরকারি তালিকা থাকা সত্ত্বেও সিংহভাগ পরিবার বরাদ্দকৃত ২০ কেজি চাল পাননি।
ভুক্তভোগী এলাকাবাসী জানান, প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের বঞ্চিত করে চাল আত্মসাৎ ও নয়ছয় করা হয়েছে। উক্ত অনিয়মের বিষয়ে তাদের কাছে পর্যাপ্ত তথ্য-প্রমাণ ও সাক্ষী রয়েছে বলে তারা অভিযোগে উল্লেখ করেন।
এ নিয়ে গতকাল ৪ আগস্ট (২০২৬) এলাকাবাসীর পক্ষে মো. ফজল আলী, আরিফ, মো. নুরুল ইসলাম ও দিপায়ন নাথসহ স্থানীয় বাসিন্দারা যৌথ স্বাক্ষরে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে একটি লিখিত আবেদন জমা দেন।এলাকাবাসীর দাবি, বন্যা পরবর্তী এই কঠিন সময়ে সরকারি ত্রাণ নিয়ে এমন দুর্নীতি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে দোষী চেয়ারম্যান ও মেম্বারদের বিরুদ্ধে দ্রুত প্রয়োজনীয় ও স্থায়ী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
ত্রাণ বিতরণে অনিয়ম ও সরকারি চাল আত্মসাতের এই গুরুতর অভিযোগের বিষয়ে জানতে ২ নং লামা সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. শহিদুল ইসলামের ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে এ বিষয়ে তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।