মঙ্গলবার ১৫ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ৩১শে ভাদ্র, ১৪৩৩

বিয়ানীবাজার সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে দুর্নীতির রাজত্ব: জয়নাল আবেদীনের সিন্ডিকেটে জিম্মি সাধারণ মানুষ

[print_bangla]

 

এম এ রশীদ বিশেষ প্রতিনিধি:

​সিলেট জেলার বিয়ানীবাজার সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে যোগদানের পর থেকেই যেন ক্ষমতার অপব্যবহার, ঘুষ ও দুর্নীতির এক মূর্তিমান আতঙ্ক হয়ে উঠেছেন সাব-রেজিস্ট্রার মো. জয়নাল আবেদীন। ২০২২ সালের ২০ জুলাই এই কার্যালয়ে যোগ দেওয়ার পর থেকেই তিনি নিজেকে তৎকালীন ক্ষমতাসীন দলের প্রভাবশালী নেতা, ফেনী-২ আসনের সাবেক এমপি জয়নাল হাজারীর বিশ্বস্ত নিকটাত্মীয় এবং ফেনী জেলা ছাত্র ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি হিসেবে পরিচয় দিয়ে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেন। তৎকালীন সময়ে অফিসের প্রতিটি দেওয়ালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি ঝুলিয়ে পুরো কার্যালয়কে দলীয় আস্তানায় পরিণত করেছিলেন এই কর্মকর্তা। অথচ ২০২৪ সালের ঐতিহাসিক ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতার পটপরিবর্তন ঘটতেই তাঁর খোলস পাল্টে যায়! রাতারাতি গায়ে জড়ান লম্বা পাঞ্জাবি-পায়জামা, মাথায় টুপি চাপিয়ে নিয়মিত বিয়ানীবাজার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে যাতায়াত শুরু করেন এবং নিজেকে সাধু-সাজে সাজার এক অভিনব নাটক মঞ্চস্থ করে চলেছেন। ​আফিসের ভেতরে চলছে দলিল রেজিস্টারির নামে প্রকাশ্য লুটপাট ও ঘুষের মহোৎসব। নিয়মবহির্ভূতভাবে সাফ কবালা দলিলের ক্ষেত্রে রেকর্ডীয় ভূমি বাড়ি শ্রেণির ও ঘর থাকা সত্ত্বেও দলিল লেখকদের সিন্ডিকেটের মাধ্যমে মোটা অঙ্কের টাকার চুক্তিতে অন্য শ্রেণি দেখিয়ে রেজিস্ট্রি লোপাট করা হচ্ছে। বাটোয়ারা, দানপত্র ও হেবা ঘোষণা পত্রের মতো সংবেদনশীল দলিলগুলোর ক্ষেত্রেও রেহাই মিলছে না; নির্দিষ্ট কিছু দলিল লেখকের মাধ্যম ছাড়া এখানে কোনো ফাইলই নড়ে না। আরও ভয়ংকর বিষয় হলো, দলিল লেখকদের যোগসাজশে উত্তরাধিকারী সনদ দিয়ে টাকা দিলে দলিল রেজিস্ট্রার হয়। প্রতিটা দলিল রেজিষ্টারের পূর্বে তিনির সাথে আলাপ করে ঘুষের টাকা নির্ধারণ করে রেজিস্ট্রার করতে হয়। ইচ্ছাকৃতভাবে জমির শ্রেণি পরিবর্তন করা হচ্ছে—বাড়ির মূল্যবান জমিকে আমন, আমন জমিকে চারা এবং চারা জমিকে বোরে জমিতে রূপান্তর করে সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে পকেট ভারী করছেন এই দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা।

​সরকারি বিধিমালা ও অফিস আওয়ারকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে নিজের খামখেয়ালি মতো অফিস পরিচালনা করছেন জয়নাল আবেদীন। সপ্তাহে নামমাত্র দুই দিন (কখনও রবি-সোম, কখনও মঙ্গল-বুধ, আবার কখনও বৃহস্পতিবার) অফিসে উপস্থিত হয়েই তিনি দায়িত্ব সারেন, আবার মাঝেমধ্যে গোপনীয়তার আড়ালে শুক্র ও শনিবারও অফিস করার চাঞ্চল্যকর তথ্য রয়েছে। সরকারি নিয়মে সকাল ১০টায় অফিস শুরু হওয়ার কথা থাকলেও তিনি মহানন্দে অফিসে আসেন দুপুর ১টার পর, অর্থাৎ জোহরের নামাজের পর। অথচ অফিস ত্যাগের নির্ধারিত সময় বিকেল ৪টা হলেও তিনি গভীর রাত ১০টা পর্যন্ত অফিসকক্ষ আঁকড়ে থাকেন এবং সপ্তাহে ৩ থেকে ৪ বার অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটে ঢাকা-সিলেট আসা-যাওয়া করেন।

​তাঁর এই স্বেচ্ছাচারিতা ও দুর্নীতির প্রতিবাদ করার বিন্দুমাত্র সাহস কারও নেই। কোনো দলিল লেখক বা ভুক্তভোগী সামান্য প্রতিবাদ করার দুঃসাহস দেখালেই তাদের লাইসেন্স বাতিল এবং অফিসে প্রবেশ আজীবনের মতো নিষিদ্ধ করার নগ্ন হুমকি দেন তিনি। শুধু তাই নয়, অসুস্থ বা চলাচলে অক্ষম দাতা-গ্রহীতার ক্ষেত্রে নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে কমিশনের দলিল দাখিল করতে গেলেও সাব-রেজিস্ট্রার মো. জয়নাল আবেদীনকে সরাসরি পকেটস্থ করতে হয় ৪০ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত উৎকোচ। এই দুর্নীতিবাজ সাব-রেজিস্ট্রার জয়নাল আবেদীনের লাগামহীন ঘুষ বাণিজ্য, ক্ষমতার অপব্যবহার ও সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্যে বিয়ানীবাজার উপজেলার সাধারণ নাগরিকরা আজ চরম ভোগান্তি ও হয়রানির শিকার। অবিলম্বে এই লুণ্ঠনকারী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করে বিয়ানীবাজার সাব-রেজিস্ট্রার অফিসকে দুর্নীতিমুক্ত করতে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন মহলের জরুরি ও কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী। ​আরো অভিযোগ করেন, বিয়ানীবাজার উপজেলার নাগরিক দের পক্ষে সু- শাসনের জন্য নাগরিক ( সুজন ) বিয়ানীবাজার উপজেলার সভাপতি এডভোকেট আমান উদ্দিন। মন্ত্রী মহোদয়, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রনালয়, ঢাকা, বাংলাদেশ এবং মাননীয় চেয়ারম্যান / উপপরিচালক, দুর্নীতি দমন কমিশন ( দুদক) প্রধান কার্যালয়ে, ১, সেগুনবাগিচা, ঢাকা ১০০০০, সাব-রেজিস্ট্রার মোঃ জয়নাল আবদীন এর ঘুষ, দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযোগ দাখিল করা হয়। পর্ব (১)
সূত্র দৈনিক আজকের বসুন্ধরা

Share this news as a Photo Card

Share it :

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

বিয়ানীবাজার সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে দুর্নীতির রাজত্ব: জয়নাল আবেদীনের সিন্ডিকেটে জিম্মি সাধারণ মানুষ

১১ আগস্ট ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
dailybadwipbangladesh
www.badwipnews.com
Scroll to Top