
মোরশেদ কক্সবাজার থেকে
কক্সবাজারের চকরিয়া থানাধীন লক্ষ্যারচর ইউনিয়নের জিদ্দাবাজার স্টেশনে এক সাংবাদিক ও তাঁর সহকর্মীর ওপর হামলা চালিয়েছে একদল সন্ত্রাসী। এ সময় চেম্বারে ভাঙচুর, নগদ অর্থ ও মোবাইল ছিনতাই এবং বাধা দিতে গিয়ে এক বৃদ্ধা মায়ের আহত হওয়ার ঘটনা ঘটে।
আজ ২২ আগস্ট ২০২৬ ইং তারিখ বিকাল আনুমানিক ৩:৪৫ ঘটিকার সময় লক্ষ্যারচর ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের জিদ্দাবাজার স্টেশনস্থ মরহুম ডা. মাসুদ সরওয়ারের ‘জার্মান বাংলা হোমিও ফার্মেসী’ নামক চেম্বারের ভেতরে এই হামলার ঘটনা ঘটে।
আহত সাংবাদিক ও মামলার বাদী আদিল আহামেদ চৌধুরী (৩৯) দৈনিক আমার সংবাদ ও দৈনিক দৈনন্দিন পত্রিকার বিশেষ প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত আছেন।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, হামলায় অভিযুক্ত প্রধান আসামীরা হলেন
১। নুর মোহাম্মদ মানিক (৫২),
২। মো. বাবুল (৪০), ৩। শফি উল্লাহ (৪০),
৪। আমান উল্লাহ (৩৫), ৫। মো. সমশু (৪৯),
৬। আবু তাহের (৩৫)
সহ অজ্ঞাতনামা আরও ৪০/৫০ জন ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসী।
ভুক্তভোগী সাংবাদিক আদিল আহামেদ চৌধুরী জানান, অভিযুক্তদের বিভিন্ন অপকর্ম ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ করার জেরে তারা দীর্ঘদিন ধরে ক্ষিপ্ত ছিল এবং বিভিন্নভাবে হুমকি দিয়ে আসছিল।
ঘটনার দিন সাংবাদিক আদিল আহামেদ, তাঁর সহকর্মী ও ২নং সাক্ষী (যিনি পেশায় সাংবাদিক ও জখমী), বৃদ্ধা মা এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা ওই হোমিও চেম্বারে উপস্থিত হয়ে পরিদর্শণকালে অতর্কিতভাবে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র (দা, কিরিচ, লোহার রড, হাতুড়ি ও লাঠিসোটা) নিয়ে হামলা চালায় সন্ত্রাসীরা।
হামলাকারীরা চেম্বারের ভেতরে প্রবেশ করে বাদী ও তাঁর সহকর্মীকে হত্যার উদ্দেশ্যে মাথায় এবং শরীরের বিভিন্ন অংশে উপর্যপুরি আঘাত করে গুরুতর জখম করে। এ সময় শোরগোল শুনে সদ্য সন্তানহারা শোকাচ্ছন্ন ও হৃদরোগে আক্রান্ত ৮৫ বছর বয়সী বৃদ্ধা মা (বেগম নূরী) এগিয়ে আসলে তাঁকে ধাক্কা দিয়ে ফ্লোরে ফেলে দেওয়া হয়, ফলে তিনি অজ্ঞান হয়ে পড়েন। এছাড়া তাঁর ভ্যানেটি ব্যাগে থাকা একটি স্মার্টফোন (মূল্য ১২,০০০ টাকা) ও নগদ ২,৫০০ টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়।
সন্ত্রাসীরা চেম্বারে থাকা মূল্যবান চিকিৎসা সরঞ্জাম এবং জার্মান হোমিও ওষুধের কাঁচের বোতল ভাঙচুর করে আনুমানিক ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকার ক্ষয়ক্ষতি করে। লাইভ সম্প্রচার দেখে ঘটনাস্থলে ছুটে আসা আরেক ভাই ও সাক্ষীকেও পিটিয়ে জখম করা হয়।
স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হয়। বর্তমানে আসামিরা মামলা না করার জন্য বিভিন্নভাবে হুমকি-ধমকি দিচ্ছে বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী সাংবাদিক বাদী হয়ে চকরিয়া থানায় একটি লিখিত এজাহার দায়ের করেছেন।
এদিকে সাংবাদিক মহল ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সাংবাদিকদের কণ্ঠ রোধ করতে এবং সত্য প্রকাশে বাধা দিতে এ ধরনের ন্যাক্কারজনক হামলা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।
প্রকাশ্য দিবালোকে এমন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড সমাজ ও আইনের শাসনের ওপর সরাসরি এক মারাত্মক হুমকি।
সাংবাদিক ইউনিট সমাজ ও রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এই ন্যাক্কারজনক হামলার তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করছে। পাশাপাশি, অবিলম্বে প্রধান অভিযুক্ত নুর মোহাম্মদ মানিকসহ সকল সন্ত্রাসীকে দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোর দাবি জানিয়েছেন সাংবাদিক মহল।