
জহির রায়হান, কাউনিয়া (রংপুর) প্রতিনিধি-
রংপুরে ডিজিটাল যুগে নির্ভরযোগ্য ও সঠিক তথ্যপ্রাপ্তি নিশ্চিত এবং অপতথ্য মোকাবিলায় তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯-এর কার্যকর বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন রংপুরের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা। তাঁরা বলেন, তথ্যের অবাধ প্রবাহ, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা গেলে নাগরিকের ক্ষমতায়ন, জন অংশগ্রহণ এবং পরিবেশগত ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার পথ আরও সুগম হবে। আন্তর্জাতিক তথ্য অধিকার দিবস ২০২৬ উপলক্ষে রোববার সকালে রংপুরের এনজিও ফোরাম মিলনায়তনে বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা) আয়োজিত আলোচনা সভা ও ফোকাস গ্রুপ ডিসকাশনে (এফজিডি) বক্তারা এসব কথা বলেন। এবারের দিবসের প্রতিপাদ্য ছিল ‘ডিজিটাল যুগে সঠিক তথ্য নিশ্চিতকরণ: অপতথ্য রোধে তথ্য অধিকারের ভূমিকা।’ একই দিনে অনুষ্ঠিত এফজিডির বিষয় ছিল ‘তথ্য অধিকার: জ্ঞান থেকে প্রয়োগ—অভিজ্ঞতা, সুযোগ ও প্রতিবন্ধকতা। আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন নিত্য বিকাশ কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক রোজী বেগম। বক্তব্য দেন দৈনিক সকালের বাণীর প্ল্যানিং এডিটর ফরহাদুজ্জামান ফারুক, ডপসের নির্বাহী পরিচালক উজ্জ্বল চক্রবর্তী, শিক্ষক শুক্লা চ্যাটার্জী, দৈনিক দাবানলের স্টাফ ফটো সাংবাদিক রঞ্জিত দাস, নিউ নেশনের রংপুর প্রতিনিধি আব্দুর রহমান মিন্টু, শিক্ষার্থী মোহছিনা আক্তার, আজমাইন ইসলাম ও সাজিদ আহমেদ রাব্বি। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের সমন্বয়কারী তন্ময় কুমার সান্যাল। আলোচনা সভা ও এফজিডিতে শিক্ষার্থী, এনজিওকর্মী, যুব সংগঠক, পরিবেশকর্মী ও সাংবাদিকরা অংশ নেন। বক্তারা বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, অনলাইন সংবাদমাধ্যম এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে তথ্য দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। একই সঙ্গে ভুল, বিভ্রান্তিকর ও বিকৃত তথ্যও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে তথ্যের উৎস ও সত্যতা যাচাইয়ের সুযোগ তৈরি, নির্ভরযোগ্য ও সময়োপযোগী সরকারি তথ্য প্রকাশ এবং নাগরিকদের তথ্য যাচাইয়ের সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি। আলোচনায় তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯-এর গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়। নাগরিকের তথ্য পাওয়ার অধিকার, স্বতঃপ্রণোদিতভাবে তথ্য প্রকাশ, তথ্য চাওয়ার আবেদন, নির্ধারিত সময়ে তথ্য প্রদান এবং তথ্য না পেলে আপিল ও অভিযোগ করার সুযোগ নিয়ে আলোচনা করেন বক্তারা। তাঁরা বলেন, তথ্য অধিকার আইনের এসব বিধানের কার্যকর প্রয়োগ সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এফজিডিতে আইনে স্বীকৃত তথ্য পাওয়ার অধিকার এবং বাস্তবে তথ্য পাওয়ার অভিজ্ঞতার মধ্যকার পার্থক্য নিয়েও আলোচনা হয়। অংশগ্রহণকারীরা তথ্যের প্রাপ্যতা, দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সহযোগিতা, তথ্যের মান ও পূর্ণতা এবং নির্ধারিত সময়সীমা নিয়ে নিজেদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। তথ্য পাওয়ার ক্ষেত্রে জনসচেতনতার ঘাটতি, আবেদন প্রক্রিয়ার জটিলতা, সময় ও ব্যয়, প্রশাসনিক অনাগ্রহ এবং তথ্য চাইতে গিয়ে হয়রানি বা চাপের আশঙ্কাকে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবন্ধকতা হিসেবে উল্লেখ করেন অংশগ্রহণকারীরা। আলোচনায় সরকারি সিদ্ধান্ত, সরকারি ব্যয়, উন্নয়ন প্রকল্প, জনসেবা এবং পরিবেশগত ব্যবস্থাপনা পর্যবেক্ষণে তথ্য অধিকার ব্যবহারের মাধ্যমে নাগরিক ও নাগরিক সমাজের ভূমিকা আরও কার্যকর করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। একই সঙ্গে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সক্ষমতা বৃদ্ধি, তথ্য ব্যবস্থাপনা ও সংরক্ষণ, নিয়মিত মনিটরিং, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং আপিল ও অভিযোগ নিষ্পত্তির ব্যবস্থা আরও কার্যকর করার সুপারিশ করা হয়।
বক্তারা বলেন, তথ্য অধিকারকে শুধু একটি আইনগত অধিকার হিসেবে দেখলে হবে না; বরং নাগরিক অংশগ্রহণ, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার কার্যকর হাতিয়ার হিসেবে এর ব্যবহার বাড়াতে হবে। ডিজিটাল যুগে নির্ভরযোগ্য তথ্যের প্রবাহ নিশ্চিত করা গেলে অপতথ্যের বিস্তার কমানোর পাশাপাশি একটি সচেতন, অংশগ্রহণমূলক ও জবাবদিহিমূলক সমাজ গঠনে তথ্য অধিকার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। জে/এ