
ফয়সাল, স্টাফ রিপোর্টারঃ
বগুড়ার ধুনট উপজেলায় মসজিদের জায়গা নিয়ে দ্বন্দ্বে দু’পক্ষের মাঝে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, সংঘর্ষ ও মসজিদ ভাংচুরের ঘটনায় পাল্টাপাল্টি ২টি মামলা দায়ের হয়েছে।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকালে উভয়পক্ষ বাদি হয়ে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করেন। এ সব মামলায় একই গ্রামের আসামি শতাধিক। এসব মামলার আসামিরা গ্রেফতার এড়াতে গ্রাম ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। ফলে পুরুষ শূণ্য হয়ে পড়েছে পুরো গ্রাম।
মামলা ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার রামনগর পশ্চিমপাড়া এলাকায় ২০০১ সালে স্থানীয়রা মিলে টিনের তৈরী একটি মসজিদ নির্মান করে। তবে মসজিদটি যাতায়াতের সুবিধার্থে মসজিদের ক্রয়কৃত নির্ধারিত স্থানে নির্মাণ না করে ২০০ মিটার অদুরে নির্মান করা হয়। পরবর্তীতে মসজিদের জায়গা নিয়ে তাদের মধ্যে দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়ে দুটিপক্ষে ভাগ হয়ে যায়। পরে মসজিদের নির্ধারিত স্থানে অন্য পক্ষ ২০২১ সালে আরেকটি নতুন টিনের তৈরী মসজিদ নির্মাণ করেন।
এ ঘটনা নিয়ে দু’পক্ষের মাঝে বিরোধ আরো তুঙ্গে গিয়ে দাড়ায়। এ অবস্থায় শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) জুমার নামাজ আদায় শেষে মুখোমুখি অবস্থানের এক পর্যায়ে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষ বাধে। এসময় ২০২১ সালে নির্মিত মসজিদটি ভাঙচুর করে মাইক, ফ্যানসহ যাবতীয় জিনিসপত্র লন্ডভন্ড করা হয়েছে। সংঘর্ষে উভয়পক্ষের আহত হয়েছে কমপক্ষে ৯ জন।
এ ঘটনায় রামনগর গ্রামের মোজাম্মেল হক আকন্দ বাদি হয়ে থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় রামনগর গ্রামের টিন ব্যবসায়ী আবুল কালাম আজাদ সহ ৭ জনের নাম উল্লেখ পূর্বক অজ্ঞাত আরো ৩৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।
অপরপক্ষের রামনগর গ্রামের জাহিদুল ইসলাম বাদি হয়ে থানায় পৃথক একটি মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় একই গ্রামের ওয়াসিম প্রামানিক সহ ১৯ জনের নাম উল্লেখ পূর্বক অজ্ঞাত আরো ৬০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
ধুনট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুল ইসলাম বলেন, পৃথক দু’টি মামলার আসামিদের গ্রেফতারের জন্য অভিযান চলমান রয়েছে।