
জহির রায়হান, কাউনিয়া (রংপুর) প্রতিনিধি-
তিস্তা নদীর পানি বাড়লে বুকটা মোর ধুকধুক ধুকপুক করে। এই বুঝি কষ্টের পাকা ধান পানিত তলেয়া নষ্ট হয়ে যায়। এ কথা গুলো আঞ্চলিক ভাষায় বলছিলেন কাউনিয়ার বালাপাড়া ইউনিয়নের দ্বীপ এলাকা ঢুষমারার চরের কৃষক নজরুল ইসলাম। তিনি আরো বলেন এখন তিস্তার চরের বেশির ভাগ জমির আগুর জাতের ধান পাকি গেইছে চলতি সপ্তাহের মধ্যে পুরো দমে ধান কাটা মাড়াই শুরু হয়া যাইবে। তার মধ্যেই তিস্তার পানি বাড়ি পাকা ধানের খ্যাত তলে গেইছে। আরো বেশি করি যদিপানি বাড়ে তা হইলে হামার গুলার সর্বনাশ হয়া যাইবে। রোববার দুপুরে ঢুষমারার চরে গিয়ে দেখা অনেক পাকা খেত পানির মধ্যে তলিয়ে গেছে। কিছু খেতের ধানের শীষ তলিয়ে যাওয়ার পর্যায়ে রয়েছে।
ফলে উপজেলার তিস্তা চরাঞ্চলের কৃষকেরা পাকা ধান নিয়ে আতঙ্কে রয়েছেন । ফসল ঘরে তোলার ঠিক আগ মুহূর্তে পানি আরো বেড়ে গেলে নিচু জমির পাকা ধান তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে তাদের। চরাঞ্চলের কৃষক আমীর আলী জানান চলতি মৌসুমে চরাঞ্চলের জমিতে লাগানো আগাম জাতের ব্রি-৭৫ ব্রি-৩৩ জাতের ধান পাকতে শুরু করেছে। আর কয়েকদিনের মধ্যেই এসব ধান কাটার কথা রয়েছে। এরই মধ্যে নদীর পানি কমা বাড়া করায় কৃষকদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
চরাঞ্চলের কৃষকরা আরো জানান, চরাঞ্চলের অনেক জমি নদীর কাছাকাছি ও নিচু হওয়ায় হঠাৎ পানি বেড়ে গেলে দ্রুত তা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এতে পাকা ধান পানিতে ডুবে গেলে কষ্টের ফসল ঘরে তোলার আগেই নষ্ট হয়ে যেতে পারে।
কৃষক মকবুল হোসেন বলেন, যখন পানির দরকার হয়, তখন পানি পাওয়া যায় না। আবার যখন ফসল ঘরে তোলার সময় আসে, তখন ভারত পানি ছেড়ে দিয়ে আমাদের দুশ্চিন্তার ফেলে দেয়। কয়েকদিন পর ধান কাটার কথা। তার আগ পর্যন্ত আতঙ্কেই থাকতে হচ্ছে আমাদের কে। জসিম উদ্দিন নামে এক কৃষক বলেন, “সারা বছর পরিশ্রম করে ধান ফলিয়েছি। এখন শুধু ঘরে তোলার অপেক্ষা। এই সময়ে নদীর পানি বেড়ে যাওয়ায় আমাদের বড় ধরনের ক্ষতি হয়ে যাবে।
কৃষকদের দাবি, পাকা ধান ঘরে তোলা পর্যন্ত তিস্তা নদীর পানির পরিস্থিতি নিয়মিত নজরদারিতে রাখা এবং পানি বৃদ্ধির আশঙ্কা দেখা দিলে চরাঞ্চলের কৃষকদের দ্রুত সতর্ক করার ব্যবস্থা করতে হবে। কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে চলতি মৌসুমে এ উপজেলায় ১১ হাজার ৪শ৬০ হেক্টর জমিতে আমন ধানের চাষ করা হয়েছে। এর মধ্যে চরাঞ্চলে ১ হাজার ৯শ’ ৫ হেক্টর জমিতে আগাম জাতের ধান চাষ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে বালাপাড়া ইউনিয়নে কর্মরত উপসহকারী কৃষি অফিসার মোঃ মনিরুজ্জামান বলেন, বালাপাড়া ইউনিয়নের চরগুলোতে আগাম জাতের বোনা আমন ধান ইতিমধ্যেই কর্তন শুরু হয়েছে। আগামী সপ্তাহের মধ্য ধান কাটা প্রায় শেষ হয়ে যাবে। তিস্তার পানি হঠাৎ অতিমাত্রায় বৃদ্ধি না পেলে ক্ষতির আশংকা কম হবে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ সালাহউদ্দিন বলেন, তিস্তার চরাঞ্চলের পাকা ধান দ্রুত কাটার জন্য কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। নদীর পানি বৃদ্ধি বা বন্যার আশঙ্কা থাকলে কৃষকদের আগাম সতর্ক করা হবে। কৃষকরা যাতে দ্রুত পাকা ধান ঘরে তুলতে পারেন, সে বিষয়ে মাঠপর্যায়ে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এদিকে, তিস্তা নদীর পানির ওঠানামা, ভাঙন ও জলাবদ্ধতার কারণে দীর্ঘদিন ধরে চরাঞ্চলের মানুষের জীবন-জীবিকা অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে। এসব সমস্যা থেকে স্থায়ীভাবে রক্ষা পেতে দ্রুত তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় কৃষকরা। জে/এ