বৃহস্পতিবার ৩০শে জুলাই, ২০২৬ ১৫ই শ্রাবণ, ১৪৩৩

দিরাইয়ে জব্দকৃত মদ জিম্মায় দেওয়ার নির্দেশ আদালতের, ​রাসায়নিক পরীক্ষা ছাড়া বুঝে নিতে নারাজ লাইসেন্সধারী

[print_bangla]

সুনামগঞ্জ​ প্রতিনিধিঃ

সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে দীর্ঘ ৪ মাস পুলিশি হেফাজতে থাকা ১ হাজার ৫২০ লিটার দেশি মদ ৫ লাখ টাকার বন্ডে লাইসেন্সধারীর জিম্মায় হস্তান্তরের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। তবে আদালতের এই আদেশের পর নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে মদের গুণগত মান নিয়ে।

দীর্ঘ সময় থানার খোলা আকাশের নিচে রোদে পুড়ে ও বৃষ্টিতে ভিজে মদের গুণগত মান ও সুরা শক্তি (অ্যালকোহল ঘনত্ব) নষ্ট হওয়ার আশঙ্কায় এখন রাসায়নিক পরীক্ষা ছাড়া তা বুঝে নিতে চাইছেন না সংশ্লিষ্ট লাইসেন্সধারী।

​আদালতের আদেশ সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ৩১শে ডিসেম্বর দিরাই পৌরসভার হারানপুর এলাকার লাইসেন্সধারী নিরঞ্জন সাহা দেশি মদের দোকান থেকে ১৫২০ লিটার মদ জব্দ করে পুলিশ।

এরপর দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে গত ৫ই মে সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ জসিম এক আদেশে জব্দকৃত মদ শর্তসাপেক্ষে আবেদনকারীর জিম্মায় দেওয়ার নির্দেশ দেন। আদেশে নমুনা হিসেবে কিছু মদ রেখে বাকিটা ৫ লাখ টাকার জিম্মানামা সাপেক্ষে ৩ কার্যদিবসের মধ্যে হস্তান্তরের জন্য দিরাই থানার ওসিকে নির্দেশ দেওয়া হয়।

​তবে এই নির্দেশনার পরই মদের বর্তমান অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরে আবেদন করেছেন লাইসেন্সধারী নিরঞ্জন সাহা। তিনি বলেন, “আদালত আমাকে মালামাল বুঝে নেওয়ার আদেশ দিয়েছেন, এতে আমি কৃতজ্ঞ। কিন্তু দীর্ঘ ৪ মাস খোলা জায়গায় পড়ে থাকায় মদের কার্যকারিতা নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। নষ্ট মদ পারমিটধারীদের কাছে বিক্রি করলে জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি হতে পারে। তাই হস্তান্তরের আগে ল্যাব টেস্ট (পরিক্ষা) জরুরি।

​এ বিষয়ে দিরাই থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এনামুল হক চৌধুরী বলেন, “আমরা বিজ্ঞ আদালতের আদেশের কপি হাতে পেয়েছি। আদালত যেভাবে নির্দেশনা দিয়েছেন, সে অনুযায়ী জব্দকৃত আলামত হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে। পুলিশ সবসময় আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং আদালতের প্রতিটি নির্দেশ যথাযথভাবে পালন করতে আমরা বদ্ধপরিকর।

​অন্যদিকে, সুনামগঞ্জ জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিদর্শক মো. আবদুর রহমান সজীব (সজীব ভূঁইয়া) বলেন, “লাইসেন্সধারীর পক্ষ থেকে একটি লিখিত আবেদন আমরা পেয়েছি। জব্দকৃত মদের বর্তমান গুণগত মান এবং অ্যালকোহলের ঘনত্ব নিশ্চিত করার জন্য রাসায়নিক পরীক্ষার প্রয়োজনীয়তার কথা সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে। আমরা বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখছি। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী ল্যাবে নমুনা পাঠিয়ে মদের পরীক্ষা সম্পন্ন করার বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
​এখন দেখার বিষয়, আদালতের নির্দেশ বাস্তবায়নের আগে জনস্বার্থ ও লাইসেন্সধারীর এই যৌক্তিক আবেদন বিবেচনায় নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ চূড়ান্তভাবে কী ব্যবস্থা গ্রহণ করে।

Share this news as a Photo Card

Share it :

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

দিরাইয়ে জব্দকৃত মদ জিম্মায় দেওয়ার নির্দেশ আদালতের, ​রাসায়নিক পরীক্ষা ছাড়া বুঝে নিতে নারাজ লাইসেন্সধারী

০৮ মে ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
dailybadwipbangladesh
www.badwipnews.com
Scroll to Top