
সোহরাব সবুজ, স্টাফ রিপোর্টার:
বুক ভরা স্বপ্ন নিয়ে সুদূর লেবাননে পাড়ি জমিয়ে ছিলেন সাতক্ষীরার শফিকুল ইসলাম ও নাহিদুল ইসলাম। কিন্তু ইসরাইলের নির্মম এক ড্রোন হামলা কেড়ে নিল তাদের প্রাণ, থামিয়ে দিল দুটি পরিবারের সব স্বপ্ন ও আশা।
লেবাননের জেবদিন এলাকায় ইসরায়েলি বাহিনীর বর্বর হামলায় নিহত এই রেমিট্যান্স যোদ্ধারদের বাড়িতে যেয়ে দেখা যায় এখন বইছে শোকের মাতম। সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ধুলিহর ইউনিয়নের ভালুকা চাঁদপুর গ্রামের আফসার আলীর ছেলে শফিকুল ইসলাম (৪০) পরিবারের মুখে হাসি ফোটাতে বিভিন্ন জায়গা থেকে প্রায় ১০ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে মাত্র দুই মাস আগে, গত ৩ মার্চ লেবাননে যান।
মঙ্গলবার (১২) মে দিবাগত রাতে ৮ টার সময় লেবাননের জেবদিন এলাকায় কর্মস্থলে কাজ করার সময় ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় ঘটনাস্থলেই তাদের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়। নিহতের বাড়িতে এখন শুধুই কান্নার আহাজারি। একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে বার বার মূর্ছা যাচ্ছেন মা আজেয়া খাতুন। শোকে স্তব্ধ বাবা আফসার আলী এবং তার স্ত্রী রুমা খাতুনও। শফিকুল পেশায় ছিলেন একজন দিনমজুর। তার জমি জমা বলতে ছিল তিন কাটার মধ্যে একটি আধা পাকা বাড়ি।
একদিকে সন্তানের মৃত্যু, অন্য দিকে মাথার ওপর প্রায় ১০ লাখ টাকার ঋণের বোঝা-সব মিলিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছে পুরো পরিবার। আত্মীয়-স্বজন ও গ্রামবাসীরা দ্রুত শফিকুলের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন। শেষ বারের মতো সন্তানের মুখ দেখতে এবং নিজ গ্রামের মাটিতে দাফন সম্পন্ন করতে সরকারের সহযোগিতা কামনা করেছেন তারা। ধুলিহর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মিজান চৌধুরী জানান, প্রবাসী আফসার আমার ওয়ার্ডের। আফসার মানুষ হিসেবে একজন ভালো মানুষ। তার একমাত্র ছেলে শফিকুল ইসলাম। শফিকুলের মৃত্যুতে আমরা সবাই শোকাহত। তার দুই সন্তান রেখে গেছে, দুইটিই কন্যা সন্তান। তারা গরিব পরিবার।
অপর দিকে আশাশুনি উপজেলার কাদাকাটি গ্রামর নাহিদুল ইসলাম (২০), আব্দুল কাদের ও নুরুন্নাহার খাতুন দম্পতির ছেলে বলে জানা যায়। উপজেলা নির্বাহী অফিসার অর্ণব দত্ত বলেন, আমাদের সাতক্ষীরা প্রবাসী দুইজন রেমিটেন্স যোদ্ধা তারা লেবাননের দক্ষিণ অঞ্চলে বিমান হামলায় প্রাণ হারিয়েছে। এর মধ্যে একজন আমাদের সাতক্ষীরা সদরের সন্তান। তিনি বলেন, তিনিই ছিলেন পরিবারের একমাত্র সম্বল। সেক্ষেত্রে জেলা প্রশাসক উপজেলা প্রশাসক সর্বোচ্চ যতটা সাহায্যে তাদেরকে করতে পারেন তা করবে। তার পাশাপাশি তাদের লাশ বাংলাদেশে নিয়ে আসার একটা ব্যপার রয়েছে। সে বিষয়ে আমরা এখনি তাদের মাধ্যমে প্রবাসী কল্যাণ কর্মসংস্থান মন্ত্রনালয়ের সচিব বরাবর আমরা আবেদন করেছি বলে জানান তিনি।