
মায়াঞ্জলি
ইয়াসমিন অজান্তা
নীলিমার ওপারে যে গহন ব্যাকুলতা জাগে,
সেখানে আমার প্রেম আদিম ও অনাদি অনুরাগে।
তুমিহীন এই বুকে চলে এক মরুর ক্রন্দন,
তোমার ছোঁয়াতেই টুটে যায় নিয়তির বন্ধন।
আমি তোমায় ভালোবেসে হয়েছি মায়ায় দিশেহারা,
তোমার নয়ন দুটি আমার আঁধার রাতের তারা।
যদি তুমি ছুঁয়ে দাও আমার এই থমকে যাওয়া হাত,
মুহূর্তেই কেটে যাবে বিরহের কোটি কালরাত।
তোমার ওই নিবিড় চিবুক, চোখের মায়াবী চাদর,
আমায় জড়িয়ে রাখে দিয়ে অলৌকিক আদর।
সমুদ্রের বুকে যেমন অতল তৃষ্ণার জোয়ার,
আমার এ নারী মন ভাঙতে চায় তোমার মনের দুয়ার।
আমি সেই নদী হবো, যার কোনো ক্লান্তি জানা নাই,
হাজারো জনম ধরে তোমার ও চরণে হারাই।
তুমি আমার রাজপ্রাসাদ, আমি তার চিরন্তন ধূলি,
তোমার হাসিতে ফোটে আমার হৃদয়ের প্রথম শিউলি।
চাঁদ আজ ম্লান বড় তোমার রূপের সুধায়,
আমার এ মহাবিশ্ব বাঁচে তোমার চোখের মায়ায়।
যদি এই চরাচরে স্তব্ধ হয় পাখিদের গান,
তবুও কমবে না তোমায় ঘিরে আমার এই টান।
শুকনো পাতার বুকে যে বিদায়-বেদনার সুর,
সেখানেও বেজে ওঠে আমার প্রণয়ের নূপুর।
বনের সবুজ মেখে বেঁচে থাকে আশার প্রদীপ,
তুমি এ হিয়া তলে ভালোলাগার শেষহীন মায়াময় দ্বীপ।
মৃত্যুরে ভয় নাই, যদি পাই তোমার ও আভাস,
তোমার নিশ্বাসে মিশে যাক আমার শেষ ইতিহাস।
বইয়ের পাতার মাঝে, বিকেলের রোদের ছায়ায়,
আষ্টেপৃষ্ঠে জড়াবো তোমায় অনন্ত প্রেমের মায়ায়।
যদি কোনো দিন এই পৃথিবীও ভুলে যায় আমার নাম,
তবুও বাতাস জানবে, আমি শুধু তোমাকেই ভালোবেসে ছিলাম।
প্রকৃতি থমকে যাবে দেখে আমাদের এই গান,
শত শতাব্দীর মাঝে এ প্রেমই রবে বহমান।
তুমি মোর শেষ খেয়া, তুমি মোর অনন্ত আকাশ,
তোমার বুকেই পূর্ণ হোক আমার জীবনের সব আশ। জে/এ
