
আনোয়ারা (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি-
টানা ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের প্রভাবে সাঙ্গু নদীতে সৃষ্ট প্রবল স্রোতে চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার হাইলধর ইউনিয়নে তীররক্ষা বাঁধের ব্লক ধসে ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে করে নদীতীরবর্তী অন্তত দুই গ্রামের প্রায় ১০ হাজার মানুষ চরম ঝুঁকির মধ্যে পড়েছেন। জানা গেছে, উপজেলার ১০ নম্বর হাইলধর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিমপাড়া রাস্তার মাথা থেকে ফকিরহাট রাস্তার মাথা পর্যন্ত নদীতীরবর্তী এলাকায় বিভিন্ন স্থানে ব্লক সরে গিয়ে ধসে পড়ছে। ফলে পুরো এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে এবং নতুন করে বড় ধরনের নদীভাঙনের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, কয়েক দিনের টানা বৃষ্টি ও সাঙ্গু নদীর তীব্র স্রোতের কারণে তীররক্ষা বাঁধ দুর্বল হয়ে পড়েছে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন স্থানে ব্লক ধসে ভাঙন শুরু হয়েছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে বিস্তীর্ণ এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এলাকাবাসীর দাবি, ভাঙন অব্যাহত থাকলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন নদীতীরবর্তী কৃষকরা। আনোয়ারার অন্যতম সবজি উৎপাদন এলাকা হওয়ায় শত শত একর আবাদি জমি, সবজিক্ষেত, বসতবাড়ি ও গ্রামীণ সড়ক মারাত্মক ঝুঁকিতে রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা বখতিয়ার হোসেন বলেন, “নদীতীরের ব্লক ধসে পড়ার বিষয়টি দ্রুত সংস্কার না করলে বর্ষার মধ্যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে।” তিনি পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
অপর বাসিন্দা সাইদুর রহমান তানভীর জানান, দক্ষিণ ইছাখালী এলাকায় কয়েক বছর আগে ব্লক নির্মাণের মাধ্যমে ভাঙন রোধ করা হয়েছিল। তবে সম্প্রতি অবৈধ বালু উত্তোলনের কারণে আবারও ভাঙন শুরু হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। এদিকে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা দ্রুত ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করে স্থায়ী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। তাদের আশঙ্কা, সময়মতো কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে জনপদ, কৃষিজমি ও যোগাযোগ ব্যবস্থা মারাত্মক হুমকির মুখে পড়বে। চট্টগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) বিভাগ-১-এর নির্বাহী প্রকৌশলী শওকত ইবনে সাহীদ বলেন, “বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।” জে/এ
