মঙ্গলবার ৪ঠা আগস্ট, ২০২৬ ২০শে শ্রাবণ, ১৪৩৩

আমতলীতে নির্মাণাধীন ৫ কোটি টাকার সড়কে ধস, ঝুঁকিতে যান চলাচল

[print_bangla]

মাইনুল ইসলাম রাজু,
আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি-

নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার আগেই ধসে গেছে বরগুনার আমতলী-গাজীপুর ভায়া তালুকদারবাজার আঞ্চলিক সড়কের একটি অংশ। সরকারি টেকনিক্যাল স্কুলের পশ্চিম পাশে কালিবাড়ি এলাকায় নির্মাণাধীন সড়কের প্রায় ২০০ ফুট অংশে বড় ধরনের ফাটল দেখা দিয়ে সেটি প্রায় ২ থেকে ৩ ফুট নিচে দেবে গেছে। এতে প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন শত শত যানবাহনের চালক ও সাধারণ মানুষ।
উপজেলা প্রকৌশলী কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে বরগুনা নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয়ের অধীনে আমতলী সরকারি একে পাইলট হাই স্কুল চৌরাস্তা থেকে আমতলী-গাজীপুর ভায়া তালুকদারবাজার পর্যন্ত প্রায় পাঁচ কিলোমিটার সড়ক পুনর্নির্মাণের জন্য প্রায় ৫ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। কাজটির কার্যাদেশ পায় রাজশাহীর বরেন্দ্র কনস্ট্রাকশন। প্রতিষ্ঠানটির হয়ে সাব-কন্ট্রাক্টের মাধ্যমে নির্মাণকাজ করছেন চাওড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. আখতারুজ্জামান খান বাদল। স্থানীয়দের দাবি, প্রায় এক সপ্তাহ আগে হঠাৎ করেই কালিবাড়ি খালের পাশের অংশে ফাটল দেখা দেয়। অল্প সময়ের মধ্যেই প্রায় ২০০ ফুট এলাকা ধসে পড়ে। সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কের ধসে যাওয়া অংশে বড় বড় ফাটল সৃষ্টি হয়েছে। দুর্ঘটনা এড়াতে স্থানীয় বাসিন্দারা লাঠির সঙ্গে লাল কাপড় বেঁধে সতর্কবার্তা টানিয়ে দিয়েছেন। তবে বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় অটোরিকশা, মোটর সাইকেল, ট্রাকসহ বিভিন্ন যানবাহন ঝুঁকি নিয়েই চলাচল করছে।
ব্যাটারি চালিত অটোরিকশাচালক লিটন বলেন, “দিন-রাত ভয় নিয়েই চলতে হয়। বিশেষ করে রাতে দুর্ঘটনার আশঙ্কা বেশি।” ট্রাকচালক মোস্তফা বলেন, “লোডেড ট্রাক নিয়ে ওই অংশ পার হতে আতঙ্ক লাগে। যেকোনো সময় বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।” ঘটনার পর বরগুনা নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয় থেকে একটি টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। সড়ক নির্মাণের ঠিকাদার মো. আখতারুজ্জামান খান বাদল বলেন, “যেখানে সড়ক দেবে গেছে, সেখানে পুনরায় নির্মাণ কাজ করা হবে।” উপজেলা প্রকৌশলী মো. ইদ্রিস আলী বলেন, “কালিবাড়ি খালের পাশ দিয়ে হওয়ায় সড়কের ওই অংশ দেবে গেছে। ঠিকাদারকে ক্ষতিগ্রস্ত অংশ দ্রুত পুনর্নির্মাণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”
আমতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাফর আরিফ চৌধুরী বলেন, “ক্ষতিগ্রস্ত অংশ পুনর্নির্মাণ না করা পর্যন্ত ঠিকাদারকে কোনো বিল দেওয়া হবে না।” বরগুনা জেলা নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মেহেদী হাসান বলেন, “বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। ইতোমধ্যে একটি টিম পরিদর্শন করেছে। দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জে/এ

Share this news as a Photo Card

Share it :

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আমতলীতে নির্মাণাধীন ৫ কোটি টাকার সড়কে ধস, ঝুঁকিতে যান চলাচল

০৪ আগস্ট ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
dailybadwipbangladesh
www.badwipnews.com
Scroll to Top