
সোহরাব সবুজ, স্টাফ রিপোর্টার-
সাতক্ষীরা শহরে সব থেকে বড় হাসপাতাল ব্লিস হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। আগুন এবং ধোয়া হাসপাতালে ছড়িয়ে পড়লে চারদিকে আতঙ্ক বিরাজ করে। আতঙ্কে রুগী, স্বজন ও হাসপাতাল কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নিচতলা থেকে শুরু করে দশ তলা পর্যন্ত সকলেই হুড়োহুড়ি করে নেমে আসার চেষ্টা করে। এতে করে কয়েকজন সামান্য আহত হলেও তেমন কোন মারাত্মক হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) দুপুর ২ টার দিকে ব্যাজমেন্টের কাজের সময় গ্যাস লিকেজ থেকে এ ঘটনার সূত্রপাত হয়। এতে করে লিফট ও সিড়ির পাশে গ্লাসে কয়েক জায়গায় আগুন লাগতে দেখা যায়। তবে আগুন সামান্য হলেও ধোয়াটা বেশি ছড়িয়ে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে বলে জানা যায়।
ফায়ার সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, হাসপাতালের বেজমেন্টে থাকা সেন্ট্রাল অক্সিজেন লাইনে সংস্কার কাজ চলাকালে গ্যাস লিকেজ থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। পরে গ্যাস ও ধোঁয়া ভবনের বিভিন্ন তলায় ছড়িয়ে পড়লে রোগী, স্বজন এবং হাসপাতালের কর্মীদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। ধোঁয়ার কারণে অনেকের শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়। কেউ কেউ বের হওয়ার চেষ্টা করতে গিয়ে সামনের কাচ ভেঙে ফেলেন। লিফট বন্ধ হয়ে যাওয়ায় রোগী ও স্বজনদের মধ্যে হুড়োহুড়ি শুরু হয়। অনেকে দ্রুত সিঁড়ি দিয়ে নিচে নেমে আসেন, আবার কেউ কেউ নিরাপত্তার জন্য ছাদে আশ্রয় নেন।
ফায়ার সার্ভিস, বিজিবি ও পুলিশের সমন্বিত অভিযানে সবাইকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে। ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, বেজমেন্টের আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে এসেছে এবং এখন পর্যন্ত কোনো হতাহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি। ব্লিস হাসপাতালের চেয়ারম্যান আবু হাসান জানিয়েছেন, নিচ তলায় ব্যাজমেন্টের কাজ চলমান। সেখান থেকে সামান্য লিকেজ হয়ে এই ধোয়া সৃষ্টি হয়েছে। কোথাও ক্ষয়ক্ষতি হয়নি এবং কোন রোগী বা স্বজন ও হাসপাতালে কর্মকর্তা-কর্মচারী আল্লাহর ইচ্ছায় কারোর কোন ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। সকল পর্যায়ে প্রশাসন এবং জনসাধারণ এই বিপদের সময় এগিয়ে এসেছে এবং রোগীদেরকে আশেপাশের বিভিন্ন হাসপাতালে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল দ্রুত। আমরা দ্রুত হাসপাতালের এই ত্রুটিগুলো বা ব্যাজমেন্ট এর কাজ বা চলমান কাজগুলো সম্পন্ন করে হাসপাতালের পরিবেশ সুন্দর ফিরিয়ে এনে পুনরায় কার্যক্রম শুরু করবেন বলে জানান তিনি। জে/এ
