
এমএফএইচ রাজু | ভাণ্ডারিয়া (পিরোজপুর) প্রতিনিধি
পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলার সন্ধ্যা নদীর তীরবর্তী সোনাকুর ফেরিঘাট, গন্তব্য ও হরিণধারা এলাকায় নদীভাঙন রোধে জরুরি প্রতিরক্ষা কাজের অংশ হিসেবে জিও ব্যাগ ফেলার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। প্রায় ২ কোটি ৪ লাখ টাকা ব্যয়ে এ প্রকল্পের আওতায় মোট ২৬০ মিটার নদীতীর সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
শনিবার (১৩ জুন) দুপুর ১২টার দিকে সোনাকুর ফেরিঘাটসংলগ্ন এলাকায় আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রকল্পটির উদ্বোধন করেন পিরোজপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য ও গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আহমেদ সোহেল মঞ্জুর সুমন। তাঁর উদ্যোগে পানি উন্নয়ন বোর্ডের মাধ্যমে জরুরি ভিত্তিতে এ প্রতিরক্ষা কাজ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। প্রকল্পের আওতায় সোনাকুর ফেরিঘাট ও তৎসংলগ্ন এলাকা, গন্ধর্ব জানকীনাথ মাধ্যমিক বিদ্যালয়সংলগ্ন এলাকা এবং হরিণধারা খেয়াঘাট এলাকায় পর্যায়ক্রমে জিও ব্যাগ ফেলা হবে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, এসব এলাকা দীর্ঘদিন ধরে সন্ধ্যা নদীর ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে। নদীভাঙনের কারণে ফেরিঘাট, খেয়াঘাট, বসতবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সড়কসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা হুমকির মুখে পড়েছিল।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী আহমেদ সোহেল মঞ্জুর সুমন বলেন, নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জানমাল ও বসতভিটা রক্ষায় সরকার অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজ করছে। দীর্ঘদিন ধরে নদীভাঙনের কারণে এলাকার মানুষ চরম দুর্ভোগের মধ্যে ছিলেন। জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ফেলার পাশাপাশি নদীভাঙনের দীর্ঘমেয়াদি সমাধানে স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।
পিরোজপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু জাফর মো. রাশেদ খান জানান, নদীকূলবর্তী ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে পর্যায়ক্রমে জিও ব্যাগ ফেলার কাজ সম্পন্ন করা হবে। জরুরি প্রতিরক্ষা কাজের মাধ্যমে নদীভাঙনের ক্ষয়ক্ষতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো সুরক্ষিত রাখাই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
অনুষ্ঠানে কাউখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আসাদুজ্জামান, পিরোজপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু জাফর মো. রাশেদ খানসহ স্থানীয় রাজনৈতিক, সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। উদ্বোধন শেষে দেশ ও এলাকার মানুষের কল্যাণ কামনায় বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ফেলার এ কার্যক্রম দ্রুত শেষ হলে সন্ধ্যা নদীর ভাঙনের কবল থেকে ঝুঁকিপূর্ণ জনপদ, বসতবাড়ি, সড়ক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ফেরিঘাট রক্ষা পাবে। পাশাপাশি স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা হলে কাউখালীর নদীতীরবর্তী মানুষের দীর্ঘদিনের নদীভাঙন আতঙ্কের স্থায়ী সমাধান সম্ভব হবে।