শনিবার ৫ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২১শে ভাদ্র, ১৪৩৩

সেপ্টেম্বর মাসে কৃষিতে করণীয়

[print_bangla]

সরকার মো. আবুল কালাম আজাদ-

বর্ষার শেষ, আগাম শীতকালীন ফসলের প্রস্তুতির সময়
সেপ্টেম্বর মাসে দেশে বর্ষার প্রভাব অনেকটা থাকলেও ধীরে ধীরে শীতকালীন ফসলের প্রস্তুতি শুরু হয়। এ সময়ে জমি নির্বাচন, বীজ সংগ্রহ, বীজতলা তৈরি, আগাছা ও রোগ-পোকা দমন এবং জলাবদ্ধতা নিরসনে কৃষকদের বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে। আমন ধানের পরিচর্যা: আমন ধানের জমিতে নিয়মিত পানি ও গাছের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করতে হবে। অতিরিক্ত পানি বা জলাবদ্ধতা হলে দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করতে হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী ইউরিয়া ও অন্যান্য সুষম সার প্রয়োগ করতে হবে। জমিতে আগাছা থাকলে দ্রুত পরিষ্কার করতে হবে। মাজরা পোকা, পাতা মোড়ানো পোকা, বাদামি গাছফড়িংসহ ক্ষতিকর পোকামাকড়ের আক্রমণ নজরে রাখতে হবে। রোগ-পোকার আক্রমণ দেখা দিলে কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শ নিয়ে ব্যবস্থা নিতে হবে।
শীতকালীন সবজির প্রস্তুতি: সেপ্টেম্বর থেকেই ফুলকপি, বাঁধাকপি, টমেটো, বেগুন, মরিচ, লাউ, শিম, মুলা, গাজরসহ বিভিন্ন শীতকালীন সবজির আগাম প্রস্তুতি নেওয়া যায়। উন্নত ও রোগমুক্ত জাতের বীজ সংগ্রহ করতে হবে। উঁচু ও পানি নিষ্কাশনের সুবিধাযুক্ত জমি নির্বাচন করতে হবে। বীজতলা তৈরির ক্ষেত্রে পানি জমে না এমন জায়গা বেছে নিতে হবে। বীজতলায় পচা গোবর বা কম্পোস্ট সার ব্যবহার করা ভালো। বীজ বপনের আগে প্রয়োজন অনুযায়ী বীজ শোধন করতে হবে।
আলু চাষের প্রস্তুতি: সেপ্টেম্বর থেকেই আলু চাষের জন্য জমি ও বীজের পরিকল্পনা করা উচিত। ভালো মানের, রোগমুক্ত ও প্রত্যয়িত বীজ সংগ্রহের ব্যবস্থা করতে হবে। জমির পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। জৈব সার ও প্রয়োজনীয় রাসায়নিক সার সংগ্রহ করে রাখতে হবে। আগের ফসলের অবশিষ্টাংশ পরিষ্কার করে জমি প্রস্তুতের পরিকল্পনা করতে হবে।
ডাল ও তেলবীজের প্রস্তুতি: মসুর, খেসারি, সরিষা, তিলসহ বিভিন্ন ডাল ও তেলবীজের জন্য আগাম জমি নির্বাচন ও বীজ সংগ্রহ করা যেতে পারে। জমির ধরন অনুযায়ী ফসলের জাত নির্বাচন করতে হবে। সবজি ও ফলবাগান পরিচর্যা: অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে গাছের গোড়ায় পানি জমতে দেওয়া যাবে না। মরা, রোগাক্রান্ত ও অতিরিক্ত ডালপালা ছাঁটাই করতে হবে। ফল গাছে রোগ ও পোকামাকড়ের উপস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করতে হবে। আক্রান্ত অংশ অপসারণ করে নিরাপদ বালাই ব্যবস্থাপনা গ্রহণ করতে হবে।
রোগ-পোকা দমনে সতর্কতা: এ সময়ে আর্দ্রতা বেশি থাকায় বিভিন্ন ছত্রাকজনিত রোগের প্রকোপ বাড়তে পারে। তাই নিয়মিত ফসল পর্যবেক্ষণই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। অকারণে কীটনাশক ব্যবহার না করে আক্রান্ত ফসল ও পোকার ধরন শনাক্ত করে কৃষি বিশেষজ্ঞের পরামর্শ অনুযায়ী অনুমোদিত বালাইনাশক ব্যবহার করতে হবে। জলাবদ্ধতা ও বৃষ্টির পানি ব্যবস্থাপনা: সেপ্টেম্বরের ভারী বৃষ্টিতে অনেক জমিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হতে পারে। তাই-নালা-নর্দমা পরিষ্কার রাখতে হবে। জমির অতিরিক্ত পানি দ্রুত বের করার ব্যবস্থা করতে হবে। সবজি ক্ষেতে উঁচু বেড তৈরি করা যেতে পারে। নিচু জমিতে পানি সহনশীল ফসল নির্বাচন করা উচিত।
জৈব সার ব্যবহারে গুরুত্ব: মাটির উর্বরতা ও গুণাগুণ ধরে রাখতে পচা গোবর, কম্পোস্ট ও কেঁচো সার (ভার্মি কম্পোস্ট) ব্যবহার বাড়াতে হবে। মাটির পরীক্ষা করে সুষম সার প্রয়োগ করলে উৎপাদন খরচ কমানোর পাশাপাশি ফলনও ভালো পাওয়া যায়।
কৃষকের জন্য বিশেষ পরামর্শ: সেপ্টেম্বর হলো আমন ধানের পরিচর্যার পাশাপাশি শীতকালীন কৃষির প্রস্তুতির গুরুত্বপূর্ণ সময়। তাই এখন থেকেই ভালো বীজ, সার ও কৃষি উপকরণ সংগ্রহ, জমি নির্বাচন এবং সেচ ও পানি নিষ্কাশনের পরিকল্পনা করা হলে পরবর্তী মৌসুমে উৎপাদন ঝুঁকি কমানো সম্ভব। কৃষি পরামর্শ: স্থানীয় আবহাওয়া, মাটির ধরন ও ফসলের বর্তমান অবস্থার ভিত্তিতে উপজেলা কৃষি অফিস/আপনার ইউনিয়নে কর্মরত উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শ নিয়ে সার ও বালাইনাশক ব্যবহার করা সবচেয়ে নিরাপদ। জে/এ
কেন্দ্রীয় সভাপতি, বাংলাদেশ পেশাজীবী ফেডারেশন (BPF)
(একটি অরাজনৈতিক ও কল্যাণমুখী পেশাজীবী সংগঠন)

Share this news as a Photo Card

Share it :

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সেপ্টেম্বর মাসে কৃষিতে করণীয়

০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
dailybadwipbangladesh
www.badwipnews.com
Scroll to Top