
এমএফএইচ রাজু | ঢাকা | ৪ অক্টোবর ২০২৬
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিলের Independent Investigative Mechanism for Myanmar (IIMM)-এর প্রধান নিকোলাস কৌমুজিয়ান।
রোববার বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রীর কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক ও বহিরাগমন অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে মিয়ানমারে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধ, রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধান, সীমান্ত নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (ICJ) চলমান বিচারিক প্রক্রিয়াসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মানবিক কারণে বাংলাদেশ লাখ লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিলেও বর্তমানে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। মিয়ানমারের জান্তা বাহিনী ও আরাকান আর্মির সংঘাতের সরাসরি প্রভাব বাংলাদেশের সীমান্ত এলাকায় পড়ছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সহায়তা কমে যাওয়ায় বাংলাদেশের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হচ্ছে।
রোহিঙ্গাদের জন্য আর্থিক ও লজিস্টিক সহায়তা আগের মতো অব্যাহত রাখতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও জাতিসংঘের সংস্থাগুলোর প্রতি আহ্বান জানান তিনি। পাশাপাশি নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও দ্রুত প্রত্যাবাসনের পরিবেশ তৈরির ওপর গুরুত্ব দেন।
আইআইএমএম প্রধান নিকোলাস কৌমুজিয়ান বাংলাদেশ সরকারের সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি জানান, আইআইএমএমের দল কক্সবাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে প্রায় দুই শতাধিক ভুক্তভোগী ও প্রত্যক্ষদর্শীর সাক্ষাৎকার নিয়েছে। এসব তথ্য-প্রমাণ আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (ICC), আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (ICJ) এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালে জমা দেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, আইআইএমএমের তদন্ত শুধু ২০১৭ সালের ঘটনাবলিতে সীমাবদ্ধ নেই। সাম্প্রতিক সময়ে আরাকান আর্মি ও জান্তা বাহিনীর সংঘাতে বেসামরিক জনগণের ওপর সহিংসতা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাগুলোও নথিভুক্ত করা হচ্ছে।
বৈঠকে বিজিবি মহাপরিচালক মিয়ানমার অংশে পুঁতে রাখা ল্যান্ডমাইনের ঝুঁকির বিষয়টি তুলে ধরেন। পাহাড়ি ঢল ও বর্ষার কারণে এসব মাইন সীমান্ত অতিক্রম করে বাংলাদেশে চলে আসায় কৃষক ও সীমান্তবর্তী জনগোষ্ঠীর জীবন ঝুঁকিতে পড়ছে বলে জানান তিনি। পাশাপাশি অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে বিজিবির নেওয়া পদক্ষেপ ও সীমান্ত পরিস্থিতির সার্বিক চিত্র তুলে ধরেন।
আইআইএমএমের প্রতিনিধিদল সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে আসা ভুক্তভোগীদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহে মাঠপর্যায়ের বিজিবি কমান্ডারদের সঙ্গে আলোচনার আগ্রহ প্রকাশ করলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও বিজিবির পক্ষ থেকে এতে ইতিবাচক সম্মতি জানানো হয়।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের (ICJ) আসন্ন রায় মিয়ানমারের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ বাড়াবে এবং বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের নিজ ভূমিতে নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।