
এমএফএইচ রাজু | ঢাকা | ৪ অক্টোবর ২০২৬
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দুই বিমানকর্মীর জুতার ভেতর বিশেষ কৌশলে লুকিয়ে রাখা ৮০টি সোনার বার উদ্ধার করেছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর (সিআইআইডি)। উদ্ধার করা স্বর্ণের মোট ওজন প্রায় ৯ দশমিক ৩৪ কেজি। কাস্টমস গোয়েন্দার হিসাবে এর আনুমানিক বাজারমূল্য ১৬ কোটি ২৫ লাখ টাকা।
রোববার (৪ অক্টোবর) সকালে দুবাই থেকে ঢাকায় আসা এমিরেটস এয়ারলাইন্সের EK0582 ফ্লাইটকে কেন্দ্র করে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালায় সিআইআইডি। ফ্লাইটটি সকাল সাড়ে ৯টার দিকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের পর কাস্টমস গোয়েন্দা কর্মকর্তারা বিমানবন্দরের অ্যাপ্রোন এলাকায় অবস্থান নেন।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) তথ্য অনুযায়ী, বিমানবন্দরের রানওয়ে সংলগ্ন ২১ নম্বর গেটের কাছের ৪ নম্বর বোর্ডিং ব্রিজের নিচে অ্যাপ্রোন এলাকায় দুই বিমানকর্মীর তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় তাদের পরা জুতার ভেতর বিশেষ কায়দায় লুকিয়ে রাখা সোনার বারগুলো উদ্ধার করা হয়।
আটক দুই বিমানকর্মী হলেন মো. মানিক মিয়া ও মো. মিজানুর রহমান। কাস্টমস গোয়েন্দা ও এনবিআরের তথ্য অনুযায়ী, দুজনই এমিরেটস এয়ারলাইন্সের এয়ারক্রাফট টেকনিক্যাল হেলপার (এটিএইচ) হিসেবে কর্মরত।
কাস্টমস কর্মকর্তারা জানান, উদ্ধার করা প্রতিটি সোনার বারের ওজন প্রায় ১১৭ গ্রাম। ৮০টি বারের মোট ওজন প্রায় ৯ দশমিক ৩৪ কেজি। এসব স্বর্ণের আনুমানিক বাজারমূল্য ১৬ কোটি ২৫ লাখ টাকা।
কর্মকর্তাদের ধারণা, কাস্টমসের স্বাভাবিক তল্লাশি এড়াতে সোনার বারগুলো বিশেষ কৌশলে জুতার ভেতরে লুকিয়ে আনা হয়েছিল। তবে এসব স্বর্ণ কোথা থেকে আনা হয়েছে, কারা এর সঙ্গে জড়িত এবং ঢাকায় কার কাছে চালানটি পৌঁছে দেওয়ার কথা ছিল তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বিষয়গুলো তদন্ত করছে সিআইআইডি।
সিআইআইডি জানিয়েছে, বিমানকর্মীদের ব্যবহার করে জুতার ভেতরে স্বর্ণবার লুকিয়ে চোরাচালানের এই ঘটনায় আরও কেউ জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে উদ্ধার করা স্বর্ণের উৎস ও সম্ভাব্য গ্রহীতার বিষয়ে তদন্ত চলছে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
এদিকে, একই দিন ভোরে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মালয়েশিয়া এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে আসা এক যাত্রীর শরীর থেকে আরও প্রায় ৪ দশমিক ৫ কেজি স্বর্ণ উদ্ধারের তথ্য জানিয়েছে ঢাকা ট্রিবিউন। ওই চালানের আনুমানিক মূল্য প্রায় ৮ কোটি টাকা। ফলে একই দিনে শাহজালাল বিমানবন্দরে স্বর্ণ উদ্ধারের একাধিক ঘটনায় বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ও চোরাচালান প্রতিরোধ ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
তবে দুই বিমানকর্মীর জুতায় পাওয়া স্বর্ণের বিষয়ে এখন পর্যন্ত কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত তথ্যে তাদের বিরুদ্ধে চূড়ান্তভাবে চোরাচালানের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে এমন কোনো তথ্য নেই। সিআইআইডির তদন্তে স্বর্ণের উৎস, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও সম্ভাব্য গন্তব্য সম্পর্কে পরবর্তী তথ্য পাওয়ার কথা রয়েছে।