
সিরাজুল ইসলাম রনি, রাজশাহী : রাজশাহী মহিলা কলেজের সামনের সড়ক। কিছুদিন আগেও সড়কের পাশের পুরো ফুটপাত ছিল দখলে। দোকানপাট, খাবারের দোকান আর নানা অস্থায়ী স্থাপনায় ভরা ফুটপাতে নাগরিকদের চলাচল ছিল প্রায় অসম্ভব। বাধ্য হয়ে সড়কের ওপর দিয়েই হাঁটতে হতো পথচারীদের। এতে যেমন বাড়ত দুর্ঘটনার ঝুঁকি, তেমনি তৈরি হতো যানজটও। তবে এখন বদলে গেছে সেই চিত্র। রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন মহানগরবাসী।
রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মোঃ মাহফুজুর রহমান রিটনের নির্দেশনায় গত ৬ অক্টোবর সড়ক ও ফুটপাতের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনা করা হয়। দড়িখরবোনা মোড় থেকে রাজশাহী মহিলা কলেজের সামনে হয়ে মালোপাড়া পর্যন্ত এবং বাটার মোড় ও নিউমার্কেট এলাকায় পরিচালিত হয় এ অভিযান। অভিযানের পর ফুটপাতগুলো ফিরে পেয়েছে অনেকটা স্বাভাবিক রূপ। আগে যেখানে দোকানপাট ও নানা স্থাপনার কারণে হাঁটার জায়গা ছিল না, এখন সেখানে নির্বিঘ্নে চলাচল করছেন পথচারীরা। ফুটপাত ব্যবহার করতে পারায় সড়কের ওপর পথচারীদের চাপও কমেছে। ফলে আগের মতো যানজটও দেখা যাচ্ছে না। রাজশাহী মহিলা কলেজের সামনে দিয়ে হাঁটছিলেন স্থানীয় নাগরিক শরিফুল ইসলাম । ফুটপাত দখলমুক্ত হওয়ায় তার মুখে স্বস্তির ছাপ। তিনি বলেন, “দীর্ঘদিন পর মনে হচ্ছে ফুটপাতটা আসলেই নাগরিকদের জন্য ফিরে এসেছে। আগে দোকানপাটের কারণে এখানে হাঁটার কোনো পরিবেশ ছিল না। বাধ্য হয়ে রাস্তা দিয়ে চলতে হতো। এই উদ্যোগ নেওয়ার জন্য রাসিক প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটনকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই। আমরা চাই, ফুটপাতগুলো যেন আবার দখল না হয়। নারী নাইমা জান্নাত বলেন, “নারী, শিশু ও বয়স্কদের জন্য সড়কের ওপর দিয়ে হাঁটা খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। আগে ফুটপাত দখল থাকায় গাড়ির পাশ দিয়ে চলতে হতো। এখন ফুটপাত দিয়ে নিরাপদে হাঁটতে পারছি। রাসিক প্রশাসকের উদ্যোগে আমরা স্বস্তি পেয়েছি। আমরা চাই নগরীর অন্যান্য ফুটপাতগুলো দখলমুক্ত হোক।
রাজশাহী সরকারি মহিলা কলেজের সানজিদা খাতুন ফুটপাত দখলমুক্ত হওয়ায় স্বস্তির কথা জানান। তিনি বলেন, “কলেজে আসা-যাওয়ার সময় আগে ফুটপাত ব্যবহার করতে পারতাম না। সড়কের ওপর দিয়ে হাঁটতে গিয়ে অনেক সময় ভয় লাগত। এখন খুব সহজেই ফুটপাত দিয়ে হাঁটতে পারছি। আমরা চাই, ভবিষ্যতেও ফুটপাত যেন দখলমুক্ত থাকে।” পরিবর্তনের বিষয়টি চোখে পড়ছে রিকশাচালকদের কাছেও।
স্থানীয় এক রিকশাচালক বলেন, “আগে ফুটপাত দখল থাকায় মানুষ রাস্তায় হাঁটত। দোকানের সামনে রিকশা-ভ্যান দাঁড়িয়ে থাকত। সব মিলিয়ে রাস্তায় অনেক চাপ থাকত। এখন মানুষ ফুটপাত দিয়ে হাঁটছে, তাই রাস্তার ওপরও চাপ কমেছে। যানজটও আগের তুলনায় কম। রাসিক প্রশাসকের এই উদ্যোগকে আমরা স্বাগত জানাই। তবে অভিযান শেষ হওয়ার পর আবার যেন কেউ ফুটপাত দখল করতে না পারে, সে বিষয়ে নিয়মিত ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।”
রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নাগরিকদের নির্বিঘ্নে চলাচল নিশ্চিত করতে ফুটপাত এবং সড়ক ও ফুটপাতে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে অভিযান অব্যাহত থাকবে।
এ/জে