
মো.জাকারিয়া চৌধুরী যুবরাজ –
সাংবাদিকতা, গণমাধ্যম এবং সমাজসেবার আলোকবর্তিকা বহনকারী এক গুণী মানুষ আমির খসরু আমাদের ছেড়ে চিরতরে চলে গেছেন।
তাঁর এই আকস্মিক প্রয়াণে গণমাধ্যম অঙ্গন এবং তাঁর সাথে জড়িত শুভানুধ্যায়ী ও সহকর্মীদের মাঝে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। একজন নিবেদিতপ্রাণ গণমাধ্যমকর্মী ও অমায়িক ব্যক্তিত্ব হিসেবে তিনি সবার হৃদয়ে চিরকাল বেঁচে থাকবেন।
আমির খসরু ভাইয়ের সাথে আমার প্রথম পরিচয় হয় গাজীপুর ভিওএ (ভয়েস অব আমেরিকা) ফ্যান ক্লাবের একটি প্রাণবন্ত শ্রোতা সম্মেলনে। আমাদের শ্রদ্ধেয় ও বিশিষ্ট সাংবাদিক এবং আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব জনাব ইকবাল বাহার চৌধুরী সাহেব ঐ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে সশরীরে উপস্থিত থেকে অনুষ্ঠানটিকে মহিমান্বিত করেছিলেন। সেই স্মরণীয় দিনটি আজও স্মৃতির পাতায় অম্লান।
আমার যদূর স্মরণে আছে, ২০০৪ থেকে ২০০৫ সালের দিকে আমির খসরু ভাই ভয়েস অব আমেরিকায় (VOA) পেশাগত কাজ শুরু করেন। এর পাশাপাশি তিনি দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল ‘চ্যানেল আই’-এর সাথেও অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে যুক্ত ছিলেন। আমিও যেহেতু দীর্ঘদিন ধরে ভিওএ ফ্যান ক্লাবের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত ছিলাম, সেই সুবাদেই আমির খসরু ভাইয়ের সাথে আমার এক গভীর ও সুমধুর সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
পেশাগত পরিচয়ের গণ্ডি পেরিয়ে আমির খসরু ভাই ছিলেন একজন অত্যন্ত আন্তরিক, মিশুক এবং পরোপকারী মানুষ। গণমাধ্যমের জটিল ও নানামুখী কাজের ব্যস্ততার মাঝেও তিনি জুনিয়রদের সবসময় আগলে রাখতেন এবং নতুনদের উৎসাহ দিতেন। তাঁর অমায়িক ব্যবহার এবং হাসিমুখের সান্নিধ্য আজও আমাদের ব্যথিত হৃদয়ে বারবার ভেসে ওঠে।
তাঁর এই অকাল প্রয়াণে1 আমরা হারালাম এক প্রতিভাবান গণমাধ্যমকর্মী ও একজন প্রকৃত অভিভাবকসুলভ মানুষকে। মহান আল্লাহ তাআলার দরবারে বিনীত প্রার্থনা, তিনি যেন মরহুম আমির খসরু ভাইকে ক্ষমা করে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করেন এবং তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবার-পরিজন ও শুভানুধ্যায়ীদের এই অপূরণীয় ক্ষতি সহ্য করার শক্তি দান করেন।
আমির খসরু ভাই, আপনি আমাদের স্মরণে ও শ্রদ্ধায় চিরভাস্বর হয়ে থাকবেন। আপনার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করি।
* এম আব্দুর রাজ্জাক *