
ঝালকাঠি প্রতিনিধি-
ঝালকাঠি জেলাধীন রাজাপুর উপজেলার বড়ইয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ বড়ইয়া গ্রামের বিষখালী নদী ভাঙ্গন কবলিত এলাকার দরিদ্র ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী মো. ইয়াকুব আলীর দুই মেয়ের মধ্যে ছোট মেয়ে ছালমা, বাবার দরিদ্র সংসারে স্থানীয় নাসিমা খাতুন নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ৮ম শ্রেণী পাস করে বড়ইয়া বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয় ৯ম শ্রেণীতে ভর্তি হয়ে বাবার অভাব অনোটনের সংসারে পড়াশোনা করা সম্ভব হয় নাই ছালমার। একপর্যায়ে ২০০৮ ইং সনে ছালমার সাংসারিক নিরলস কর্মদক্ষতা, চলা-ফেরা, নম্র-ভদ্রতা ও সামাজিকতায় আকৃষ্ট হয়ে বিবাহ করেন স্থানীয় পালট গ্রামের বাসিন্দা সকলজন পরিচিত মানুষ সমাজসেবক সাংবাদিক মো. আলমগীর শরীফ।
বিবাহের পর পরই নববধূ ছালমা বেগম’র প্রচেষ্টায় বৃদ্ধ শশুর শাশুড়ির সুখ-শান্তির জন্য দিন রাত পরিশ্রম করে শশুর বাড়ীর বসত গৃহ পুনর্নির্মাণ সহ শশুরের কৃষি কাজে সহযোগিতা করেন দীর্ঘদিন। কৃষি কাজ, ফলদ বৃক্ষ ও সব্জি চাষ কাজে ছোটবেলা থেকেই পারদর্শী ছালমা বেগম।২০০৯ ইং সনে স্বামী আলমগীর শরীফ’র সহযোগিতায় রাজাপুর সরকারি মডেল পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় কারিগরি বিষয়ে ৯ম শ্রেণীতে ভর্তি হয়ে পড়াশোনা করেন ছালমা। পড়াশোনার ফাঁকে পল্লি উন্নয়ন অধিদপ্তরের একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পে ১ মাস ব্যাপী হাঁস-মুরগি পালন প্রশিক্ষণ গ্রহণের মাধ্যমে সনদ প্রাপ্ত হন। যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর কর্তৃক ৩ মাস ব্যাপী গবাদিপশু পালন ও মৎস্য চাষ প্রশিক্ষণ গ্রহণ পু্র্বক সনদ প্রাপ্ত হন। ১ মাস ব্যাপী কম্পিউটার চালানো ও ৩ মাস ব্যাপী সেলাই প্রশিক্ষণ গ্রহণ পুর্বক সনদ প্রাপ্ত হন। উপজেলা প্রাণী সম্পদ অধিদপ্তর থেকে ৭ দিন ব্যাপী ভেড়া পালন প্রশিক্ষণ গ্রহন করিয়া সনদ প্রাপ্ত হন, উপজেলা মহিলা অধিদপ্তর থেকে ৩ মাস ব্যাপি দর্জি প্রশিক্ষণ গ্রহণ পূর্বক সনদ প্রাপ্ত হন। গণস্বাস্থ্য ফার্মাসিউটিক্যালস থেকে ১ মাস ব্যাপী সেলসম্যান ও এস আর পদে দক্ষতা অর্জনের জন্য প্রশিক্ষণ গ্রহন পূর্বক সনদ প্রাপ্ত হন। বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন অধিদপ্তর ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় হইতে ১ মাস ব্যাপী পানি শোধন, পানির টিডিএস মাত্রা, পানি শোধন ফিল্টার স্থাপন, মেরামত ও বিশুদ্ধ পনির গুণা-গুণ সম্পর্কে প্রশিক্ষণ গ্রহন পূর্বক সনদ প্রাপ্ত হন।
রাজাপুর উপজেলা শিল্পকলা একাডেমী, ঝালকাঠি জেলা শিল্পকলা একাডেমী, বরিশাল বিভাগীয় শিল্পকলা একাডেমী ও ঢাকা জাতীয় শিল্পকলা একাডেমিতে সংগীত চর্চা করে বাংলাদেশে একজন গুণী সংগীত শিল্পী হিসেবে পরিচিতি লাভসহ বহু পুরস্কার ও সনদ অর্জন করেছেন। পাশাপাশি ২০১৬ ইং সন থেকে স্থানীয় একটি দৈনিক পত্রিকায় রাজাপুর উপজেলা প্রতিনিধি হিসাবে সংবাদকর্মীর কাজ করে এলাকায় যথেষ্ট সুনাম অর্জন করিয়াছেন। সংবাদকর্মী অবস্থায় ৫ দিন ব্যাপী সাংবাদিকতায় বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ গ্রহণ করিয়া সনদ প্রাপ্ত হয়েছেন। এ ছাড়াও রাজাপুর উপজেলার ৬ টি ইউনিয়নের অসহায় প্রতিবন্ধীদেরসহ অবহেলিত বিত্তহীন নারী- পুরুষের উপকারার্থে স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে চিকিৎসা সেবা-সহ বিভিন্ন ভাবে সেবা করে আসছেন ছালমা বেগম।
ইতোমধ্যে “ছালমা” সংরক্ষিত ইউপি সদস্য ও উপজেলা পরিষদ মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান (নিকটতম প্রতিদন্দী) হিসেবে নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে মোসাঃ ছালমা বেগম “সমাজ উন্নয়নে অসামান্য অবদান রেখেছেন যে নারী” ক্যাটাগরিতে বরিশাল বিভাগের শ্রেষ্ঠ জয়িতা এবং বাংলাদেশ বেতার ও টেলিভিশনের নিয়মিত সংগীত শিল্পী। এ অবস্থায় সারাদেশ ও বিদেশে মোসাঃ ছালমা বেগমকে বরিশালের বাউল ছালমা হিসেবেই মানুষ চিনেন। ছালমা প্রতিবেদককে জানান যে, আমার জীবনে চাওয়া পাওয়ার তেমন কোন চাহিদা নেই, শুধু দেশ ও মানুষের সেবা করে জীবন কাটানো এবং বাংলার সুস্থ সংগীত পরিবেশন করাই আমার চাওয়া ও পাওয়া। জে/এ
