বৃহস্পতিবার ৩০শে জুলাই, ২০২৬ ১৫ই শ্রাবণ, ১৪৩৩

কপোতাক্ষ নয় ভৈরব-বেতনার মহেশপুর: নদী ও জনপদের ইতিহাস

[print_bangla]

মাকসুদুল হক, ঝিনাইদহ জেলা প্রতিনিধি-

ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলা শুধু একটি প্রশাসনিক সীমানা নয়। এটি ইতিহাস, নদী সভ্যতা, লোকজ সংস্কৃতি ও প্রাচীন বসতির এক জীবন্ত দলিল। গ্রাম বাংলার শত শত বছরের ঐতিহ্য লুকিয়ে আছে এই জনপদের প্রতিটি গ্রামের নামের আড়ালে। যোগীন্দ্রদ্বীপ থেকে সূর্য্যদ্বীপ
ইতিহাসবিদ শ্রী সতীশ চন্দ্র মিত্রের প্রসিদ্ধ গ্রন্থ ‘যশোহর-খুলনার ইতিহাস’-এ এই অঞ্চলের প্রাচীনত্বের প্রমাণ পাওয়া যায়। তাঁর মতে, প্রাচীনকালে বনগাঁ ও মহেশপুর অঞ্চল নিয়ে গঠিত হয়ে ছিল ‘যোগীন্দ্রদ্বীপ’ রাজ্য। আর এই প্রাচীন রাজ্যের রাজধানী ছিল বর্তমান মহেশপুর। পরবর্তীতে সেন রাজবংশের মহারাজ বল্লাল সেন এক উত্তম কাজের পুরস্কার স্বরূপ সূর্য্যনারায়ণ নামের এক কৈবর্ত ধীবরকে (জেলে) যোগীন্দ্রদ্বীপের একটি অংশ দান করেন। রাজার দেওয়া সেই উপহারের সূত্র ধরেই অঞ্চলটি পরিচিতি লাভ করে ‘সূর্য্যদ্বীপ’ নামে। কালের বিবর্তনে সেই সূর্য্য দ্বীপই আজকের ঝিনাইদহ জেলার মহেশপুর উপজেলা।
মানচিত্র বদলের ইতিহাস-১৮৬৯ সালে মহেশপুর পৌরসভা প্রতিষ্ঠিত হয়। দেশ বিভাগের আগে মহেশপুর ছিল যশোর জেলার বনগাঁ মহকুমার অন্তর্ভুক্ত। ১৯৪৭ সালের দেশ ভাগের সময় এক নাটকীয় পরিবর্তন ঘটে। সে বছরের ১৮ আগস্ট বনগাঁ ভারতের ২৪ পরগনা জেলার অন্তর্ভুক্ত হয়। ফলে মহেশপুরকে যুক্ত করা হয় তৎকালীন ঝিনাইদহ মহকুমার আওতাভুক্ত হিসেবে।
নদী ও জনপদের মেলবন্ধন-মহেশপুর উপজেলার ভৌগোলিক ও ঐতিহাসিক পরিচয়ের মূল ভিত্তি এর নদ-নদী। এই অঞ্চলের বুক চিরে বয়ে গেছে ভৈরব, বেতনা, কোদলা ও ইছামতি নদী। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, ভৈরব ও বেতনা নদীর মোহনাতেই ছিল প্রাচীন যোগীন্দ্রদ্বীপ তথা সূর্য্যদ্বীপ রাজ্যের প্রশাসনিক কেন্দ্র। নদীগুলোর সাথে এই জনপদের মানুষের সম্পর্ক এতটাই নিবিড় যে, কালের পরিক্রমায় মহেশপুরের অনেক মানুষ ভুলক্রমে ভৈরব নদীকেই কপোতাক্ষ নদ নামে উল্লেখ করে থাকেন।
বেতনা নদীর বিলীন অস্তিত্ব- দুর্ভাগ্যবশত, মহেশপুরের নদী সভ্যতা আজ চরম সংকটে। বর্তমানে মহেশপুর পৌর এলাকার ভেতরে বেতনা নদীর অস্তিত্ব প্রায় বিলীন হয়ে গেছে। দখল আর ভরাটের গ্রাসে নদীটি এতটাই হারিয়ে গেছে যে, স্থানীয় ডাকবাংলো থেকে জমিদারপাড়া পর্যন্ত সি.এস (ক্যাডাস্ট্রাল সার্ভে) নকশাতেও এখন আর বেতনা নদীর কোনো চিহ্ন খুঁজে পাওয়া যায় না। নদী হারানোর এই ক্ষত মহেশপুরের ভৌগোলিক ইতিহাসকে বিপন্ন করে তুলছে।
নামের শেষে গ্রাম বাংলার রূপ-মহেশপুর উপজেলার শত শত গ্রামের নাম বিশ্লেষণ করলে এক চমৎকার লোকজ ইতিহাসের সন্ধান মেলে। এই নামগুলোর সঙ্গে নিবিড় ভাবে জড়িয়ে আছে এই অঞ্চলের ভূ-প্রকৃতি, নদী, বনভূমি, কৃষি, ধর্মীয় ঐতিহ্য ও গ্রামীণ জীবনের নানা উপাদান। এখানে বিশেষ ভাবে লক্ষ্য করা যায় নামের শেষে ‘ডাঙ্গা’, ‘দিয়া’, ‘দহ’, ‘হুদা’, ‘পোতা’, ‘গাছা’, ‘পুর’, ‘পাড়া’, ‘নগর’, ‘বাড়ি’ ও ‘বাড়িয়া’ ইত্যাদি প্রত্যয়ের ব্যাপক ব্যবহার। প্রতিটি প্রত্যয়ই এক একটি অঞ্চলের ভৌগোলিক ও প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্যের জানান দেয়।
ডাঙ্গা ও দিয়ার নামকরণের রহস্য-ইতিহাসবিদদের ধারণা, প্রাচীনকালে নদীর তীরে পলি জমে উঁচু জমি বা ‘ডাঙ্গা’ তৈরি হলে, সেই ভূ-প্রকৃতি অনুযায়ী গ্রামের নামকরণ করা হতো। এর বড় উদাহরণ-বাগাডাঙ্গা, ভোলাডাঙ্গা, কুশাডাঙ্গা, সোনাইডাঙ্গা ও ঈর্ষালডাঙ্গা। ভৌগোলিক অবস্থান বিবেচনা করলে দেখা যায়, এর মধ্যে বাগাডাঙ্গা ও ভোলাডাঙ্গা গ্রাম দুটি যথাক্রমে ইছামতি ও কোদলা নদীর একদম তীরবর্তী অঞ্চলে অবস্থিত।
আবার এই অঞ্চলের নদীগুলোর মাঝখানে জেগে ওঠা দ্বীপ বা দ্বীপাঞ্চল পরিষ্কার করে যখন মানুষ প্রথম বসতি স্থাপন শুরু করে, তখন নামের শেষে ‘দিয়া’ ও ‘দহ’ যুক্ত করার প্রচলন ঘটে। জল ও স্থলের এই মিতালির প্রমাণ মেলে ভাবদিয়া, সূর্য্যদিয়া, রুপদাহ ও গুড়দহ নামের গ্রামগুলোর দিকে তাকালে।
বনভূমি কেটে কৃষি জমি-কালের আবর্তনে মহেশপুরের বনভূমি ও অনাবাদি জমি যখন কৃষি জমিতে পরিণত হতে থাকে, তখন জনবসতি বাড়ার সাথে সাথে যুক্ত হয় নতুন নতুন প্রত্যয়। বনাঞ্চল কেটে বসতি গড়ার প্রমাণ মেলে ‘গাছা’ বা ‘গাছি’ যুক্ত গ্রামে; যেমন-পীরগাছা, বামনগাছা ও বাথানগাছি। উঁচু বা আবাদী জমির সীমানা নির্দেশক ‘হুদা’ প্রত্যয় যুক্ত গ্রামের সংখ্যাও এ অঞ্চলে অনেক। এর মধ্যে শংকরহুদা, কালুহুদা, যোগীহুদা, গোয়ালহুদা, হুদা দুর্গাপুর, হুদা শ্রীরামপুর ও হুদাপাড়া উল্লেখ যোগ্য।
পোতা, তলা ও পাড়ার বৈচিত্র্য-ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্যে কোনো একটু উঁচু বা ভিটে জমি বোঝাতে ‘পোতা’ শব্দের ব্যবহার হতো। মহেশপুরের পাঁচপোতা, সাতপোতা, গাড়াপোতা, ভাষানপোতা, ঝিকটিপোতা, কচুয়ারপোতা, বাকোসপোতা, জেলেপোতা ও বাজীপোতা গ্রামগুলো এর বড় উদাহরণ।
আবার ছায়া সুনিবিড় কোনো বড় গাছকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা জনবসতির নাম দেওয়া হতো ‘তলা’ প্রত্যয় দিয়ে। যার অনন্য উদাহরণ-বৈচিতলা, মান্দারতলা, চাপাতলা ও সাড়াতলা। একই ভাবে নির্দিষ্ট পেশা, জাতি বা অঞ্চলের মানুষের বসতি নিয়ে গড়ে উঠেছে নানা ‘পাড়া’। যেমন- পান্তাপাড়া, নোয়ানীপাড়া, পোড়াপাড়া, নওদাপাড়া, ভাটপাড়া, রাঢ়ীপাড়া, কুঠিপাড়া, দোয়ারপাড়া, টাঙ্গাইল পাড়া ও জীবননগর পাড়া।
ভাঙা, আইট ও বাড়িয়ার ইতিহাস-নদীর ভাঙন বা ভৌগোলিক বিচ্ছিন্নতা থেকে জন্ম নিয়েছে ‘ভাঙ্গা’ যুক্ত গ্রাম; যেমন-বাবলা মাথাভাঙ্গা ও ডালভাঙ্গা। জমির আইল বা উঁচু সীমানা থেকে এসেছে ‘আইট’ প্রত্যয়; যার প্রমাণ মেলে বাগদিয়ার আইট, মাৎলার আইট ও চুন্নির আইট গ্রামে। এ ছাড়া আদি বসতভিটার ঐতিহ্য বহন করছে ‘বাড়িয়া’ যুক্ত গ্রামগুলো। যেমন-মান্দারবাড়ীয়া, গাড়াবাড়িয়া, কুলবাড়িয়া, মাইলবাড়িয়া ও পেপুলবাড়িয়া।
সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও সামাজিক মেলবন্ধন
মহেশপুরের গ্রামগুলোর নামের মধ্যে কেবল ভূ-প্রকৃতি নয়, ধর্মীয় ও সামাজিক পরিচয়েরও সুস্পষ্ট প্রতিফলন রয়েছে। মুসলিম সম্প্রদায়ভুক্ত ব্যক্তি বা বংশের নামে ‘পুর’ প্রত্যয়যুক্ত বহু গ্রাম গড়ে উঠেছে। যার মধ্যে ইসলামপুর, সৈয়দপুর, আদমপুর, আজমপুর, আলমপুর, মির্জাপুর, আলিপুর, জলিলপুর, হামিদপুর, হানিফপুর ও সলেমানপুর উল্লেখ যোগ্য।
অন্য দিকে সনাতন ধর্মাবলম্বী ও দেব-দেবীর নাম অনুসারে গড়ে উঠেছে-শ্রীরামপুর, শ্রীনাথপুর, শ্যামকুড়, রামচন্দ্রপুর, শিবানন্দপুর, কালিপুর, লক্ষ্মীপুর, চন্ডিপুর, কৃষ্ণপুর, কৃষ্ণচন্দ্রপুর, দুর্গাপুর, মদনপুর, গৌরীনাথপুর, রঘুনাথপুর, গোপালপুর, যাদবপুর, গয়েশপুর, শ্রীপুর, মতিলালপুর, কেশবপুর, যদুনাথপুর, বিশ্বনাথপুর, রায়পুর ও গোবিন্দপুর। আবার ‘নগর’ যুক্ত গ্রামের মধ্যে রয়েছে গোকুলনগর, মথুরানগর, বালিনগর ও দরবেশনগর।
সংখ্যা, প্রকৃতি ও জীব বৈচিত্র্য সংখ্যা নির্ভর নামের মধ্যেও রয়েছে ইতিহাসের ছাপ। যেমন-পাঁচপোতা, সাতপোতা, পাঁচবাড়িয়া, একতারপুর ও ছয়ঘরিয়া। এ ছাড়া গ্রামীণ প্রকৃতি, ফুল, ফল ও বৃক্ষের নামেও গড়ে উঠেছে বহু গ্রাম। মাছ বা জলজ প্রাণী সম্পর্কিত নামের মধ্যে রয়েছে কুষাডাঙ্গা ও কাকিলা দাড়ি। ফুলের নামে রয়েছে পদ্মপুকুর, পদ্মরাজপুর, কাঞ্চনপুর ও কদমতলা। ফলের নামে কুলতলা, লেবুতলা, কমলাপুর, ডুমুরতলা ও তালসার। বৃক্ষ বা গুল্মজাতীয় নামের মধ্যে বাঁশবাড়িয়া, ধানহাড়িয়া, তুলসীতলা, সরিষাঘাটা ও নিমতলা উল্লেখ যোগ্য।
লোকবিশ্বাস ও কৌতূহলজাগানিয়া নাম আধ্যাত্মিক ও লোক বিশ্বাস নির্ভর নামের মধ্যেও রয়েছে বৈচিত্র্য। যেমন-ভবনগর, মুন্ডুমালা, বাউলী, নিশ্চিন্তপুর, অনন্তপুর ও ডাকাতিয়া। এ ছাড়া কিছু ব্যতিক্রমধর্মী গ্রামের নাম আজও মানুষের কৌতূহলের কারণ হয়ে আছে। এর মধ্যে সামন্তা, পাকরাইল কাজীরবেড়, ভৈরবা, রুলি, জলুলী, পাথরা, সস্তা, নস্তি, নাটিমা, জাগুসা, জোকা, নেপা, কুল্লা ও সেজিয়া উল্লেখ যোগ্য।
ঐতিহাসিক গুরুত্বে মহেশপুরের প্রখ্যাত ব্যক্তিত্ব
মহেশপুরের দীর্ঘ ইতিহাস সমৃদ্ধ হয়েছে এই জনপদে জন্ম নেওয়া ও বেড়ে ওঠা কিছু কালজয়ী মানুষের অবদানে। তাঁদের জীবন ও কর্ম এই অঞ্চলের অনন্য গৌরব:
১. বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ হামিদুর রহমান: বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের ৭ জন বীরশ্রেষ্ঠের অন্যতম সিপাহী হামিদুর রহমান মহেশপুর উপজেলার খোরদা খালিশপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৭১ সালের ২৮ অক্টোবর মাত্র ১৮ বছর বয়সে মৌলভীবাজারের ধলই সীমান্তে পাকিস্তানি হানাদারদের এক বাঙ্কার ধ্বংস করে তিনি শাহাদাতবরণ করেন। মহেশপুরের এই বীর সন্তানের স্মৃতি রক্ষার্থে উপজেলার খালিশপুরে গড়ে তোলা হয়েছে ‘বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ হামিদুর রহমান স্মৃতি জাদুঘর ও গ্রন্থাগার’।
২. পণ্ডিত জয়গোপাল তর্কালঙ্কার (১৭৭৫-১৮৪৬): উনবিংশ শতাব্দীর শুরুর দিকে বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রধান এই দিকপাল মহেশপুরের ঐতিহ্যবাহী বজরাপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি কলকাতার সংস্কৃত কলেজের সাহিত্যের অধ্যাপক ছিলেন। রামায়ণ ও মহাভারতের প্রথম বিশুদ্ধ সংস্করণ সম্পাদনা এবং বাংলা ভাষার শব্দভাণ্ডার সমৃদ্ধকরণে তাঁর ভূমিকা ছিল ঐতিহাসিক।
৩. খান সাহেব ফজলুর রহমান চৌধুরী (১৮৮৬-১৯৫২): মহেশপুর উপজেলার সুন্দরপুর গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত প্রখ্যাত জমিদার বংশের পুরোধা ব্যক্তিত্ব। সমাজ সংস্কার ও শিক্ষা বিস্তারে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ ১৯৩২ সালে তৎকালীন ব্রিটিশ সরকার তাঁকে ‘খান সাহেব’ উপাধিতে ভূষিত করে। ১৯৪০-এর দশকে অবিভক্ত বাংলায় পাট শিল্প ও চাষের বৈপ্লবিক উন্নয়নে তিনি বিশেষ ভূমিকা রাখেন। সুন্দরপুরে আজও তাঁর ঐতিহাসিক রাজকীয় বসতভিটা ও কীর্তি বিদ্যমান।
৪. হেমেন্দ্রনাথ দত্ত (দত্তনগর খামারের প্রতিষ্ঠাতা) কলকাতার বিশিষ্ট ঠিকাদার ও ব্যবসায়ী হেমেন্দ্রনাথ দত্ত ১৯৪০-এর দশকে মহেশপুরের স্বরুপপুর ইউনিয়নের নিজ গ্রাম দত্তনগরে ২ হাজার ৭৩৭ একর জমি জুড়ে এই বিশাল খামার প্রতিষ্ঠা করেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর জন্য তাজা সবজি সরবরাহের জন্য তিনি এটি তৈরি করে ছিলেন। উৎপাদিত সবজি দ্রুত সরবরাহের সুবিধার্থে তিনি এই খামার চত্বরেই একটি ‘হেলিপ্যাড’ স্থাপন করে ছিলেন এবং তৎকালীন সময়ে হেলিকপ্টারে করে সবজি কলকাতায় পাঠাতেন। ১৯৪৭ সালে দেশ ভাগের পর তিনি স্থায়ী ভাবে কলকাতায় চলে যান।
দত্তনগর খামার: মহেশপুরের অহংকার এই মহেশপুরের বুকেই গড়ে উঠেছে এশিয়ার অন্যতম বৃহত্তম কৃষি খামার ‘দত্তনগর ফার্ম’। প্রায় ৩ হাজার একর বিশাল জমি নিয়ে তৈরি এই খামারটি মহেশপুর তথা গোটা বাংলাদেশের কৃষির এক বড় গর্বের প্রতীক। প্রতিষ্ঠাতা হেমেন্দ্রনাথ দত্তের দেশান্তরের পর ১৯৪৮ সালে পাকিস্তান সরকার এবং পরবর্তীতে ১৯৬২ সালে বিএডিসি (BADC) এই খামারের সার্বিক পরিচালনার দায়িত্ব নেয়।
ইতিহাসের নীরব সাক্ষী স্থানীয় প্রবীণদের মতে, মহেশপুরের প্রতিটি গ্রামের নামের পেছনে রয়েছে আলাদা ইতিহাস, ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্য ও লোকজ স্মৃতি। গবেষকদের ধারণা, এসব নাম শুধু একটি জনপদের পরিচয় বহন করে না, বরং শত শত বছরের সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও প্রাকৃতিক পরিবর্তনের নীরব সাক্ষী হিসেবেও টিকে আছে গ্রাম বাংলার মানচিত্রে। জে/এ

মাকসুদুল হক, ঝিনাইদহ।

Share this news as a Photo Card

Share it :

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপোতাক্ষ নয় ভৈরব-বেতনার মহেশপুর: নদী ও জনপদের ইতিহাস

২৭ মে ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
dailybadwipbangladesh
www.badwipnews.com
Scroll to Top