
বিধান চন্দ্র সান্যাল-
ভারত ও বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে আদর্শগত ও কৌশলগত নানা মতভেদ ও ভিন্নতা থাকলেও, দুই দেশের সাধারণ মানুষ বরাবরই পারস্পরিক মৈত্রী, সৌহার্দ্য ও গভীর বন্ধুত্বের বন্ধনে আবদ্ধ থাকতে চায়। ইতিহাস, সংস্কৃতি ও ভাষার অভিন্ন উত্তরাধিকার এই দুই প্রতিবেশী দেশের নাগরিককে এক অদৃশ্য সুতোয় বেঁধে রেখেছে। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে ভারতের অবদান এবং দুই দেশের রক্তের সম্পর্ক সাধারণ মানুষের মনে চিরস্থায়ী শ্রদ্ধাবোধ তৈরি করেছে। রাজনৈতিক বা সীমান্ত জটিলতা ছাপিয়ে এই আত্মিক সম্পর্ক সব সময় অটুট থাকে।
দুই দেশের সঙ্গীত, চলচ্চিত্র, সাহিত্য ও উৎসবের আদান-প্রদান প্রমাণ করে যে, সাধারণ মানুষের আবেগ ও সংস্কৃতির সীমানা একই। চিকিৎসা, শিক্ষা ও বাণিজ্যের প্রয়োজনে দুই দেশের সাধারণ মানুষের নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে, যা তাদের পারস্পরিক নির্ভরতা ও শ্রদ্ধাকে বাড়িয়ে তোলে। উভয় দেশের নাগরিক ও সুশীল সমাজের উচিত কিছু ইতিবাচক পদক্ষেপ গ্রহণ করা: সাংস্কৃতিক বিনিময় ও পর্যটন সহজতর করার মাধ্যমে দুই দেশের মানুষের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি দূর করা সম্ভব। সংবাদ মাধ্যমগুলোকে উস্কানিমূলক খবরের পরিবর্তে দুই দেশের ইতিবাচক দিক ও সাফল্যের গল্প তুলে ধরতে হবে। যুব সমাজকে বিভিন্ন যৌথ সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী কার্যক্রমে যুক্ত করে বন্ধুত্বের ধারাকে এগিয়ে নেওয়া যায়।
রাজনৈতিক মতাদর্শ ও শাসন ব্যবস্থা সময়ের সাথে পরিবর্তিত হতে পারে, কিন্তু দুই প্রতিবেশী দেশের সাধারণ মানুষের হৃদয়ের টান ও মৈত্রী চিরন্তন। এই অকৃত্রিম সম্পর্কই দুই অঞ্চলের শান্তি ও সমৃদ্ধির মূল চাবিকাঠি। জে/এ
