মঙ্গলবার ২৮শে জুলাই, ২০২৬ ১৩ই শ্রাবণ, ১৪৩৩

উপকূলের রক্ষাকবচ: ম্যানগ্রোভ অরণ্য সংরক্ষণ ও আমাদের ভবিষ্যৎ

[print_bangla]

বিধান চন্দ্র সান্যাল-

প্রতি বছর ২৬ জুলাই পালিত হয় I ম্যানগ্রোভ বাস্তুতন্ত্র সংরক্ষণ বিষয়ক আন্তর্জাতিক দিবস-যা স্থল ও জলভাগের সংযোগস্থলে অবস্থিত এই অনন্য ও সংবেদনশীল বাস্তুতন্ত্র রক্ষা এবং এর টেকসই ব্যবস্থাপনার বার্তা দেয়। জলবায়ু পরিবর্তনের এই যুগে উপকূলীয় অঞ্চলের প্রাকৃতিক ঢাল ও জীববৈচিত্র্যের আধার হিসেবে ম্যানগ্রোভ অরণ্যের গুরুত্ব অপরিসীম। ইউনেস্কো’র সাধারণ সম্মেলনে ২০১৫ সালে এই দিবসটি আনুষ্ঠানিক ভাবে গৃহীত হয়।ম্যানগ্রোভ বনের দ্রুত ধ্বংস রোধ এবং বিশ্বব্যাপী জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা এর মূল উদ্দেশ্য।স্থলভাগ ও সমুদ্রের মধ্যবর্তী সংযোগস্থলে জন্ম নেওয়া এই গাছগুলো লবণাক্ত পরিবেশেও বেঁচে থাকতে পারে।
বিভিন্ন ধরনের মাছ, কাঁকড়া, ও জলজ প্রাণীর নিরাপদ প্রজনন ক্ষেত্র।রয়েল বেঙ্গল টাইগার, কুমির, এবং হরেক রকমের পাখির অভয়ারণ্য।উপকূলীয় অঞ্চলের খাদ্য নিরাপত্তা ও মৎস্যজীবীদের জীবিকা সচল রাখে।
সামুদ্রিক জলোচ্ছ্বাস, ঘূর্ণিঝড় ও সুনামির গতিবেগ কমিয়ে দেয়।উপকূলীয় ক্ষয়রোধী প্রাচীর হিসেবে কাজ করে মাটি কামড়ে ধরে রাখে।জোয়ার-ভাটার অতিরিক্ত পানির প্লাবন থেকে জনপদকে রক্ষা করে। সাধারণ বনের তুলনায় বহু গুণ বেশি পরিমাণ কার্বন মাটিতে ধরে রাখতে পারে।বিশ্ব উষ্ণায়ন ও গ্রিনহাউস গ্যাসের প্রভাব প্রশমনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে।সমুদ্রের বাস্তুতন্ত্রের স্বাস্থ্য বজায় রাখতে সাহায্য করে।
অপরিকল্পিত চিংড়ি চাষ, নগরায়ন ও শিল্প স্থাপনের ফলে ধ্বংস হচ্ছে জঙ্গল।বিশ্বব্যাপী সাধারণ বনের তুলনায় তিন থেকে পাঁচ গুণ দ্রুত হারিয়ে যাচ্ছে ম্যানগ্রোভ। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি পাওয়া অন্যতম বড় হুমকি। স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে বনায়ন কর্মসূচি গ্রহণ।কঠোর আইন প্রয়োগ করে অবৈধ বৃক্ষনিধন ও দখল বন্ধ করা।আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও গবেষণার মাধ্যমে বিজ্ঞান ভিত্তিক সংরক্ষণ নীতি প্রণয়ন। জে/এ

Share this news as a Photo Card

Share it :

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

উপকূলের রক্ষাকবচ: ম্যানগ্রোভ অরণ্য সংরক্ষণ ও আমাদের ভবিষ্যৎ

২৬ জুলাই ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
dailybadwipbangladesh
www.badwipnews.com
Scroll to Top