
মাকসুদুল হক, ঝিনাইদহ জেলা প্রতিনিধি:
ঝিনাইদহের মহেশপুরে গোয়ালঘরের পানি নিষ্কাশনকে কেন্দ্র করে মারধরের ঘটনায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় আব্দুল জব্বার (৬০) নামের এক বৃদ্ধ নিহত হওয়ার চাঞ্চল্যকর মামলার এজাহারনামীয় ১নং প্রধান আসামিসহ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তথ্যপ্রযুক্তির সুনির্দিষ্ট সহায়তায় যশোর জেলার চৌগাছা ও কেশবপুর থানাধীন এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাদেরকে সফলভাবে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃত আসামিরা হলেন-মামলার ১নং প্রধান আসামি মোঃ পলাশ (৩৭), মোঃ বিদ্যুৎ (২৭) ও মোঃ জেহের আলী (৫৬)। আজ সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) মহেশপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ আজাদ রহমান গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। পুলিশ ও মামলা সূত্রে জানা যায়, গত ১৮ সেপ্টেম্বর মহেশপুর থানাধীন ১১ নং মান্দারবাড়ীয়া ইউপির হুদা শ্রীরামপুর গ্রামে গোয়ালঘরে গরু গোসল করানোর সময় সামান্য পানি পার্শ্ববর্তী স্কুলের জায়গায় যাওয়াকে কেন্দ্র করে আসামিরা গালিগালাজ ও মারধর শুরু করে। এ সময় ভিকটিম আব্দুল জব্বার বাধা দিতে গেলে আসামিরা তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে বুক ও মাথায় কিল-ঘুষি এবং লাথি মেরে মারাত্মক রক্তজমাট জখম করে। পরবর্তীতে তাকে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় মহেশপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই দিনই সন্ধ্যা অনুমান ০৬:০৫ ঘটিকায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
উক্ত ঘটনায় নিহতের স্ত্রী মোছাঃ জাহানারা খাতুন বাদী হয়ে মহেশপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন (মামলা নং-৩১, তারিখ-১৯/০৯/২০২৬ খ্রিঃ)। মামলা রুজুর পরপরই মহেশপুর থানা পুলিশের একটি বিশেষ আভিযানিক দল তদন্ত কর্মকর্তা এসআই (নিঃ) সৈকত মল্লিক-এর নেতৃত্বে আসামিদের গ্রেফতারে জোর তৎপরতা শুরু করে। পরবর্তীতে মোবাইল সিডিআর ট্র্যাকিং ও আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় যশোর জেলার চৌগাছা এলাকায় অভিযান চালিয়ে এজাহারনামীয় আসামি মোঃ বিদ্যুৎ ও মোঃ জেহের আলীকে গ্রেফতার করা হয়। পরবর্তীতে ধৃত আসামিদের দেওয়া তথ্য ও প্রযুক্তির ব্যবহারে যশোর জেলার কেশবপুর এলাকা হতে মামলার ১নং প্রধান আসামি মোঃ পলাশকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় পুলিশ।
মহেশপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ আজাদ রহমান জানান, গ্রেফতারকৃত আসামিদের যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া শেষে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। তিনি আরও বলেন, অপরাধী যত কৌশলেই আত্মগোপনে থাকুক না কেন, আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দেওয়া সম্ভব নয়। মহেশপুর থানা এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং যেকোনো ধরনের অপরাধ দমনে পুলিশের কঠোর অভিযান অব্যাহত থাকবে। জে/এ
